চতুরতায় অপহরণকারীর হাত থেকে রক্ষা পেল নাঈম

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নওগাঁ
প্রকাশিত: ০৯:০৫ এএম, ০৫ আগস্ট ২০১৮

নওগাঁ সরকারি কেডি উচ্চ বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী নাঈম আহমেদ। নিজ চতুরতায় অপহরণকারীর হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে সে। ঘটনাস্থল থেকে শনিবার দুপুর ২টার দিকে তার বাবা উদ্ধার করে তাকে বাড়ি নিয়ে আসেন।

ঘটনার পর নাঈমের বাবা নওগাঁ শহরের চকএনায়েত মহল্লার অটোরিকশা চালক পঁচাসহ (৩৫) অজ্ঞাত আরো চার জনের নামে থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।

নাঈম আহমেদ নওগাঁ শহরের চকমুক্তার মহল্লার বউবাজার এলাকার নাজমুল হুদার ছেলে।

নাঈমের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সকাল ৯টার দিকে স্কুলে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বেরিয়ে শহরের দয়ালের মোড়ে ইজিবাইকের জন্য অপেক্ষা করছিল নাঈম। এ সময় একটি ইজিবাইক খালি পেয়ে সেখানে উঠে পড়ে সে। পথিমেধ্যে শহরের রুবীর মোড়ে আরও ৩-৪ জন যাত্রী ওঠে।

এরপর যাত্রী বেশে অপহরণকারীরা রুমাল দিয়ে নাঈমের নাক চেপে ধরলে সে অজ্ঞান হয়ে যায়। নাঈমের জ্ঞান ফেরার পর দেখে সে বগুড়া জেলার সান্তাহার রেল স্টেশনে। তবে ইজিবাইকে যারা ছিল তারা আর কেউ নেই।

সান্তাহারে নাঈমকে একা দেখে প্রতিবেশী আশিক তাকে কোথায় যাবে জানতে চান। উত্তরে নাঈম খালার বাড়িতে বেড়াতে যাওয়ার কথা বললে আশিক চলে যান। এ কথাটি অপহরণকারীদের শিখিয়ে দেয়া ছিল। এরপর নাঈমের তৃষ্ণা পেলে পানি খেতে চায়। এ সময় অপহরকারীর এক সদস্য পানি নিতে যায়। আরো দুই সদস্য মোবাইলে কথা বলায় ব্যস্ত ছিল। এ সুযোগে নাঈম তাদের কাছ থেকে পালিয়ে এসে ফলের দোকানীকে তার বাবার কাছে ফোন দিতে বলে এবং দোকানীকে বলে ওই লোকগুলো তাকে ধরে নিয়ে যাচ্ছে। এসময় অপহরণকারীরা সটকে পড়ে।

ফলের দোকানী তাৎক্ষণিক নাঈমের বাবাকে ফোন করে জানিয়ে দেন। এরপর দুপুর ২টার দিকে নাঈমের বাবা নাজমুল হুদা ঘটনাস্থল থেকে ছেলেকে উদ্ধার করে বাড়ি নিয়ে আসেন।

নওগাঁ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হাই বলেন, ঘটনার পর সন্ধ্যা ৬টার দিকে ছেলের বাবা ইজিবাইক চালক পঁচার নামসহ অজ্ঞাত আরো চার জনের নামে থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আব্বাস আলী/এফএ/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।