যুবলীগ নেতার ঘুষিতে প্রকৌশলীর মৃত্যু
লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলায় জমি দখলে নিতে গিয়ে যুবলীগ নেতার হামলায় আবুল বাশার (৬৫) নামে এক অবসরপ্রাপ্ত উপ-সহকারী প্রকৌশলীর মৃত্যু হয়েছে।
এ সময় নিহতের ছেলে আবদুল মুকিত সোহেল (৪২) আহত হয়েছেন। শনিবার সকাল ৯টার দিকে উপজেলার রামদয়াল উত্তর বাজার এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ছয়জনকে আটক করেছে পুলিশ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলার চর রমিজ ইউনিয়ন যুবলীগের আহ্বায়ক জাবেদ আল আমিন রাসেলের নেতৃত্বে হামলা চালানো হয়েছে। জোরপূর্বক জমি দখল করতে গিয়ে দলবল নিয়ে এ হামলা চালানো হয়।
এদিকে, হামলাকারীদের গ্রেফতারের দাবিতে বিকেলে রামদয়াল বাজারে স্থানীয় লোকজন বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। এতে শত শত নারী-পুরুষ অংশ নেন। এ সময় তারা বিভিন্ন স্লোগান দেন।
নিহত আবুল বাশার উপজেলার চর আলগী ইউনিয়নের নুরুল হক হাফেজের ছেলে। তিনি উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের (এলজিইডি) অবসরপ্রাপ্ত উপ-সহকারী প্রকৌশলী।
থানা পুলিশ নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। গুরুতর আহত আবদুল মুকিতকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও নিহতের ছেলে রাসেল জানান, উপজেলার রামদয়াল বাজারের উত্তর পাশে একটি জমি নিয়ে বিপ্লবের সঙ্গে প্রকৌশলী আবুল বাশারের বিরোধ রয়েছে। শনিবার সকালে বিপ্লবের পক্ষ নিয়ে যুবলীগ নেতা রাসেলের নেতৃত্বে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রসহ লোকজন জমি দখল করতে আসে। এ সময় আবুল বাশার ও ছেলে আবদুল মুকিত বাধা দিতে যায়। একপর্যায়ে কিলঘুষি ও পিটিয়ে বাবা-ছেলেকে আহত করে যুবলীগ নেতা। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে রামগতি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসকরা আবুল বাশারকে মৃত ঘোষণা করেন।
পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় অভিযান চালিয়ে ছয়জনকে আটক করা হয়েছে। তারা হলেন- জমির উদ্দিন, আবদুল আলী, নুর উদ্দিন, মো. দুলাল, জাকির হোসেন আনন্দ ও মো. রমিজ।
এ বিষয়ে জানতে যুবলীগ নেতা জাবেদ আল আমিন রাসেলের মোবাইল ফোনে বিকেলে একাধিকবার কল করে বন্ধ পাওয়া যায়। তবে স্থানীয়রা জানিয়েছে, ঘটনার পর রাসেল এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে।
রামগতি থানা পুলিশের ওসি এ কে এম মোহাম্মদ আরিচুল হক বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ছয়জনকে আটক করা হয়েছে। নিহতের ঘটনায় থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
কাজল কায়েস/এএম/এমকেএইচ