মুনিরীয়া যুব তবলীগের ঈদে মিলাদুন্নবীর মাহফিলে জনসমুদ্র

মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন
মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন , আমিরাত প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ০৫:১৩ এএম, ২১ নভেম্বর ২০১৮

বিশ্বব্যাপী অরাজনৈতিক তরিক্বতভিত্তিক আধ্যাত্মিক সংগঠন মুনিরীয়া যুব তবলীগ কমিটি বাংলাদেশের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত ৬৫তম পবিত্র জশনে জুলুছে ঈদে মিলাদুন্নবীর (সা.) মাহফিল জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছিল। প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরও দুপুর থেকেই দেশের দূর-দূরান্ত থেকে ধর্মপ্রাণ মুসলমান দরবার শরীফে আসতে থাকেন। বেলা বাড়ার সাথে সাথে আসরের পূর্বেই মাহফিলস্থল দরবার শরীফ গাউছুল আজম জামে মসজিদ প্রাঙ্গণসহ এর আশেপাশের এলাকা লোকে লোকারণ্য হয়ে জনসমুদ্রে রূপ নেয়।

মঙ্গলবার (২০ নভেম্বর) চট্টগ্রামের রাউজানে কাগতিয়া আলীয়া গাউছুল আজম দরবার শরীফে অনুষ্ঠিত মাহফিলে প্রধান মেহমান হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- দরবার শরীফের মহান মোর্শেদ আওলাদে রাসূল হযরতুলহাজ্ব আল্লামা অধ্যক্ষ শায়খ ছৈয়্যদ মোর্শেদে আজম মাদ্দাজিল্লুহুল আলী ছাহেব।

মাহফিলে উপস্থিত নবীপ্রেমিক, অনুসারী ও এলাকাবাসীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, জগতের সবকিছুর ঊর্ধে প্রিয় নবীজিকেই ভালোবাসতে হবে, সুন্নাতে নববী ও আদর্শের পূর্ণ অনুসরণেই রয়েছে প্রকৃত শান্তি ও কল্যাণ। আর চৌদ্দশত বছর পরে এসে নবীজির প্রতি অগাধ প্রেম-ভালোবাসার ইতিহাস রচনা করে গেছেন কাগতিয়া দরবারের প্রতিষ্ঠাতা হযরত গাউছুল আজম (রা.)। যিনি সারা জীবন সুন্নাতে নববী ও আদর্শের প্রচার করেছেন।

তিনি আরও বলেন, বছরের একটি নির্দিষ্ট দিনেই মিলাদুন্নবী (সা.) পালনকে আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ না রেখে সারা বছরই জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই প্রিয় রাসূলের জীবনাদর্শ অনুসরণের মধ্যেই প্রকৃত রাসূলপ্রেম প্রকাশ পায়। কাগতিয়া দরবারের অনুসারীদের প্রতিদিন সহস্রাধিকবার দরুদে মোস্তফা, খতম ও ফাতেহা শরীফের মাধ্যমে নবীপ্রেম-ভালোবাসায় সিক্ত হবার শিক্ষা দেয়া হয়, সুন্নাতে নববীর পুঙ্খানুপুঙ্খ পালনে ও নবীর আদর্শে জীবন গড়তে কঠোর নির্দেশনা দেয়া হয়।

তিনি আরও বলেন, এ দরবার ও মুনিরীয়া যুব তবলীগ কমিটির মুখ্য উদ্দেশ্য হচ্ছে যুব সমাজকে প্রিয় রাসূলের আদর্শে আদর্শবান করে গড়ে তুলে বিশ্বশান্তি ও কল্যাণ প্রতিষ্ঠা করা। এ লক্ষ্য পূরণে মুনিরীয়া যুব তবলীগ কমিটি শুধু বাংলাদেশে নয়, প্রতি বছর দুবাই, আবুধাবি, শারজাহ্, ওমানসহ যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্রেও ব্যাপকভাবে জশনে জুলুছে ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উদযাপন করছে, রাসূলের (দ.) প্রেম ও আদর্শে জীবন গড়তে সারা বিশের মুসলমানদের আহ্বান করছে।

এ উপলক্ষে গৃহীত বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্যে ছিল বাদ জোহর খতমে কোরআন, ঈদে মিলাদুন্নবী (দ.) শীর্ষক আলোচনা, বাদ আসর তরিক্বতের বিশেষ পদ্ধতিতে ফয়েজে কোরআন প্রদান, বাদ মাগরিব তাওয়াজ্জুহর মাধ্যমে প্রিয় নবীর বাতেনি নূর বিতরণ, প্রিয় নবীর সুন্নাত তরিক্বায় বায়আত, দেশবরেণ্য ওলামায়ে কেরামের তকরির ও তবাররুক বিতরণ এবং বাদ এশা মোর্শেদে আজমের তকরির, মিলাদ-ক্বিয়াম ও আখেরি মুনাজাত।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আবুল মনছুরের সভাপতিত্বে আলোচনা সভা ও মাহফিলে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের ওলামা পরিষদের সভাপতি আল্লামা মুফতি মুহাম্মদ ইব্রাহিম হানফি, সচিব মুফতি কাজী আনোয়ারুল আলম ছিদ্দিকি, আল্লামা মুহাম্মদ আশেকুর রহমান, আল্লামা মুহাম্মদ সেকান্দর আলী, আল্লামা মুহাম্মদ ফোরকান প্রমুখ।

মাহফিল শেষে হুজুর ক্বেবলা দেশ, জাতি ও বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি এবং দরবারের প্রতিষ্ঠাতা গাউছুল আজম (রা.)-এর ফুয়ুজাত কামনা করে আখেরি মুনাজাত পরিচালনা করেন।

বিএ

আপনার মতামত লিখুন :