আমার বোনটার সঙ্গে অনেক স্মৃতি, তাকে হারাতে চাই না

মাহাবুর আলম সোহাগ
মাহাবুর আলম সোহাগ মাহাবুর আলম সোহাগ , সহকারী বার্তা সম্পাদক (কান্ট্রি ইনচার্জ)
প্রকাশিত: ০৯:১১ পিএম, ২৭ এপ্রিল ২০১৯

৪৫ বছর বয়সী বোন খায়রুন নেছাকে প্রতি সপ্তাহে ঢাকায় এনে ডায়ালাইসিস দিতে হচ্ছে। সব মিলে খরচ হচ্ছে প্রায় ৫ হাজার টাকা। ডাক্তার বলেছেন, যতদিন বেঁচে থাকবে এভাবেই ডায়ালাইসিস দিতে হবে। না হলে শরীরে পানি জমবে।

আট বছর ধরে বোনের দুটি কিডনিই ড্যামেজ। তৃতীয় সন্তান জন্মের সময় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে তার কিডনি দুটি ড্যামেজ হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডাক্তাররা।

আরও পড়ুন : ৮ মাস ধরে অচেতন হাবিবা

তখন থেকে এ পর্যন্ত খায়রুন নেছার চিকিৎসা বাবদ প্রায় ২০ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। এখনও মাসে ২০ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে শুধু ডায়ালাইসিস বাবদ। এছাড়া ওষুধসহ অন্যান্য খরচ তো আছেই।

খায়রুন নেছা বর্তমানে রাজধানীর ধানমন্ডির ইবনে সিনা হাসপাতালের কিডনি বিশেষজ্ঞ ডা. শাহজাহান কবীরের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা নিচ্ছেন। পাশাপাশি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কিডনি বিশেষজ্ঞ ফিরোজ কবীরেরও চিকিৎসা চলছে।

আরও পড়ুন : মারিয়ার বাঁচার আকুতি দেখে কাঁদছে এলাকার মানুষও

খায়রুন নেছার স্বামী নুরুল ইসলাম ভোলা সদর হাসপাতালের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী। তিন ছেলের লেখাপড়া ও স্ত্রীর চিকিৎসা করাতে গিয়ে চাকরির বাইরে কোনো আয় নেই তার। বোন জামাইয়ের দুর্দশা দেখে শুরু থেকেই বোনের চিকিৎসায় সহায়তা করছেন ভাই মঞ্জুর রহমান। তিনি ঢাকায় একটি জাতীয় দৈনিকে সম্পাদনা সহকারী হিসেবে কর্মরত। কিন্তু বোনের চিকিৎসা চালাতে গিয়ে ভাইও কূলকিনারা হারিয়ে ফেলেছেন। তাই দ্বারস্থ হয়েছেন গণমাধ্যমের।

আরও পড়ুন : জুথির পাশে কেউ বসে না

সম্প্রতি জাগো নিউজ কার্যালয়ে এসে বোনের রোগের বর্ণনা দেন মঞ্জুর রহমান। গল্পে গল্পে বলেন নিজের অসহায়ত্বের কথা। একমাত্র বোনকে বাঁচাতে আট বছর ধরে লড়ছেন তিনি। কিন্তু আর পারছেন না। ছোট বোনের সেই স্মৃতিমাখা দিনগুলো মনে পড়লেই কাঁদেন তিনি।

মঞ্জুর রহমান জানান, দুদিন হলো বোন খায়রুন ঢাকায় এসেছে। এ সপ্তাহেই তার ডায়ালাইসিস করাতে হবে। আগামী সপ্তাহেও দিতে হবে। টানা পাঁচ মাস বাসায় থেকে চিকিৎসা নিয়েছে। এখন মাঝে মধ্যে বাড়ি যায়, আবার আসে। তার বাড়ি ভোলা সদর উপজেলার দক্ষিণ দিঘলদী গ্রামে।

তিনি বলেন, খায়রুনের পেছনে তার স্বামী ও আমার এ পর্যন্ত প্রায় ২০ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। ডায়ালাইসিস দেয়ার কারণে এখন অনেকটা ভালো। বন্ধ হয়ে গেলেই সমস্যা শুরু হবে। একজন কিডনি রোগীর পেছনে অনেক খরচ। দুই পরিবার মিলে প্রতি মাসে চারবার ডায়ালাইসিস দেয়ার টাকাও জোগাড় করা এখন কঠিন হয়ে পড়েছে। জানি না সামনে ডায়ালাইসিসগুলো নিয়মিত দিতে পারবো কিনা।

মঞ্জুর বলেন, ‘আমিও ছোট একটা চাকরি করি। নিজের সংসার চালিয়ে বোনের পেছনে খরচ করতে করতে প্রায় নিঃস্ব হয়ে গেছি। কার কাছে সহযোগিতা চাইবো, কে দেবে আমাকে সহযোগিতা? এসব চিন্তায় অস্থির থাকি সব সময়।’

তিনি বলেন, মাঝে মাঝে গণমাধ্যমে কিছু হৃদয়বান মানুষের গল্প শুনি। জানি না আমার এই আকুতি সেই মানুষগুলোর কাছে পৌঁছাবে কিনা? সেই সব মানুষকে বলতে চাই, আর হয়তো বেশিদিন বাঁচবে না আমার বোনটা। যতদিন বাঁচবে ততদিন যেন নিয়মিত চিকিৎসা চালাতে পারি সেই ব্যবস্থা করবেন কেউ। আমার বোনটাকে খুব ভালোবাসি। তার সঙ্গে অনেক স্মৃতি আমার। এত তাড়াতাড়ি তাকে হারাতে চাই না।

খায়রুন নেছার ভাইয়ের আকুতি কারও কান পর্যন্ত পৌঁছালে যোগাযোগ করতে পারেন মঞ্জুর রহমানের সঙ্গে ০১৬৩২-০৬৪৬৪১

এমএএস/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।