দিনমজুরের পা ভেঙে দেয়া সেই এএসআই ক্লোজড

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক রাজশাহী
প্রকাশিত: ০৮:১৮ পিএম, ১৪ জুন ২০১৯

চাঁদা না পেয়ে দিনমজুর সাইদুল ইসলামের পা ভেঙে দেয়া এএসআই হাফিজুর রহমানকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে জেলার দুর্গাপুর থানা থেকে তাকে পুলিশ লাইনে প্রত্যাহার করা হয়।

এর আগে বিকেলে তাকে প্রত্যাহারের আদেশ দেন পুলিশ সুপার মো. শহিদুল্লাহ। আগের সংবাদটি পড়ুন : ছেলের সামনে পিটিয়ে বাবার পা ভেঙে দিলেন এএসআই

গত সোমবার রাতে ছেলেকে ছাড়াতে সাইদুল ইসলামের কাছে ২০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন এএসআই হাফিজুর রহমান। ঘুষ দিতে রাজি না হওয়ায় বাঁশ দিয়ে পিটিয়ে সাইদুলের বাম পা ভেঙে দেন ওই এএসআই।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহমুদুল হাসান বলেন, এএসআই হাফিজুর রহমান সাইদুলকে মারধর করেছেন-প্রাথমিক তদন্তে এর প্রমাণ পাওয়া গেছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তে তাকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। ঘটনার আরও তদন্ত করছে পুলিশ।

প্রসঙ্গত, বিশ হাজার টাকা ঘুষ না পেয়ে সাইদুল ইসলাম (৪৮) নামে এক দিনমজুরের পা ভেঙে দেয় পুলিশ। গত সোমবার রাত ১০টার দিকে রাজশাহী দুর্গাপুরে চাঞ্চল্যকর এ কাণ্ড ঘটে।

আহত সাইদুল ইসলাম হোজা অনন্তকান্দি এলাকার বাসিন্দা। রাতেই তাকে উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নেয়া হয়। বাম পায়ের হাঁটুতে আঘাত নিয়ে বর্তমানে সেখানেই চিকিৎসাধীন সাইদুল ইসলাম।

সাইদুল ইসলামের অভিযোগ, দুর্গাপুর থানা পুলিশের সহকারী উপ-পরিদর্শক হাফিজ বাঁশ দিয়ে পিটিয়ে তার পা ভেঙে দিয়েছেন। ২০ হাজার টাকা ঘুষ চেয়ে না পাওয়ায় ক্ষুদ্ধ হয়ে এ কাণ্ড ঘটান এএসআই হাফিজ। ওই সময় তার ছেলে আসাদুল ইসলাম সেখানেই ছিলেন।

সাইদুল ইসলামের ভাষ্য, সম্প্রতি পারিবারিক বিরোধের জেরে পুত্রবধূ ছেলে আসাদুলের নামে থানায় অভিযোগ দেয়। এরপর সোমবার রাতে এএসআই আসাদুলকে গ্রেফতার করেন। তাকে থানায় না নিয়ে সোজা নিয়ে যান হোজা অনন্তকান্দি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে। খবর পেয়ে ছেলেকে ছাড়াতে সেখানে পৌঁছান তিনি। ওই সময় ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে ছেলেকে ছেড়ে দিতে রাজি হন এএসআই হাফিজ।

তিনি ঘুষ দিতে রাজি হননি। এতে ছেলের সামনেই তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগলাজ করেন ওই এএসআই। এক পর্যায়ে পকেটে থাকা ৯০০ টাকা তুলে দেন ওই পুলিশ সদস্যদের হাতে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে বাঁশ দিয়ে পিটিয়ে তার বাম পা ভেঙে দেন। আহত সাইদুলকে উদ্ধার করে রাতেই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নেন স্থানীয়রা। পরে গভীর রাতে তার ছেলে আসাদুলকে ছেড়ে দেন এএসআই হাফিজ।

জানতে চাইলে দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের আবাসিক মেডিকেল অফিসার আসফাক হোসেন বলেন, সাইদুল ইসলাম বাম পায়ের হাঁটুতে গুরুতর আঘাত পেয়েছেন। ধারণা করা হচ্ছে হাড় ভেঙে গেছে। হাসপাতালেই তার চিকিৎসা চলছে।

জানতে চাইলে এই অভিযোগ অস্বিকার করেন এএসআই হাফিজ। তিনি দাবি করেন, সোমবার রাতে তিনি আসাদুল নামে কাউকে আটক করেননি। ঘুষ দাবি করে কাউকে নির্যাতনও করেননি তিনি।

এমন ঘটনা জানা নেই বলে জানিয়েছেন দুর্গাপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল মোতালেব। অভিযোগের সত্যতা পেলে জড়িত পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে আইনত ব্যবস্থা নেয়ার কথাও জানান তিনি।

ফেরদৌস/এমএএস/পিআর