শেরপুরে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষ, ময়মনসিংহ মেডিকেলে ভর্তি ৪
শেরপুরে নির্বাচনি ইশতেহার অনুষ্ঠানে বিএনপির সঙ্গে সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে চারজনকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) রাত পৌনে ১১টার দিকে হাসপাতালের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে তাদের ভর্তি করা হয়।
বিষয়টি জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেছেন হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ মো. নজরুল ইসলাম।
তিনি বলেন, শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলা পরিষদ মাঠে সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে রাতে শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা রেজাউল করিম ছাড়াও আরও চারজনকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। এরমধ্যে চিকিৎসক মাওলানা রেজাউল করিমকে মৃত ঘোষণা করেন। অন্যদেরকে হাসপাতালের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করে যথাযথ চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, মাওলানা রেজাউল করিমকে হাসপাতালে নিয়ে আসার পথেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মরদেহটি হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। যারা আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন, তারা সবাই জামায়াতে ইসলামীর সমর্থক বলে জানতে পেরেছি।
শেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, সংঘর্ষে একজনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া আহত হওয়ার খবরও পাওয়া গেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।
এর আগে এদিন দুপুরে ঝিনাইগাতী উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নিয়ে নির্বাচনি ইশতেহার অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে আয়োজন করা হয়েছিল। অনুষ্ঠানে বিএনপি প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেল ও জামায়াত মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদলের কর্মী-সমর্থকরা চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া শুরু হয়। এতে উভয় পক্ষের অর্ধশতাধিক কর্মী-সমর্থক আহত হন।
এসময় পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে দুজন সাংবাদিকও আহত হন। তাদের সঙ্গে থাকা একটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়। সংঘর্ষের খবর পেয়ে সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ ও আনসার সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালান। সংঘর্ষে শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা রেজাউল করিমকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে ঝিনাইগাতী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে তাকে শেরপুর সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাতে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান তিনি।
নিহত মাওলানা রেজাউল করিম শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি। তিনি ফতেহপুর ফাজিল মাদ্রাসার আরবির প্রভাষক ছিলেন।
কামরুজ্জামান মিন্টু/এমএন