জামালপুর-১ আসনে নেই নির্বাচনী আমেজ

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি জামালপুর
প্রকাশিত: ০৮:৫৮ এএম, ২৫ ডিসেম্বর ২০১৮

ভোটের বাকি আর মাত্র চারদিন। সারাদেশে চলছে নির্বাচনী উৎসব। তবে জামালপুর-১ (বকশীগঞ্জ-দেওয়ানগঞ্জ) আসনে ভোটের আমেজ নেই। ঝিমিয়ে পড়েছে নির্বাচনী সকল কার্যক্রম। শুধুমাত্র আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ও বর্তমান এমপি আবুল কালাম আজাদ নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন। বিএনপির প্রার্থী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতের প্রার্থিতা স্থগিত হওয়ায় বন্ধ রয়েছে বিএনপির নির্বাচনী কার্যক্রম।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য সাতজন প্রার্থীকে প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হয়। এরা হলেন- আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থী বর্তমান সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদ (নৌকা), বিএনপির প্রার্থী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত (ধানের শীষ), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আব্দুল মজিদ (হাতপাখা), জাতীয় পার্টির এম.এ. ছাত্তার (লাঙ্গল), বিজেপির জাহাঙ্গীর আলম (কাঁঠাল), গণফোরামের মো. সিরাজুল হক (উদীয়মান সূর্য) এবং বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির সুরুজ্জামান (কুড়েঘর) প্রতীক। এর মধ্যে বিএনপির প্রার্থী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতের প্রার্থিতা স্থগিত করে হাইকোর্ট। পরে ১৮ ডিসেম্বর আপিল বিভাগও হাইকোর্টের সেই রায় বহাল রাখে।

মিল্লাতের প্রার্থিতা স্থগিত হওয়ার পর বিএনপি তাদের নির্বাচনী কার্যক্রম গুটিয়ে নিয়েছে। বিএনপি প্রার্থী না থাকায় ঐক্যফ্রন্টের শরিক গণফোরামের প্রার্থী থাকলেও তাকে দেখা যাচ্ছে না নির্বাচনী প্রচরাণায়।

জানা গেছে, বিএনপি নেতাকর্মীরা যদি গণফোরামের প্রার্থী মো. সিরাজুল হককে সমর্থন করে মাঠে নামে তবেই তিনি ঐক্যফ্রন্টের হয়ে মাঠে নামাবেন এ আসনে।

আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থকরা প্রতিদিন গণসংযোগ ও ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরে নৌকা প্রতীকের পক্ষে ভোট প্রার্থনা করে যাচ্ছেন। বিজয় নিশ্চিত জেনেও ঘরে বসে নেই আওয়ামী লীগ।

এদিকে বিএনপি প্রার্থী ছাড়াও বৈধ আরও পাঁচ প্রার্থীরও দেখা নেই নির্বাচনী মাঠে। কোনো কোনো প্রার্থীর এখনো কোনো পোস্টার দেখা যায়নি কোথাও। কার কী প্রতীক সেটাও জানে না ভোটাররা। বর্তমান এমপি ও আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ একাই মাঠ দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন। সারাদিন নৌকার পক্ষে ভোট চেয়ে ঘরে ঘরে যাচ্ছেন তিনি। অপরদিকে মাঠে দেখা মিলছে না জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য এম.এ. সাত্তার, গণফোরামের সিরাজুল হক, বিজেপির জাহাঙ্গীর আলম ও ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির সুরুজ্জামানের। তবে এরই মধ্যে কিছু সংখ্যক কর্মী-সমর্থক নিয়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মওলানা আবদুল মজিদ হাত পাখা প্রতীকের জন্য ভোট চাচ্ছেন। বাকিরা রয়েছেন সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয়।

অনেকেই বলছেন আবুল কালাম আজাদ ফের এমপি হতে যাচ্ছেন। কারণ বিএনপির প্রার্থী না থাকায় তেমন কোনো ঝুঁকি দেখছে না আওয়ামী লীগ। যেহেতু অন্যদলের জনসমর্থন তুলনামূলক কম ও তাদের যোগ্য কোনো প্রার্থীও নেই সেই ক্ষেত্রে নৌকা প্রতীকেই আস্থা রাখবে সাধারণ মানুষ। নির্বাচনী মাঠে শক্তিশালী কোনো প্রার্থী না থাকলেও রাত-দিন পরিশ্রম করে যাচ্ছেন বর্তমান এমপি আবুল কালাম আজাদ। ভোটের মাঠে তিনি একা নন অসংখ্য নেতাকর্মীরাও চষে বেড়াচ্ছেন নির্বাচনী এলাকা। আওয়ামী লীগের বিজয় দ্বারপ্রান্তে মনে হলেও অপেক্ষা করতে হবে ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত।

বকশীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আবু জাফর বলেন, আমরা প্রতিপক্ষকে শক্তিশালী মনে করেই মাঠে নেমেছি। নির্বাচনের মাঠে কে ছোট কে বড় সেটা ভাবার সময় নেই। নৌকাকে বিপুল ভোটে জয়ী করতে হবে সেভাবেই কাজ করছে আওয়ামী লীগ।

আরএআর/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।