শ্রেণিকক্ষ সংকটে পাঠদান ব্যাহত

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি সিরাজগঞ্জ
প্রকাশিত: ১২:২৫ পিএম, ১৮ অক্টোবর ২০১৮

সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলায় উপর সিলোট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টিতে শ্রেণিকক্ষ সংকটের কারণে শিক্ষার্থীদের পাঠদান চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। উত্তরাঞ্চলের সীমান্তবর্তী প্রত্যন্ত গ্রামীণ শিশুদের মাঝে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে ১৯৭৮ সালে উপর সিলোট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপিত হয়। ১৯৯৩-৯৪ সালে টিনের চাল আর মাটির ঘরের বিদ্যালয়টি ভেঙে চার কক্ষ বিশিষ্ট ভবন নির্মাণ করে দেয় ফ্যাসিলিটিজ বিভাগ। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে ২৫০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে।

স্থানীয়রা জানায়, বিদ্যালয়ের মূল ভবনের পূর্বপাশে উপর সিলোট-নামা সিলোট আঞ্চলিক সড়কের গা ঘেষে একটি শ্রেণিকক্ষ। ছোট্ট কক্ষটির তিন পাশে কোনো বেড়া নেই। সেখানেই শিশু শ্রেণির ছাত্রছাত্রীর পাঠদান চলে। স্থান স্বল্পতার কারণে গাদাগাদি করে বসে কোমলমতী শিশু শিক্ষার্থীরা। বইখাতা রাখার জায়গা নেই। প্রখর রোদ আর রাস্তার ধুলা-বালি তাদের শরীরে এসে পড়ে। বিদ্যালয়টির অফিস কক্ষের অবস্থা আরও শোচনীয়। একেবারে ছোট এ কক্ষটিতে চারজন শিক্ষককে সঙ্কুচিত হয়ে বসতে হচ্ছে।

শিক্ষার্থী ছাদিয়া জাহান ও অরুনা খাতুন জানায়, শ্রেণিকক্ষ সংকটে বছর ধরে তাদের প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যে পাঠদান হয়। রোদ, বৃষ্টি, ধুলা তাদের শরীরে লাগে। এভাবে তাদের পড়ালেখার বিঘ্ন ঘটেছে।

উপর সিলোট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আনিছুর রহমান জানান, প্রয়োজনের তুলনায় শ্রেণিকক্ষ অপ্রতুল। স্লিপ ফান্ডের টাকায় অতিরিক্ত কক্ষটি তৈরি করা হয়েছে। সেখানে গাদাগাদি করে শিশু শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বসতে হয়। অন্যদিকে সরু ও ছোট অফিস কক্ষে শিক্ষকদের বসা, চলাফেরা, শিক্ষা উপকরণ রাখা দায় হয়ে পড়ছে। ২০১৭ সালে উপজেলা শিক্ষা অধিদফতর বরাবর প্লান এস্টিমেট দেয়া হয়েছে। বিদ্যালয়টিতে অনুরুপ আরও একটি ভবন হলে ভালো হয়।

এ বিষয়ে তাড়াশ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, তাড়াশ উপর সিলোট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্লান এস্টিমেট সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবর পাঠানো হয়ছে। অনুমোদন পেলে শ্রেণিকক্ষ সংকট কেটে যাবে।

ইউসুফ দেওয়ান রাজু/আরএ/আরআইপি

আপনার মতামত লিখুন :