দক্ষিণাঞ্চলের যাত্রীদের ঈদযাত্রা এবারও স্বস্তির নয়

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ফরিদপুর
প্রকাশিত: ১১:০৭ এএম, ৩০ মে ২০১৯

আসন্ন ঈদে সড়ক পথে দক্ষিণাঞ্চলের যাত্রীদের বাড়ি ফেরা এবারও খুব একটা স্বস্তিদায়ক হবে না। ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে ৬ লেন উন্নয়নের কাজ চলায় বিড়ম্বনায় পড়তে হবে যাত্রীদের। আর ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে দীর্ঘ পথে সড়কের পাশের এজিনের মাটি সরে যাওয়ায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি রয়েছে। এছাড়া ঈদকে কেন্দ্র করে এই দুই মহাসড়কে কয়েকগুণ অবৈধ যানবাহনের দৌরাত্ম বেড়েছে।

সরেজমিন পরিদর্শন ও একাধিক সূত্রে জানা যায়, ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের ঢাকার বাবুবাজার থেকে শিবচরের কাঁঠালবাড়ি ঘাট হয়ে ফরিদপুরের ভাঙ্গা পর্যন্ত ৫৬ কিলোমিটার মহাসড়ক ২ লেন থেকে ৬ লেনের কাজ চলছে দ্রুত গতিতে। মহাসড়কের কাজে বিপুল সংখ্যক গাড়ি ও মালামাল লোড-আনলোড করায় এবারের ঈদে যাত্রীদের ভোগান্তি হবে। গুরুত্বপূর্ণ এই মহাসড়কের সেতু ও কালভার্টগুলো ভেঙে ডাইভারশন তৈরি করায় যানজটের আশঙ্কা রয়েছে। রয়েছে কর্দমাক্ত পরিবেশও। এছাড়া মালিগ্রাম, পুলিয়া ও বগাইল এলাকায় এখনও সড়কের কাজ চলছে।

এদিকে জরাজীর্ণ ও ভাঙ্গাচুরার কারণে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে গত কয়েক বছরের ঈদসহ সারা বছরই দক্ষিণাঞ্চলের যাত্রীরা অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহালেও এবার অনেকটাই স্বস্তি রয়েছে। মহাসড়কটির টেকেরহাট থেকে মোস্তফাপুর পর্যন্ত ১৮ কিলোমিটার অংশ সংস্কার করায় কিছুটা উন্নতি হয়েছে। বড়ইতলা থেকে টেকেরহাট পর্যন্ত ১৩ কিলোমিটার অংশ এবং মোস্তফাপুর থেকে ভুরঘাটা পর্যন্ত ৯ কিলোমিটার অংশ আগেই সংস্কার হওয়ায় পরিস্থিতি মোটামুটি সহনীয়।

Highway

ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের মালিগ্রাম ও পুলিয়া, ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের বড়ইতলা, ভুরঘাটাসহ কয়েকটি স্থানে অস্থায়ী বাজার রয়েছে। দুই লেনের সরু অতি ব্যস্ত মহাসড়কজুড়েই পাশের এজিনের মাটি সরে যাওয়ায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি রয়েছে। রয়েছে অবৈধ যানবাহনের ছড়াছড়িও।

পরিবহন চালক হালিম মিয়া বলেন, ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে ৬ লেনের কাজ চলমান থাকায় অনেক স্থানে ওয়ানওয়ে হয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। আর প্রতিনিয়ত মহাসড়কের কাজে নিয়োজিত বিভিন্ন গাড়ি মালামাল লোড-আনলোড করায় গাড়ির জট বাঁধার আশঙ্কা রয়েছে। ঈদের সময় উন্নয়ন কাজ বন্ধ রাখা ও অতিরিক্ত ট্রাফিক পুলিশ দায়িত্বে রাখা প্রয়োজন। তা না হলে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।

Highway

ট্রাক চালক ইমরান হোসেন বলেন, ঈদের সময় মহাসড়কে যানবাহনের ভয়াবহ চাপ সৃষ্টি হয়। মহাসড়কের কয়েক স্থানে অস্থায়ী বাজার বসে। এতে গাড়ি চালনায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়। আর নসিমন, করিমনের দৌরাত্ম তো আছেই। অন্তত ঈদের কয়েকদিন এগুলো প্রশাসনের দেখা উচিৎ।

ফরিদপুরের ভাঙ্গা হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ মাহফুজার রহমান বলেন, ঈদের সময় মহাসড়কে গাড়ির চাপ বাড়বে। তাই যাতে কোথাও কোনো যানজট সৃষ্টি না হয় তার জন্য ঈদের কয়েকদিন আগে থেকেই অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়ন করা হবে। মহাসড়কে অবৈধ যানবাহন প্রবেশ করতে দেয়া হবে না। আর অস্থায়ী হাট-বাজার যেন কোথাও না বসতে পারে সে ব্যাপারে পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।

বি কে সিকদার সজল/এমএসএইচ/জেআইএম

আপনার মতামত লিখুন :