হলুদে রাঙা মাঠ

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ফেনী
প্রকাশিত: ০৪:৪৯ পিএম, ০৮ জানুয়ারি ২০১৯

ফেনীতে সরিষার বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা দেখছেন কৃষকরা। চলতি মৌসুমে জেলার ৬টি উপজেলায় মোট সরিষা চাষ হয়েছে ১ হাজার ৪৫০ হেক্টর জমিতে। কৃষি বিভাগের মতে, এ বছর সরিষার ভালো আবাদ হয়েছে; যা থেকে বাম্পার ফলন আশা করা যাচ্ছে। এখন জেলার চারিদিকে কেবলই সরিষার হলুদ রাঙা মাঠ আর মাঠ।

জেলা কৃষি অধিদফতর জানায়, এ বছর জেলায় বারি-৯, বারি-১৪, বারি-১৫, বারি-১৭ এবং সম্পদ জাতের সরিষার আবাদ করেছেন কৃষকরা। চলতি বছর প্রতি হেক্টর জমি থেকে ১ দশমিক ২৯ মেট্রিক টন সরিষা চাষ হয়েছে। সে হিসাবে জেলায় এ বছর মোট ৩৭ হাজার ৭৫১ দশমিক ৮৫ মেট্রিক টন সরিষা উৎপাদিত হবে। যার বাজার মূল্য ৭ কোটি ২৫ লাখ টাকা।

জেলা কৃষি বিভাগ সরিষা চাষে উৎসাহিত করতে সরকারিভাবে প্রদত্ত প্রণোদনা হিসেবে জেলার ১ হাজার ৬৮০ জন কৃষককে ইউরিয়া সার, বীজ ইত্যাদি বিনামূল্যে বিতরণ করেছে।

কৃষি বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, সদর উপজেলায় ৮৯০ হেক্টর, ছাগলনাইয়ায় ৯০ হেক্টর, ফুলগাজীতে ৬২ হেক্টর, পরশুরামে ৭৫ হেক্টর, দাগনভূইয়ায় ২০ হেক্টর ও সোনাগাজীতে ২৮০ হেক্টর জমি সরিষার আবাদ করা হয়েছে। এবার জেলায় মোট ১ হাজার ৪১৭ হেক্টর জমিতে সরিষা আবাদ করা হয়েছে। জেলায় মোট ১৮০টি প্রদর্শনী ক্ষেতে ১ হাজার ৫০০ বিঘা জমির ওপর এ প্রণোদনা দেয়া হয়েছে।

feni2

স্থানীয় কৃষক রতন চন্দ্র দাস বলেন, গত ১৫ বছর ধরে ফেনী সদরের পাঁচগাছিয়ার উত্তর কাশিমপুর গ্রামের মাঠটি পতিত ছিল। সরকারি প্রণোদনা পেয়ে এবং কৃষি কর্মকর্তাদের অনুপ্রেরণায় এবার দুই বিঘা জমিতে সরিষা চাষ করেছি। আশা করছি, প্রতি বিঘাতে ৫ হাজার খরচ করে ১৫ হাজার টাকা আয় হবে।

জেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা প্রণব চন্দ্র মজুমদার বলেন, রবি মৌসুমে পতিত জমিতে সরিষা আবাদ করলে নিবিড়তা বাড়ে এবং এরপর বোরো ধান চাষ করলে কৃষক আর্থিকভাবে লাভবান হবে। সরিষা উৎপাদনে কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত সহযোগিতা করা হয়েছে কৃষকদের।

ফেনী সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু নঈম মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন বলেন, এবার ৪৭টি প্রদর্শনী ক্ষেতে ৫১ বিঘা জমির ওপর কৃষকদের মাঝে প্রণোদনা দেয়া হয়েছে। আমরা চেষ্টা করছি পতিত জমিগুলোকে চাষের আওতায় নিয়ে আসার।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর ফেনীর উপ-পরিচালক মো. জয়েন উদ্দিন বলেন, জেলায় রবি মৌসুমে প্রায় ২৫ হাজার হেক্টর জমি পতিত থাকে। সরকার ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের প্রচেষ্টায় তেল ও ডাল ফসল আবাদ বাড়ছে। চলতি বছর ১ হাজার ৮০০ মেট্রিক টন সরিষা উৎপাদিত হবে। কৃষকদের উদ্বুদ্ধকরণে সরিষা ক্ষেতের পাশে মধু সংগ্রহকারী বাক্স স্থাপন করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

রাশেদুল হাসান/এএম/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।