প্রশ্ন হার্ড হওয়ায় পরীক্ষা বন্ধ করে দিলেন সিবিএ নেতারা

উপজেলা প্রতিনিধি উপজেলা প্রতিনিধি মোংলা (বাগেরহাট)
প্রকাশিত: ০৯:৩৭ পিএম, ১৭ নভেম্বর ২০১৮

সিবিএ নেতাদের হামলা ও বাধার মুখে স্থগিত হয়ে গেছে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের নিয়োগ পরীক্ষা। এ ঘটনায় দায়ী সিবিএ’র সাধারণ সম্পাদকসহ দুই নেতাকে আসামি করে মামলা করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।

নেতারা পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান কমডোর একেএম ফারুক হাসানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের লাঞ্ছিত করে তাদের গাড়ির চাবি আটকে রাখে। পরে নৌ বাহিনী ও পুলিশের সহযোগিতায় তারা ওই এলাকা ত্যাগ করেন।

গতকাল শুক্রবার সকালে এ ঘটনা ঘটলেও বিলম্বে রাত পৌনে ১১টার দিকে বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানের দপ্তরের সূত্রে বিষয়টি বিস্তারিত জানানো হয়েছে।

মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব মো. ওহিউদ্দিন চৌধুরী জানান, শুক্রবার বেলা ১১টায় খুলনার নৌ বাহিনী স্কুলে ৯টি ক্যাটাগরিতে ৪০টি নিয়োগ পদের লিখিত পরীক্ষা শুরু হয়। এ সময় ৩টি ধাপের প্রথম ধাপের পরীক্ষায় ফলাফল ঘোষণা করা হয়।

এ ঘোষণায় মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ কর্মচারী সংঘের (সিবিএ) নেতাদের মনোনীতরা কৃতকার্য না হওয়ায় তারা পরের ধাপের প্রক্রিয়া বন্ধ করতে নানা রকম হুমকি ধামকি দেয়। এক পর্যায়ে পরীক্ষা কেন্দ্রে ঢুকে সিবিএ’র সাধারণ সম্পাদক কাজী খুরশিদ আলম পল্টু ও কার্যকরী সভাপতি নাসির উদ্দিন চৌধুরী পরীক্ষা বন্ধ করে বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান কমডোর একেএম ফারুক হাসান, পরিচালক প্রশাসন প্রণব কুমার রায়, নিয়োগ কমিটির আহ্বায়ক ও বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (অর্থ) আফসানা ইয়াসমিন, নৌ পরিবহণ মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব নজরুল ইসলাম, বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব ওহিউদ্দিন চৌধুরী, যান্ত্রিক ও তড়িৎ বিভিাগের প্রধান প্রকৌশলী মিজানুর রহমান শাহ চৌধুরী এবং প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা লে. কমান্ডার আব্দুল আলীমকে লাঞ্ছিত করে তাদের গাড়ির চাবি আটকে নিয়ে নেয়।

এ সময় পরীক্ষা কেন্দ্র ভাঙচুর করা হয় বলেও জানান সচিব ওহিউদ্দিন। পরে ঘটনাস্থলে নৌ বাহিনীর ও পুলিশ সদস্যদের খবর দিলে তাদের গাড়িতে করে ওইসব কর্মকর্তাদের নিয়ে যাওয়া হয়। পরে এ ঘটনায় বন্দর কর্তৃপক্ষের সহকারী ব্যবস্থাপক (কর্ম) সালাউদ্দিন কবির বাদী হয়ে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ কর্মচারী সংঘের সাধারণ সম্পাদক কাজী খুরশিদ আলম পল্টু ও কার্যকরী সভাপতি নাসির উদ্দিন চৌধুরীকে আসামি করে খুলনার খালিশপুর থানায় মামলা করেন।

এদিকে অভিযুক্ত সাধারণ সম্পাদক কাজী খুরশিদ আলম পল্টুর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, নিয়োগ পরীক্ষার ক্ষেত্রে বন্দরের ইতিহাসে লিখিত পরীক্ষায় কোনো দিন হার্ড (কঠিন) প্রশ্ন করা হয়নি, এবারের যে প্রশ্ন করা হয়েছে তাতে অনেকেই উন্নীত হতে না পারায় আমি প্রতিবাদ জানিয়ে পরীক্ষা বন্ধ করতে বলেছি।

তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত নিয়োগ বাণিজ্যের বিষয়ে তিনি বলেন, কোনো পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে কোনো অর্থ নেয়া হয়নি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বন্দরের কয়েকজন কর্মচারী বলেন, পূর্বে মোংলা বন্দরে নিয়োগের ক্ষেত্রে ৩০ ভাগ পোষ্য কোঠা চালু ছিল, কিন্তু পরবর্তীতে তা বাতিল হয়। অথচ বর্তমান সিবিএ’র নেতাদের নির্বাচনী ইসতেহারও ছিল সেই পোষ্য কোঠা পুনরায় বহালের প্রতিশ্রুতি। কিন্তু সিবিএ’র নেতারা সেই দাবি বাস্তবায়ন না করে বিশেষ করে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো. খুরশিদ আলম পল্টু ও কার্যকরী সভাপতি নাছির উদ্দিন চৌধুরী ব্যক্তি স্বার্থে তাদের আত্মীয়-স্বজন ও বিভিন্নজনের কাছ থেকে সুবিধা নিলে পছন্দসই প্রার্থী নিয়োগ পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ায় বিশৃঙ্খলার মাধ্যমে নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধ করে দিয়েছে। আমরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানোর পাশাপাশি দোষীদের বিচার দাবী করছি।

বন্দর সূত্র জানায়, পাম্প ড্রাইভার পদে ৫ জন, গাড়ির ড্রাইভার পদে ৮ জন, গ্রিজার কাম পাম্প ড্রাইভার ২ জন, কার্য সহকারী পদে ২ জন, জাহাজের প্রথম শ্রেণির ড্রাইভার পদে ২ জন, দ্বিতীয় শ্রেণির ড্রাইভার পদে ৩ জন, ও ফোরম্যান পদে ১ জনসহ মোট ৪০টি পদে নিয়োগ পরীক্ষার কথা ছিল। কিন্তু সিবিএ নেতাদের বাধার মুখে তা স্থগিত করা হয়েছে।

এরশাদ হোসেন রনি/এমএএস/আরআইপি

আপনার মতামত লিখুন :