সামাজিক বনায়নের কোটি টাকার গাছ ১৫ লাখ টাকায় বিক্রি

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি গাইবান্ধা
প্রকাশিত: ০৮:৫০ পিএম, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮

টেন্ডার ছাড়াই এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার সাপমারা ইউনিয়নের চৌহুদপুর ও পজয়পুর গ্রামের সাড়ে চার কিলোমিটার রাস্তার দুই পাশের ইউক্যালিপটাস গাছসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কাটা হচ্ছে।

এসব গাছের আনুমানিক মূল্য প্রায় এক কোটি টাকা হলেও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান শাকিল আহম্মেদ বুলবুল ও সামাজিক বনায়ন সমিতির সভাপতি আব্দুল করিম যোগসাজশ করে কাঠ ব্যবসায়ী রানু মিয়ার কাছে মাত্র ১৫ লাখ টাকায় এসব গাছ বিক্রি করেছেন বলে জানা গেছে। এতে করে সামাজিক বনায়ন সমিতির উপকারভোগী, বন বিভাগ ও ইউনিয়ন পরিষদ ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ১০ বছর আগে সামাজিক বনায়ন সমিতির মাধ্যমে সাপমারা ইউনিয়নের চৌহুদপুর ও পজয়পুর গ্রামে রাস্তার দুই ধারে সহস্রাধিক ইউক্যালিপটাস গাছসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করা হয়। সেসব গাছ প্রায় দুই বছর আগে কোনো টেন্ডার ছাড়াই ১৫ লাখ টাকায় উপজেলার গুমানিগঞ্জ ইউনিয়নের কাইয়াগঞ্জ এলাকার কাঠ ব্যবসায়ী রানু মিয়ার কাছে বিক্রি করেন ইউপি চেয়ারম্যান শাকিল আহম্মেদ বুলবুল ও সামাজিক বনায়ন সমিতির সভাপতি আব্দুল করিম।

Gaibandha

পরে রানু মিয়া গাছ কাটা শুরু করলে শাকিল আহম্মেদ বুলবুল ও আব্দুল করিম গাছ কাটা বন্ধ করে দেন। তবে কোনো টেন্ডার ছাড়াই আবারও গত এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে কাঠ ব্যবসায়ী রানু মিয়া গাছগুলো কাটা শুরু করেন। এতে করে চলতি আমন মৌসুমের ধানের জমিতে গাছের ডালপালা ভেঙে পড়ে ধান গাছ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সামাজিক বনায়ন সমিতির এক সদস্য বলেন, টেন্ডার দিয়ে গাছগুলো কাটা হলে আমরা আরও বেশি টাকা পেতাম। কিন্তু তা না করে ইউপি চেয়ারম্যান ও কমিটির সভাপতি যোগসাজশ করে নিজেরা লাভবান হওয়ার জন্য গাছগুলো অল্প টাকায় বিক্রি করেছেন। এতে করে আমরা ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হয়েছি।

রানু মিয়া বলেন, প্রায় দুই বছর আগে ১৫ লাখ টাকা দিয়ে ৮০৩টি গাছ শাকিল আহম্মেদ বুলবুল ও আব্দুল করিম আমার কাছে আলোচনার মাধ্যমে বিক্রি করেন। এর আগেও আমি বেশ কিছু গাছ কেটেছি। এখন বাকি গাছগুলো কাটা হচ্ছে।

Gaibandha3

সামাজিক বনায়ন সমিতির সভাপতি আব্দুল করিম বলেন, গাছ রোপণকারী উপকারভোগী হিসেবে আমরা গাছগুলো ইউপি চেয়ারম্যান শাকিল আহম্মেদ বুলবুলের মাধ্যমে কাঠ ব্যবসায়ী রানু মিয়ার কাছে বিক্রি করেছি।

বৃহস্পতিবার দুপুরে ইউপি চেয়ারম্যান শাকিল আহম্মেদ বুলবুলের মুঠোফোনে বারবার ফোন করলেও তিনি রিসিভ করেননি।

এ বিষয়ে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রামকৃষ্ণ বর্মন জাগো নিউজকে বলেন, স্থানীয় ফরেস্টারকে বিষয়টি তদন্ত করার জন্য দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় গাছ কাটা না হলে মামলা করা হবে।

রওশন আলম পাপুল/আরএআর/জেআইএম

আপনার মতামত লিখুন :