চোরাই মোটরসাইকেল নিজের বলে যেভাবে বিক্রি করে তারা
নওগাঁয় আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে মোটরসাইকেল চোরদের দৌরাত্ম্য। হঠাৎ মোটরসাইকেল চুরি বৃদ্ধি পাওয়ায় আতঙ্কে রয়েছেন মোটরসাইকেল মালিকরা।
এর মধ্যে চুরি হওয়া ছয়টি মোটরসাইকেল উদ্ধার করেছে পুলিশ। তবে চোরাকারবারীর সঙ্গে সম্পৃক্ত মূল হোতারা রয়েছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। ফলে প্রতিদিন অভিনব কৌশলে চোরাই মোটরসাইকেল নিজের বলে বিক্রি করে দেয় চোরেরা।
জানা গেছে, গত কয়েক মাসে জেলাজুড়ে বিভিন্ন ধরনের প্রায় ৫০-৬০টি মোটরসাইকেল চুরি হয়েছে। এর মধ্যে রাস্তাঘাট থেকে, বাড়ির বারান্দা ও দোকানের সামনে থেকে কিছু মোটরসাইকেল চুরি হয়েছে।
আবার কোনোটি বাড়িতে সিঁধ কেটে। আবার কোনোটি বাড়ির মূল দরজার তালা কেটে, কোনোটি গ্রিল বা বেলকুনি কেটে চুরির হয়েছে। সংঘবদ্ধ চোরেরা মোটরসাইকেলের লক ভেঙে, কখনো বা ইঞ্জিন বক্সের তার ছিঁড়ে চুরি করে নিয়ে যায়।
গত ১৬ ডিসেম্বর নওগাঁ শহরের বাঙ্গাবাড়িয়া মহল্লার কায়কোবাদ নামে এক ব্যক্তির মোটরসাইকেল চুরি হয়। বিষয়টি জানতে পেরে স্থানীয় যুবক নয়ন ও নৈশপ্রহরী জাহাঙ্গীর আলম চোরদের বাধা দেয়। এ সময় তাদের ছুরিকাঘাতে নয়ন খুন হন এবং নৈশপ্রহরী আহত হন।
গত ২৪ সেপ্টেম্বর ও ২৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা, বগুড়া, জয়পুরহাট, গাইবান্ধা ও নওগাঁ থেকে ছয়টি বিভিন্ন ধরনের চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার ও চোর চক্রের নয় সদস্য এবং পাঁচ ডাকাতকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে মোটরসাইকেল চুরির অভিনব কৌশল ও চোরাই মোটরসাইকেল বিক্রির অনেক তথ্য পাওয়া যায়।
জানা যায়, মোটরসাইকেল চুরির পর ককেয়টি ধাপে হাত বদলের মাধ্যমে নিজের বলে মোটরসাইকেল বিক্রি করে তারা। প্রথমে চক্রটি যেকোনোভাবে মোটরসাইকেলটি চুরি করে দ্বিতীয়জনের কাছে পৌঁছায়। দ্বিতীয় ব্যক্তি তার এলাকা থেকে জেলার বাইরে নিয়ে তৃতীয় জনের কাছে পৌঁছে দেয়। এতে প্রথম ও দ্বিতীয় ব্যক্তি ১৫-২০ হাজার টাকা নেয়। তৃতীয় ব্যক্তি অল্প দামে মোটরসাইকেলটি নিজের বলে বিক্রি করে দেয়। তবে এক্ষেত্রে মোটরসাইকেলের চেসিস ও ইঞ্জিনের সিরিয়াল নম্বরের কিছু পরিবর্তন করা হয়। এরপর ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে মোটরসাইকেলটি নিজের বলে বিক্রি করা হয়।
গত ১৯ সেপ্টেম্বর পোরশা উপজেলার পাহাড়িয়াপুকুর গ্রাম থেকে বাড়ির সিঁধকেটে আনোয়ার হোসেন মিল্টন ও হেলাল মোল্লার বাজাজ ডিসকভার-১২৫ সিসির দুটি মোটরসাইকেল চুরি করে নিয়ে যায় চোরেরা।
গত ২৪ সেপ্টেম্বর রাতে শহরের বাঙ্গাবাড়ীয়া মহল্লার মধ্যপাড়া থেকে নওগাঁ সরকারি কলেজের হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আব্দুল মোত্তালেবের বাড়ি থেকে বাজাজ ডিসকভার-১২৫ সিসির মোটরসাইকেল চুরি হয়।
নওগাঁ শহরের আরজি-নওগাঁ মহল্লার সাইফুল ইসলাম বলেন, খাবার ঘরে মোটরসাইকেল রাখতাম। রাত ১২টার পর সবাই ঘুমিয়ে পড়ি। রাতে ঘরের দরজার তালা ভেঙে মোটরসাইকেলটি নিয়ে যায় চোরেরা। পুলিশকে বিষয়টি জানিয়েছি, তারা বলছে দেখছি।
নওগাঁর পুলিশ সুপার মো. ইকবাল হোসেন বলেন, মোটরসাইকেল চুরি বেড়েছে। আন্তজেলা মোটরসাইকেল চোর চক্রের কয়েকজন সদস্যকে গ্রেফতার করেছি আমরা। যারা গ্রেফতার হয়েছে তারা অনেক তথ্য দিয়েছে আমাদের। এই চক্রের মূল হোতার কাছাকাছি পৌঁছেছি আমরা। এই চক্রের যারা ধরাছোঁয়ার বাইরে তাদের শিগগিরই গ্রেফতার করা হবে।
আব্বাস আলী/এএম/পিআর