বালুতে রং মিশিয়ে দানাদার কীটনাশক তৈরি

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নওগাঁ
প্রকাশিত: ০৯:২৪ পিএম, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮

নওগাঁর মান্দা উপজেলার বৈদ্যপুর বাজারে নকল সার ও কীটনাশক তৈরির একটি কারখানার সন্ধান পেয়েছে পুলিশ। শনিবার কারখানাটিতে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ সরঞ্জামসহ আরিফ হোসেন (৪৮) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে।

আরিফ হোসেন খুলনার খান জাহান আলী থানার শিরোমনি উত্তরপাড়া এলাকার মৃত শওকত হোসেনের ছেলে।

স্থানীয়রা জানান, গত এক বছর পূর্বে খুলনার আরিফ হোসেন, যশোরের মুকুল হোসেন, মধু চন্দ্র ও এমদাদুল হক এবং নীলফামারীর রফিকুল ইসলামকে বৈদ্যপুর বাজারের গোড়রা এলাকার আনিছুর রহমান আন্টু ও আজিজুল ইসলামের বাড়ি ভাড়া দেয়া হয়। সেখানে বিভিন্ন নামি-দামি কোম্পানির মোড়কে বাজারজাতকৃত নকল সার ও কীটনাশক তৈরি কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল তা এলাকাবাসীর অজানা ছিল। কারখানাটির সামনে প্রতিনিয়ত ট্রাক ভর্তি করে বালু ও মাটি নিয়ে আসা হত। এগুলো দিয়ে কারখানার ভেতরে কী কাজ করা হত সেটি তারা জানতেন না। কারখানাটি বাজার থেকে একটু দুরে নির্জন এলাকায় হওয়ায় সেখানে কী তৈরি হচ্ছে এ বিষয়ে তারা কেউ অবগত ছিলেন না।

সরেজমিনে দেখা গেছে, তিনটি ভবনের একটিতে জিংক সার তৈরির উপকরণ, মিক্সার মেশিন, স্তূপকৃত মাটিসহ অসংখ্য মাটি ভর্তি বস্তা ও মোটা দানার বালুর (ডোমার বালু) স্তুপ পাওয়া যায়। এ ভবনের অন্য একটি কক্ষে বালুতে রং মিশিয়ে তৈরি করা হচ্ছে দানাদার কীটনাশক। অপর ভবনে মিক্সার মেশিন, বালু ভর্তি বস্তা, ডায়াজিনন, বাসুডিন, ফুরাডান, ব্রিফার ৫জি, জেডফুরান থিয়োভিট পাউডার, গ্রিন জিংকসহ বিভিন্ন নামি-দামি কোম্পানির মোড়কে নকল কীটনাশক পাওয়া গেছে। অন্য ভবনটিতে মোড়ক সেলাই করার মেশিনসহ পাওয়া গেছে অন্যান্য সরঞ্জাম।

স্থানীয় ইউপি সদস্য ইসলাম, গোলাম মোস্তফাসহ আরও অনেকে জানান, কারখানার মালিকরা আন্টু ও আজিজুলের তিনটি বাড়ি মাসিক ২ লাখ ২৫ হাজার টাকায় ভাড়া নিয়ে কার্যক্রম শুরু করেন। মাসিক বেতনে ৩৫ জন কর্মচারী সেখানে নিয়মিত কাজে নিযুক্ত ছিলেন। এলাকার কতিপয় ব্যক্তির ছত্রছায়ায় কারখানটিতে নকল সার ও কীটনাশক উৎপাদনসহ বাজারজাত করে আসছিলেন অভিযুক্তরা।

Naogaon-Arrest

মান্দা থানা পুলিশের ওসি (তদন্ত) মাহবুব আলম বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওই কারখানাটির সন্ধান পাওয়া যায়। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে শনিবার কারখানাটিতে অভিযান চালানো হয়। এ সময় বিপুল পরিমাণ উপকরণ ও সরঞ্জামসহ কারখানারটির মূলহোতা আরিফ হোসেনকে পাশের একটি বাড়ি থেকে আটক করা হয়। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মনোজিত কুমার মল্লিক ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে বলেন, এখানে উৎপাদিত সার ও কীটনাশক নকল বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। যা কৃষকের সঙ্গে চরম প্রতারণা। জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শান্তি হওয়া দরকার।

এদিকে শনিবার দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন নওগাঁর পুলিশ সুপার ইকবাল হোসেন ও মান্দা সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার হাফিজুল ইসলাম।

নওগাঁর পুলিশ সুপার ইকবাল হোসেন বলেন, কারখানাটির সন্ধান পাওয়া পুলিশের একটি বড় ধরনের সাফল্য। এর সঙ্গে জড়িত সকলকেই আইনের আওতায় আনা হবে। জড়িতদের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলার প্রস্তুতি চলছে।

আব্বাস আলী/আরএআর/জেআইএম

আপনার মতামত লিখুন :