কোরবানির ঈদের মসলায় ব্যাপক কারসাজি

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক বগুড়া
প্রকাশিত: ০৭:১২ পিএম, ০৯ আগস্ট ২০১৮

কোরবানির ঈদ সামনে রেখে বগুড়ায় মসলার বাজারে ব্যাপক কারচুপি শুরু হয়েছে। মুনাফা বেশি পেতে পানি দিয়ে ভেজানো হচ্ছে মসলা। ওজন বৃদ্ধি করতেই এ কারসাজি। ভেজাল কাজু বাদারের মধ্যে থেকে বের হচ্ছে পোকা। কালো এলাচে রঙ মিশিয়ে ভেজাল দেয়ার অভিযোগ রয়েছে অবৈধ এসব কারবারির বিরুদ্ধে।

বৃহস্পতিবার বগুড়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালত চালিয়ে জগদীস প্রসাদ নামের এক মসলা ব্যবসায়ীকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। অনাদায়ে তিন মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেয়া হয়।

পাশাপাশি শহরের চেলেপাড়া এলাকায় সারিয়াকান্দি সড়কের পরিত্যক্ত ময়দা কারখানার এক মিলে অভিযান চলানো হয়। এখানেই মসলার গোডাউন করেছেন জগদীস। আসন্ন ঈদে এ ভেজাল মসলাগুলো বাজারে ছাড়া হতো।

জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এ ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুল ইসলাম। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন পৌরসভার স্বাস্থ্য পরিদর্শক শাহ আলী।

শহরের ফতেহ আলী বাজারে ‘মেসার্স ঋণী স্টোর’ নামে জগদীসের একটি মসলার দোকার রয়েছে। এখান থেকে তিনি জেলা ও জেলার বাইরে পাইকারি মসলা বিক্রি করেন। শহরের অনেক দোকানি তার কাছে থেকে মসলা পাইকারি কিনেন।

BOGURA

জগদীসের মসলা গোডাউনে গিয়ে দেখা যায়, একটি পরিত্যক্ত ময়দার কারখানার মেঝেতে ছড়ানো রয়েছে বড় কালো এলাচ মসলা। কয়েকটি স্তূপ আকারে এগুলো রয়েছে। এর মধ্যে একটি শুকনা স্তূপ রয়েছে। এগুলোতে পানি দিয়ে ভেজানো হচ্ছে। ওজন বৃদ্ধি করতেই এ কারসাজি। মেঝেতে রাখা কাজু বাদারের মধ্যে থেকে পোকা বের হচ্ছে। প্রায় ২০ বছর আগে এ গোডাউনে ময়দার কারখানা ছিল। পরে এটি পরিত্যক্ত হয়। এরপর থেকে এ ভবনে মসলার গোডাউন করেন জগদীস।

ভ্রাম্যমাণ আদালত এসব বিষয়ে জানতে চাইলে জগদীস বলেন, তিনি এখান থেকে বিভিন্ন ব্যবসায়ীর কাছে মসলা বিক্রি করেন। বৃষ্টির পানিতে কারখানার মসলাগুলো ভিজে গেছে। পুরাতন জিরার বস্তাগুলো ফেলে দেয়ার জন্য রেখেছেন।

ভ্রাম্যমাণ আদালত মসলায় পানি মেশানোর অভিযোগে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা এবং নষ্ট কাজু বাদাম রাখার অভিযোগে আরও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। পরে ওই গোডাউন সিলগালা করে দেয়া হয়।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুল ইসলাম বলেন, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে এই গোডাউনের মালিকের বিরুদ্ধে জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার পাশাপাশি গোডাউন সিলগালা করে দেয়া হয়েছে। তাদের কাছে তথ্য রয়েছে যে এই অবৈধ ব্যবসা দীর্ঘদিন থেকে চালানো হচ্ছিল।

লিমন বাসার/এএম/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।