৫ বছরেই বেহাল চুয়াডাঙ্গা মডেল মসজিদ

হুসাইন মালিক
হুসাইন মালিক হুসাইন মালিক চুয়াডাঙ্গা
প্রকাশিত: ১১:৫১ এএম, ০৫ মার্চ ২০২৬

চুয়াডাঙ্গা জেলা মডেল মসজিদ নির্মাণের পাঁচ বছরের মাথায় অবকাঠামোগত ত্রুটি, রক্ষণাবেক্ষণের অভাব ও প্রশাসনিক জটিলতায় বেহাল অবস্থায় পড়েছে। ২০২১ সালের ১৭ জুন নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয় মসজিদটি। প্রায় ১৪ কোটি ৫৫ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত মসজিদটিতে টাইলস খুলে পড়া, দেয়ালের প্লাস্টার খসে যাওয়া ও পাইপলাইনে লিকেজের অভিযোগ উঠেছে।

মুসল্লিদের অভিযোগ, অজুখানার পানির লাইনে লিকেজের কারণে দেয়ালের টাইলস ও প্লাস্টার নষ্ট হচ্ছে। প্রায় এক বছর ধরে ৩০টি সিসিটিভি ক্যামেরার সবগুলো অচল। পরে চারটি নতুন ক্যামেরা বসানো হলেও তা পর্যাপ্ত নয়। নিরাপত্তা প্রহরী না থাকায় বাথরুমের ট্যাপসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম চুরির ঘটনাও ঘটছে।

এদিকে বিদ্যুৎ বিল বাবদ প্রায় ৯ লাখ টাকা বকেয়া রয়েছে। উদ্বোধনের পর এক দফায় মাত্র ৫০ হাজার টাকা পরিশোধ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এ সুযোগে বাথরুমের ট্যাপসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম চুরির ঘটনা ঘটছে। প্রায় এক বছর ধরে ক্যামেরাগুলো নষ্ট থাকায় নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়েছে।

মসজিদ সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যুৎ বিল বাবদ প্রায় ৯ লাখ টাকা বকেয়া রয়েছে। উদ্বোধনের পর এক দফায় মাত্র ৫০ হাজার টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। দ্রুত বিল পরিশোধ না করলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

মুয়াজ্জিন মো. মনজুর রহমান বলেন, পাঁচ বছর না যেতেই মসজিদের বিভিন্ন সামগ্রী নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। বাথরুমের অধিকাংশ ট্যাপ চুরি হয়ে গেছে। নিরাপত্তা প্রহরী না থাকায় সবকিছু দেখভাল করা কঠিন। অজুখানার পাইপলাইনে লিকেজ থেকে প্লাস্টার খসে পড়ছে। কিছুদিন আগে নিজ অর্থায়নে কয়েকটি পাইপ সংস্কার করেছি। এছাড়া মসজিদের সামনে পৌরসভা থেকে ময়লা ফেলা হয়, এতে পরিবেশ দূষণ ও মুসল্লিদের চলাচলে সমস্যা হচ্ছে।

স্থানীয় মুসল্লি শাহিন আক্তার বলেন, সরকারি অর্থে নির্মিত একটি মডেল মসজিদের এমন অবস্থা দুঃখজনক। পাঁচ বছরেই টাইলস খুলে পড়ছে। দীর্ঘদিন ক্যামেরা অচল থাকায় আমরা নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন। দ্রুত সংস্কার প্রয়োজন।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপপরিচালক এ কে এম শাহীন কবীর বলেন, মসজিদটি গণপূর্ত বিভাগের তত্ত্বাবধানে নির্মিত। ২০২৪ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে আমাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। রক্ষণাবেক্ষণের জন্য আলাদা পর্যাপ্ত বরাদ্দ নেই। সিসিটিভি নষ্ট থাকায় নিজ উদ্যোগে চারটি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলেই বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করা হবে।

অন্যদিকে গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মহসিন বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্ব ছিল আমাদের। হস্তান্তরের পর নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব ইসলামিক ফাউন্ডেশনের। হস্তান্তরের এক বছর আগ পর্যন্ত মেরামত ব্যয় আমরা বহন করেছি। বর্তমানে আমাদের কাছে এ খাতে আলাদা বাজেট নেই।

এদিকে স্থানীয় মুসল্লিদের দাবি, দ্রুত সিসিটিভি সচল, ক্ষতিগ্রস্ত অংশ সংস্কার ও পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা হোক।

হুসাইন মালিক/এনএইচআর/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।