প্রেমিকাকে ফেলে চলে গেল প্রেমিক, ২ দিন হোটেলে রাখল বন্ধু

উপজেলা প্রতিনিধি উপজেলা প্রতিনিধি কুয়াকাটা (পটুয়াখালী)
প্রকাশিত: ০৭:৩৫ পিএম, ০৯ অক্টোবর ২০১৮

প্রেমের টানে দিনাজপুর থেকে কুয়াকাটায় এসে প্রেমিক শহিদুলের বন্ধুদের হাতে গণধর্ষণের শিকার হলেন এক তরুণী। বন্ধুর প্রেমিকাকে রাতভর হোটেলে রেখে ধর্ষণ শেষে তুলে দেয়া হলো তার আরেক বন্ধু ও সহযোগীদের হাতে।

নির্যাতিত তরুণী গার্মেন্ট কর্মী (৩০)। কুয়াকাটার দুটি আবাসিক হোটেলে দু’দিন এক রাত আটকে রেখে কয়েক দফায় তাকে ধর্ষণ করা হয়।

সোমবার বিকেলে ওই তরুণীকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। এ ঘটনার মূল হোতা প্রেমিক শহিদুল পালিয়ে গেলেও তার বন্ধু ও ধর্ষণে জড়িত পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

গ্রেফতাররা হলো- শহিদুলের বন্ধু আলমগীর হোসেন, তার বন্ধু খলিলুর রহমান, রুবেল চৌকিদার, যমুনা গেস্ট হাউসের ম্যানেজার সাইফুল ইসলাম এবং বেঙ্গল গেস্ট হাউসের ম্যানেজার সাইদুর রহমান সুমন।

মঙ্গলবার দুপুরে পটুয়াখালীর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মইনুল হাসান এ ঘটনায় মহিপুর থানায় এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব বিষয় নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, দিনাজপুরের বিরল থানার দৌলতপুর গ্রামের ওই তরুণী রোববার সকালে হামীম পরিবহনের একটি বাসযোগে ঢাকা থেকে কলাপাড়ায় আসেন।

jagonews

কলাপাড়া থেকে রাত সাড়ে ৮টার দিকে কুয়াকাটায় পৌঁছে প্রেমিক শহিদুলকে খুঁজে নেন তরুণী। পরে প্রেমিকাকে এক বন্ধুর বাসায় নিয়ে যায় শহিদুল। কিন্তু ওই বন্ধু তাদের বাড়িতে স্থান না দিয়ে তাড়িয়ে দেয়। পরে শহিদুল কৌশলে ওখান থেকে সটকে পড়ে। যাওয়ার আগে তার বন্ধু আলমগীরকে বলে যায় প্রেমিকাকে যেন বাসে তুলে বাড়ি পাঠিয়ে দেয়া হয়।

কিন্তু বন্ধুর প্রেমিকাকে বাসে তুলে না দিয়ে কৌশলে আবাসিক হোটেল যমুনা গেস্ট হাউসের ১০ নম্বর কক্ষে নিয়ে আটকে রাখে আলমগীর। সেখানে মধ্যরাতে আলমগীর ও হোটেল ম্যানেজার সাইফুল ইসলাম তরুণীকে মেরে ফেলার ভয় দেখিয়ে কয়েক দফায় ধর্ষণ করে। সেখানে রাতভর আটকে রাখা হয় তরুণীকে।

সোমবার সকাল ৭টার দিকে আলমগীর তার বন্ধু মোটরসাইকেল চালক খলিলুর রহমানের সহায়তায় তরুণীকে বেঙ্গল গেস্ট হাউসে নিয়ে যায়। ওই হোটেলের ১০ নম্বর কক্ষে আটকে রেখে তরুণীকে আবারও ধর্ষণ করা হয়। পরে খবর পেয়ে তরুণীকে উদ্ধার করে মহিপুর থানা পুলিশ।

সেই সঙ্গে ধর্ষণে জড়িত পাঁচজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তবে মূল হোতা প্রেমিক শহিদুল পলাতক। গ্রেফতার পাঁচজনের মধ্যে একজনের বাড়ি লতাচাপলী ইউনিয়নের আজিমপুর ও চারজনের বাড়ি মহিপুরের বিপিনপুর গ্রামে বলে জানান পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মইনুল হাসান।

এএম/আরআইপি

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]