প্রতিপক্ষ কুপিয়ে মারলো যুবলীগ নেতাকে

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি কক্সবাজার
প্রকাশিত: ১২:৪৫ এএম, ১৬ আগস্ট ২০১৮

কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ীতে পূর্বশত্রুতার জের ধরে প্রতিপক্ষের হাতে খুন হয়েছেন ইউনিয়ন যুবলীগের সাবেক সহ-সভাপতি জিয়াবুল হক (৪০)। বুধবার (১৫ আগস্ট) বিকেল ৫টার দিকে মাতারবাড়ীর বাংলাবাজার এলাকায় প্রতিপক্ষের লোকজন প্রকাশ্যে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে শরীর থেকে তার হাত-পা প্রায় বিচ্ছিন্ন করে গুরুতর জখম করে। গুরুতর অবস্থায় তাকে চট্টগ্রামে মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত সাড়ে ৯টায় তিনি মারা যান।

নিহত জিয়াবুল হক উপজেলার মাতারবাড়ীর মগডেইল গ্রামের ফরিদুল আলমের ছেলে ও ইউপি সদস্য সরোয়ার কামালের ভাই।

এলাকাবাসী জানায়, যুবলীগ নেতা জিয়াবুলের সঙ্গে একই এলাকার সামসুল অালমের জায়গা-জমি সংক্রান্তে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে অাসছিল। বুধবার জিয়াবুল হক ব্যবসায়িক প্রয়োজনে মাতারবাড়ী বাংলাবাজারে গেলে প্রতিপক্ষের লোকজন ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে তার ডান হাত ও দুই পা শরীর থেকে প্রায় বিচ্ছিন্ন করে ফেলে।

জিয়াবুলের ছোট ভাই ইউপি সদস্য সরওয়ার কামাল জানান, দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় একটি সন্ত্রাসী বাহিনী জিয়াবুল হকের কাছে চাঁদা দাবি করে আসছিল। এ ব্যাপারে তাদের বিরুদ্ধে কয়েকটি মামলাও হয়েছে। বিষয়টি মহেশখালী থানা ও মাতারবাড়ীর পুলিশ ফাঁড়িকে কয়েক দফা অবহিত করা হয়। এরই ধারবাহিকতায় বুধবার জিয়াবুলকে বাজারে পেয়ে ইউপি চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে সামসুল আলম, কাইচার হোসেনরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ডান হাত ও দুই পায়ে কুপিয়ে শরীর থেকে প্রায় বিচ্ছিন্ন করে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে মাতারবাড়ীর ইউপি চেয়ারম্যান মাস্টার মাহমুদুল্লাহ বলেন, জিয়াবুলের ওপর হামলার সঙ্গে আমার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। আমি সারাদিন শোক দিবসের আলোচনায় অংশ নিতে উপজেলা সদরে ছিলাম। তার ভাই সরওয়ারের সঙ্গে পরিষদসংক্রান্ত বিরোধ থাকার জেরে এ ঘটনায় আমাকে অভিযুক্ত করা হচ্ছে।

মৃত্যুর বিষয়টি মহেশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ প্রদীপ কুমার দাশও নিশ্চিত করে বলেন, আশঙ্কাজনক অবস্থায় জিয়াবুলকে চট্টগ্রামে প্রেরণ করা হয়েছিল। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা গেছেন। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আটক করতে মাতারবাড়ীতে অভিযান চলছে।

সায়ীদ আলমগীর/বিএ

আপনার মতামত লিখুন :