বঙ্গোপসাগরে ট্রলারে ডাকাতি, ১৪ জেলে আহত

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি বাগেরহাট
প্রকাশিত: ০৬:৪৮ পিএম, ২৪ জানুয়ারি ২০১৯

পূর্ব বঙ্গোপসাগরে ফিশিং ট্রলারে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় জলদস্যুদের হামলায় বাগেরহাটের শরণখোলার এফবি রিসান-১ নামের একটি ফিশিং ট্রলারের ১৪ জেলে আহত হয়েছেন।

জলদস্যুরা ট্রলারে থাকা মাছসহ প্রায় ২৫ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়েছে। দস্যুতার কবলে পড়া ফিশিং ট্রলারটি বৃহস্পতিবার বিকেলে শরণখোলা উপজেলার রাজৈর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে ফিরে এসেছে। আহত জেলেদের বিকেলে শরণখোলায় প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

আহত জেলেরা হলেন- ট্রলারের মিস্ত্রি আজিজুল, মাঝি নুর ইসলাম, জেলে ইমাম হোসেন, নিয়ামুল, আ. রাজ্জাক, শামীম, মাসুম হাওলাদার, আ. আজিজ, রফিক শেখ, সাহেব আলী, আ. রব ও আনোয়ার হোসেনসহ ১৪ জন। এদের বাড়ি বাগেরহাট ও ভোলার বিভিন্ন এলাকায় বলে ট্রলার মালিক জানিয়েছেন।

দস্যুতার শিকার এফবি রিসান ফিশিং ট্রলারের মাঝি মো. নুর ইসলাম জানান, তারা ১২ জানয়ারি রাতে ১৪ জন জেলেসহ শরণখোলা থেকে ফিশিং ট্রলারযোগে বঙ্গোপসাগরের উদ্দেশ্যে রওনা হন। মাছ ধরতে ধরতে একপর্যায় তারা পর্ব-বঙ্গোপসাগরের গভীরে চলে যান। বুধবার রাত ১০টার দিকে তারা বঙ্গোপসাগরের গভীর জাহাজখাড়ি এলাকায় জাল ফেলে মাছ শিকার করছিলেন।

এ সময় ১৫-১৬ জনের একদল জলদস্যু ট্রলারে হানা দেয়। দস্যুরা ট্রলারে উঠেই জেলেদের মারধর শুরু করে। একপর্যায় দস্যুরা ট্রলারের সবাইকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ৩ হাজার ইলিশ মাছ, ৪০ পিস জাল, দুইটি জেনারেটরসহ ১৪টি মোবাইল, নগদ এক লাখ টাকা ও ট্রলারে থাকা বিভিন্ন যন্ত্রাংশসহ প্রায় ২৫ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।

শরণখোলা উপজেলার ফিশিং ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি মো. আবুল হোসেন বলেন, পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও সুন্দবন অঞ্চলের দস্যুরা আত্মসমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসায় এখানের জেলেরা নিরাপদে মাছ ধরছেন। তবে, পূর্ব বঙ্গোপসাগরে এখনো জলদস্যুরা সক্রিয় রয়েছে। শরণখোলার ট্রলারটি পূর্ব বঙ্গোপসাগরের গভীরে ঢুকে জলদস্যুদের কবলে পড়ে সবকিছু হারিয়েছেন।

শওকত আলী বাবু/এএম/এমকেএইচ

আপনার মতামত লিখুন :