বাবা ভোট না দেয়ায় সন্তানদের জন্ম নিবন্ধন ছিঁড়ে দিলেন চেয়ারম্যান

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি বান্দরবান
প্রকাশিত: ০৪:২৭ পিএম, ০৭ মে ২০১৯

বান্দরবানের রুমা উপজেলার তিন কিশোর চশৈপ্রু মারমা (১৭), মংচপ্রু মারমা (১৮) ও উমংপ্রু মারমা (১৭)। তাদের তিনজনেরই বসবাস উপজেলার গ্যালেঙ্গ্যা ইউনিয়নের পান্তলা পাড়ায়।

এর মধ্যে চশৈপ্রু দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী এবং অপর দুইজন জুম চাষে নিয়োজিত। তারা তিনজনই নিজেদের নাম চলমান ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে চায়।

এরই অংশ হিসেবে ২৯ এপ্রিল জন্ম নিবন্ধন সনদের ডিজিটাল কপি সংগ্রহের জন্য গ্যালেঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদে যায় তিন কিশোর। আর এতে বাধা হয়ে দাঁড়ান গ্যালেঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান শৈউ সাই মারমা।

তিন কিশোর জানায়, ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তি হওয়ার জন্য অন্যান্য কাগজের সঙ্গে জন্ম নিবন্ধনের ডিজিটাল কপি প্রয়োজন হয়। জন্ম নিবন্ধনপত্রের ডিজিটাল কপির জন্য গত ২৯ এপ্রিল থেকে ৫ মে পর্যন্ত চারবার ওই ইউনিয়ন পরিষদে যাই আমরা। কিন্তু চেয়ারম্যান অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে আমাদেরকে বারবার ফিরিয়ে দিয়েছেন। একপর্যায়ে আমাদের হাতে থাকা জন্ম নিবন্ধনের ডিজিটাল কপিটি স্বাক্ষর ছাড়ায় ছিঁড়ে ফেলেছেন চেয়ারম্যান।

তারা আরও জানায়, জন্ম নিবন্ধন কপি কেন ছিঁড়ে ফেললেন এমন প্রশ্নে চেয়ারম্যান বলেছেন আমাদের বাবা-মা নির্বাচনের সময় তাকে নৌকা মার্কায় ভোট দেয়নি। তাই আমাদের ভোটার হতে দেবেন না চেয়ারম্যান।

জন্ম নিবন্ধনের ডিজিটাল কপি ছিঁড়ে ফেলার কারণ জানতে চাইলে গ্যালেঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শৈউসাই মারমা বলেন, তাদের তথ্য সত্য নয়। ইন্টারনেটে সমস্যার কারণে ওই তিন কিশোরের জন্ম নিবন্ধনের ডিজিটাল কপি প্রিন্ট করা সম্ভব হয়নি। এছাড়া তাদের অভিভাবকদের সঙ্গে নিয়ে আসার জন্য বলেছি।

চেয়ারম্যান আরও বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনের সময় ওই তিন কিশোরের বাবা-মা দলবেঁধে শপথ নিয়েছিলেন আমাকে নৌকা মার্কায় ভোট দেবেন না। তবে এতে আমার রাগ নেই। তবে কেন আমাকে ভোট না দিতে শপথ করল তা জানার জন্য ওই কিশোরদের অভিভাবকদের আসতে বলেছি আমি। ওই তিন কিশোরের অভিভাবকরা যদি আসেন, তাহলে কোনো দোষ থাকলে তাদের কাছে ক্ষমা চাইব আমি।

গ্যালেঙ্গ্যা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সচিব উবানু মারমা বলেন, স্বাক্ষর না দিয়ে জন্ম নিবন্ধন সনদ ছিঁড়ে ফেলার কথা লোকেমুখে শুনেছি। তবে চেয়ারম্যানের সঙ্গে এ ব্যাপারে আমার সরাসরি কথা হয়নি।

রুমা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ শামসুল আলম বলেন, বিষয়টি মৌখিকভাবে শোনার পর গ্যালেঙ্গ্যা ইউপি চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা হয়েছে। ওই কিশোরদের জন্য যা করা প্রয়োজন তা করার জন্য বলে দিয়েছি। এতে কাজ না হলে লিখিত অভিযোগ পেলে যথাযথ নিয়মে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগে দলীয় প্রার্থী নিয়ে নৌকা প্রতীকে জয়ী হন চেয়ারম্যান শৈউসাই মারমা। তবে এর আগের দুই স্থানীয় সরকার পরিষদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জয় লাভ করেন তিনি।

সৈকত দাশ/এএম/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]