কর্তৃপক্ষের নাকের ডগায় ভাঙা ব্রিজ, ৩ বছরেও হয়নি সংস্কার

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি বাগেরহাট
প্রকাশিত: ০৯:৪৩ পিএম, ০১ সেপ্টেম্বর ২০১৮

বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলা পরিষদের সামনের খালে গত ৩ বছর ধরে রয়েছে বাঁশের তৈরি ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকো। স্থানীয়ভাবে সরকারের উন্নয়ন দেখভাল করার দায়িত্ব উপজেলা পরিষদের হলেও ওই অফিসের সামনের খালের লোহার ব্রিজটি ৩ বছর আগে ভেঙে পড়লেও এখনো পুনর্নির্মাণ করেনি কর্তৃপক্ষ।

ফলে বাধ্য হয়ে এলাকাবাসী ও ছাত্র-ছাত্রীরা ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকো পার না হয়ে এখন এক কিলোমিটার পথ ঘুরে উপজেলা সদরে আসছেন।

এলাকাবাসী জানায়, শরণখোলা উপজেলা পরিষদের নাকের ডগায় রায়েন্দা ও খোন্তাকাটা ইউনিয়নের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত খালের ওপর নির্মিত লোহার ব্রিজটি ২০১৫ সালের আগস্ট মাসে ভেঙে পড়ে।

কেউ হতাহত না হলেও এ ঘটনায় এলাকার মানুষ বিপাকে পড়ে। খালটির উত্তর দিকে উপজেলা পরিষদ, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং দক্ষিণ দিকে উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিস, একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি মহিলা দাখিল মাদরাসা ও একটি এতিমখানা রয়েছে।

এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, রায়েন্দা ইউনিয়নের খাদা, মালিয়া, দক্ষিণ রাজাপুর, উত্তর রাজাপুর, রসুলপুর, ভোলারপাড়, সোনাতলা, উত্তর তাফালবাড়িসহ বিভিন্ন এলাকার মানুষদের উপজেলা পরিষদে দাফতরিক কাজে আসতে হয়। এছাড়া প্রাণিসম্পদ দফতরটি ভাঙা ব্রিজের দক্ষিণ পাশে হওয়ায় গবাদি পশু চিকিৎসার জন্য আনা-নেয়া করতে পারছে না স্থানীয়রা।

খোন্তাকাটা ইউপির সদস্য আহমদুল্লাহ সানি বলেন, ব্রিজটি ভেঙে পড়ায় ৩ বছর ধরে ছাত্র-ছাত্রীসহ এলাকাবাসী চরম দুর্ভোগের মধ্যে আছে। বাধ্য হয়ে এলাকাবাসী ও ছাত্র-ছাত্রীরা ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকো পার না হয়ে এখন এক কিলোমিটার পথ ঘুরে উপজেলা সদরে আসছেন।

দীর্ঘ তিন বছরেও ব্রিজটি নির্মাণ না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে খোন্তাকাটা ইউপির চেয়ারম্যান জাকির হোসেন খান মহিউদ্দিন বলেন, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কোমলমতি শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষ বাঁশের সাঁকো দিয়ে চলাচল করছে। এখানে দ্রুত ব্রিজ নির্মাণ না হলে যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

এ বিষয়ে শরণখোলা উপজেলার প্রকৌশলী চন্দন চক্রবর্তী বলেন, ৮০ মিটার দীর্ঘ ব্রিজটি আরসিসি ব্রিজ হিসেবে পুনর্নির্মাণে ডিপিপিভুক্ত করার প্রস্তাব এলজিইডি’র প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু সেটি এখনো ডিপিপিভুক্ত না হওয়ায় ব্রিজটি নির্মাণ করা যাচ্ছে না।

শরণখোলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিংকন বিশ্বাস বলেন, জনগুরুত্বপূর্ণ এই ব্রিজটি নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।

শওকত আলী বাবু/এএম/জেআইএম