সেই চার হতভাগার মধ্যে তিনজনের বাড়ি পাবনা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নারায়ণগঞ্জ
প্রকাশিত: ০৩:৫১ পিএম, ২২ অক্টোবর ২০১৮

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার থেকে রোববার সকালে উদ্ধার হওয়া ক্ষতবিক্ষত চার মরদেহের পরিচয় মিলেছে। এদের মধ্যে তিনজনের বাড়ি পাবনায়, অপরজনের বাড়ি ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায়। নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে এসে নিহতদের পরিচয় শনাক্ত করেছে স্বজনরা।

নিহতরা হলেন- পাবনার আতাইকুলা থানাধীন ধর্মগ্রাম পুষ্পপাড়া এলাকার সবুজ সরদার, জহিরুল ও ফারুক প্রমাণিক এবং ফরিদপুরের ভাঙ্গা থানার উত্তর আকনবাড়িয়ার কালিবাড়ীর মনসুর মেল্লার ছেলে লুৎফর মোল্লা। তিনি ঢাকার রামপুরার বাগিচারটেকের এলাকায় বসবাস করে গাড়ি চালাতেন।

এদিকে এ ঘটনায় দুটি মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। তবে উদ্ধার হওয়া চারজনের পরিচয় শনাক্ত হলেও পুলিশ মামলায় চার যুবককে অজ্ঞাত পরিচয় দেখিয়েছে। সোমবার সকালে আড়াইহাজার থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) রফিউদ্দৌলা বাদী হয়ে মামলা দুটি দায়ের করেন।

নিহত লুৎফর মোল্লার স্ত্রী রেশমা আক্তার জানান, তার স্বামী বাসচালক। শুক্রবার বিকেল ৫টার দিকে তার স্বামী বাসা থেকে বের হন এবং সন্ধ্যা ৭টার দিকে গাড়ি নিয়ে রাস্তায় নামেন। রাত ১টায় স্বামীর সঙ্গে তার শেষবারের মতো কথা হয়। এরপর থেকে স্বামীর মোবাইল ফোন বন্ধ পান। রোববার সকালে টেলিভিশনে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে চারজনের মরদেহ উদ্ধারের খবর পেয়ে নারায়ণগঞ্জ হাসপাতাল মর্গে ছুটে আসেন তিনি। পরে মরদেহ দেখে স্বামীকে শনাক্ত করেন।

নিহত ফারুকের বাবা জামাল প্রমাণিক বলেন, ১৫ বছর যাবত রূপগঞ্জের গাউছিয়ায় বাস চালাতেন ফারুক। গত সোমবার ১৫ অক্টোবর ডিবি পরিচয়ে গাউছিয়া থেকে একই গ্রামের চার জনকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। যার মধ্যে দুইজনের মরদেহ আড়াইহাজারের অজ্ঞাতদের মধ্যে পাওয়া গেছে। সবুজ সরদার ও ফারুক প্রমাণিক।

সবুজ সরদারের স্বজনরা জানান, সবুজ ঢাকায় বেকারিতে চাকরি নেয়ার কথা বলে দুই সপ্তাহ আগে গ্রাম ছাড়ে। তার সঙ্গে থাকা আরও দুইজন নিখোঁজ রয়েছে।

জহিরুলের শ্বশুর নজরুল ইসলাম বলেন, জহিরুল বেকারিতে কাজ করতো। জহিরুলকে বেকারিতে কাজ করার জন্য গ্রাম থেকে নিয়ে এসেছিল ফারুক। ফারুক ছিনতাইতারী চক্রের সঙ্গে জড়িত বলে শুনেছি। ফারুকই গ্রাম থেকে তিনজনকে শহরে নিয়ে এসেছে কাজ করানোর জন্য।

নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. আসাদুজ্জামান বলেন, চার যুবকের মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। এদের মধ্যে তিনজনের মাথায় গুলির চিহ্ন রয়েছে। তবে চারজনকেই মাথার পেছন থেকে আঘাত করা হয়েছে এবং ভারী কোনো বস্তু দিয়ে মাথা ও মুখমন্ডল থেতলে দেয়া হয়েছে। শনিবার রাতের কোনো এক সময়ে চারজনকে হত্যা করা হয়েছে।

আড়াইহাজার থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম এ হক মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, শুনেছি নিহত চারজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। স্বজনরা হাসপাতালে গিয়ে মরদেহ শনাক্ত করেছে। কিন্তু তারা কেউ এখনো আমাদের কাছে আসেনি।

প্রসঙ্গত, রোববার সকালে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার ঢাকা-সিলেট মহাসড়েকের সাতগ্রাম ইউনিয়নের পাচঁরুখী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে থেকে চার যুবকের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ সময় মরদেহের পাশ থেকে দুটি পিস্তল ও একটি মাইক্রোবাস উদ্ধার করা হয়।

শাহাদাত হোসেন/আরএআর/পিআর

আপনার মতামত লিখুন :