আর্থিক সহযোগিতা পেয়েছে বাবলী, কিন্তু কোথায় চিকিৎসা নেবে সে?

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি মৌলভীবাজার
প্রকাশিত: ০৬:৪০ পিএম, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮

জাগো নিউজে সংবাদ প্রকাশের পর বাবলীর দায়িত্ব নিতে এগিয়ে এসেছেন অনেকেই। অনেকেই দেশ-বিদেশ থেকে বাবলীর মা খাতুন বেগমকে ফোন দিয়ে খবর নিয়েছেন, পাশে থাকার ইচ্ছে পোষণ করেছেন। কেউ কেউ ফোন দিয়েছেন জাগো নিউজের এই প্রতিবেদককেও। কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেনও খবর নিয়েছেন কমলগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের মাধ্যমে। তাদের একজন ইউকে প্রবাসী গরিব অ্যান্ড এতিম ট্রাস্টের চেয়ারম্যান মাওলানা ছালেহ হামিদী ইউকে থেকে মুঠোফোনে জাগো নিউজের এ প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা বলে সাহায্য করার ইচ্ছে পোষণ করেন।

তার ইচ্ছে অনুযায়ী রোববার গরিব অ্যান্ড এতিম ট্রাস্টের প্রতিনিধি তুহিন চৌধুরী ও মাওলানা শাফি উদ্দিন বাবলীর বাড়িতে গিয়ে তার মায়ের সঙ্গে দেখা করে বাবলীর চিকিৎসার দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। আপাতত চিকিৎসার জন্য ২ লাখ টাকা দেবেন এবং প্রয়োজনে আরও টাকা পরে দেবেন। তিনি তার ট্রাস্টের পক্ষ থেকে যে টাকা বাবলীর চিকিৎসার জন্য দিয়েছেন সেই টাকায় যেন চিকিৎসা হয় তার ব্যবস্থা করতে ট্রাস্টের পক্ষ থেকে তুহিন চৌধুরীকে চিকিৎসার ব্যবস্থা দায়িত্ব দিয়েছেন। মাওলানা ছালেহ হামীদির বাড়ি মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার কালাপুর ইউনিয়নের বরুনা গ্রামে। তিনি দীর্ঘদিন যাবৎ ইংল্যান্ডে বসবাস করছেন।

দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত সাত বছর বয়সী বাবলী। এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় নড়তেও পারে না সে। পায়খানা প্রস্রাবসহ প্রতিটা কাজে তাকে সহযোগিতা করে তার মা খাতুন বেগম।

বাবলী আক্তার মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নের ছতিয়া গ্রামের সরফ মিয়ার মেয়ে। পরিবারে অভাবের কারণে চিকিৎসা বন্ধ রয়েছে তার। এতে দিন দিন অবস্থার অবনতি হচ্ছে শিশুটির। লাওয়াছড়ার টুরিস্ট গাইড আব্দুল আহাদের মাধ্যমে খবর পেয়ে গত ১৩ সেপ্টেম্বর জাগো নিউজে ‘দিন দিন ফুলে যাচ্ছে বাবলীর পা’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। ৪ বছর যাবৎ বাবলী অসুস্থ থাকলেও প্রতিবেদন প্রকাশের পর থেকে অনেকেই তার সাহায্যার্থে এগিয়ে আসার ইচ্ছে পোষণ করেন।

Babli-(2)

বাবলীর মা খাতুন বেগম জাগো নিউজকে জানান, বাবলীর যখন আড়াই বছর বয়স তখন তার বড় ছেলে অসুস্থ হয়। তিনি ছেলেকে নিয়ে কিছু দিন হাসপাতালে ছিলেন। ছেলে সুস্থ হওয়ার পর বাড়িতে এসে দেখেন বাবলী একটু খুঁড়িয়ে হাঁটছে। প্রথম ২/৩ দিন বিষয়টি স্বাভাবিক মনে হলেও পরে দেখেন সে খুঁড়িয়েই হাঁটছে। তখন বাড়ির সবাইকে জিজ্ঞাসা করেন বাবলীর কী হয়ছে? সে কী কোনো আঘাত পেয়েছে? কিন্তু কেউ কিছুই জানে না। পরে বাবলীকে বাড়ির পার্শ্ববর্তী এক কবিরাজের কাছে নিয়ে যান তিনি। এ সময় কবিরাজ মালিশ করতে গেলে বাবলী চিৎকার করতে থাকে, কাঁদতে কাঁদতে অজ্ঞান হয়ে যায়। এভাবে দুদিন কবিরাজের কাছে নিয়ে যাওয়ার পর কবিরাজ জানিয়ে দেন, তিনি পারবেন না। বাবলীকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

খাতুন বেগম আরও জানান, এক প্রতিবেশীর কাছ থেকে সাহায্য নিয়ে মেয়েকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যান তিনি। ডাক্তার চিকিৎসা দিয়ে তাকে সিলেট নিয়ে যেতে বলেন। তিনি আবারও মানুষের কাছ থেকে সাহায্য নিয়ে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজে হাসপাতালে বাবলীকে ভর্তি করেন। সেখানে এক মাস চিকিৎসা করানোর পর দেখতে পান দিন দিন বাবলীর পা ফুলছে। হাসপাতালে তার সব ধরনের টেস্ট করানো হয়। টেস্টের রেজাল্ট পেয়ে অবশেষে ওসমানী হাসপাতালের ডাক্তাররা বাবলীকে ভারতে নিয়ে যেতে বলেন।

বাবলীর মা বলেন, যেখানে ভাত খাওয়ার টাকা নেই সেখানে ভারত যাব কীভাবে? তাই ভারত যাওয়া হয়নি। সেই থেকে এভাবেই বাড়িতে পড়ে আছে বাবলী। মাঝে মধ্যে কবিরাজি চিকিৎসা করাই। কিন্তু কবিরাজের টাকা যোগাড় করতে না পারায় সেটাও নিয়মিত হয়নি।

মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. ইকবাল হাসান জাগো নিউজকে জানান, এটি ফাইলেরিয়ার কম্লিকেশন এলিফেন্থিয়াসিস (গোদ রোগ) অথবা টিউমার জাতীয় গ্রোথ হতে পারে। মেয়েটিকে রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল অথবা পিজি হাসপাতালে পাঠানো যেতে পারে।

এ বিষয়ে কমলগঞ্জ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হক জানান, আমি বিভিন্ন মাধ্যমে চেষ্টা করছি তাকে সাহায্য করতে। আজ-কালের ভেতর তার বাড়িতে যাব।

রিপন দে/এমএএস/পিআর

আপনার মতামত লিখুন :