শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধে ইউএনওর ব্যতিক্রমী উদ্যোগ
ঝরে পড়া রোধ করতে ও শিক্ষার মানোন্নয়নে বর্তমান সরকার নানান পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। সরকারের সেই উন্নয়নের সঙ্গে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন কর্মকর্তা ও কর্মচারী এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনগুলো যে যার অবস্থান থেকে নীরবে কাজ করে যাচ্ছে। শিক্ষা বিস্তারে ঠিক তেমনই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন নওগাঁর মান্দা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) খন্দকার মুশফিকুর রহমান। বৃহস্পতিবার উপজেলার মশিদপুর গ্রামে ‘মশিদপুর শিক্ষা উন্নয়ন সমিতি’ নামে একটি পাঠাগার চালু করেন তিনি।
জানা গেছে, জেলার মান্দা উপজেলার ভারশোঁ ইউনিয়নের প্রত্যন্ত গ্রাম মশিদপুর। উপজেলা সদর থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত প্রত্যন্ত এ গ্রাম। ‘শিক্ষার আলো ঘরে ঘরে জ্বালো’ স্লোগান নিয়ে এ গ্রামে সচেতন ব্যক্তি ও শিক্ষানুরাগীদের নিয়ে গড়ে উঠেছিল ‘মশিদপুর শিক্ষা উন্নয়ন সমিতি’ নামে একটি সেবামূলক অরাজনৈতিক সংগঠন। শিক্ষা বিস্তারে ২০০১ সালে এ সংগঠনটি গড়ে উঠলেও অর্থাভাবে তা বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘদিন থেকে এ সংগঠনের কার্যক্রম বন্ধ ছিল।

তবে উপজেলা নির্বাহী অফিসার নিজে উদ্যোগ নিয়ে এ এলাকার শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধ করতে এবং শিক্ষার মানোন্নয়নে ওই সংগঠনের নামে নতুন একটি পাঠাগার চালু করেছেন। উদ্বোধনী দিনে বঙ্গবন্ধুর অজানা অধ্যায়, অসমাপ্ত আত্মজীবনী, আমার বন্ধু রাশেদ, সূর্যদীঘল বাড়ি, মহানবী (সা:) এর শ্রেষ্ঠ বাণী, নাগরিকদের জানা ভাল, সোনামনীদের পরিচর্চা, ছোট গল্প, বিজ্ঞান ভিত্তিকবইসহ বিভিন্ন লেখকের প্রায় ৮০টি বই দিয়ে এ পাঠাগারটি চালু করা হয়।
এ পাঠাগার থেকে ওই এলাকার মশিদপুর, হোসেনপুর, চুয়াপুর, আইওরপাড়া, কবুলপুর, চৌবাড়িয়া, চাকদহ, দূর্গাপুর ও জোনাকীসহ প্রায় ১২/১৫টি গ্রামের কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও শিক্ষিত যুবকরা উপকৃত হবেন। অবসর সময়ে তারা এ পাঠাগারে এসে জ্ঞানচর্চা করবেন। এমন মহৎ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয়রা। শুধু এ গ্রামে নয়, শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে উপজেলার প্রতিটি গ্রামে এমন পাঠাগার স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন সচেতনরা।
মান্দা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) খন্দকার মুশফিকুর রহমান বলেন, শিক্ষার মানোন্নয়নে এবং ঝরে পড়া রোধ করতে উপজেলা প্রশাসন থেকে একটি কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। আর এরই অংশ হিসেবে উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকায় পাঠাগার চালু করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। এতে ছেলে-মেয়েদের মধ্যে পড়ার আগ্রহ বাড়বে। শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল প্রতিভা ফিরে আসবে। উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকায় ১০টি পাঠাগার চালু করা হবে।
আব্বাস আলী/এফএ/এমএস