হাসপাতালে নেয়ার পথে ছাত্রীকে যৌন নিপীড়ন, শিক্ষক গ্রেফতার

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি মানিকগঞ্জ
প্রকাশিত: ০৫:৩১ পিএম, ১০ জুলাই ২০১৯

মানিকগঞ্জের দৌলতপুরে ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে শরিফুল ইসলাম সেন্টু (৩৬) নামে এক শিক্ষককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ওই শিক্ষার্থীর বাবা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করলে মঙ্গলবার রাতে তাকে গ্রেফতার করা হয়। আজ বুধবার দুপুরে ৫ দিনের রিমান্ড চেয়ে তাকে আদালতে পাঠানো হয়।

অভিযুক্ত শরিফুল ইসলাম সেন্টু দৌলতপুর প্রমোদা সুন্দরী মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিষয়ের শিক্ষক ও স্থানীয় মৃত মাঈনুদ্দিন খোশনবিশের ছেলে।

মামলার অভিযোগ ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিপীড়নের শিকার ওই মেয়েটির বাবা একজন অটোরিকশাচালক। বাদীর মা প্রায়ই শিক্ষক শরিফুল ইসলাম সেন্টুর বাড়িতে বিভিন্ন কাজকর্মের সহযোগিতা করেন। গত জানুয়ারি মাসে প্রথমে তিনি তার নাতনিকে নিয়ে ওই বাড়িতে গেলে শিক্ষক সেন্টু তাকে যৌন নিপীড়ন করেন। এরপর স্কুলেও একাধিকবার ওই শিক্ষার্থীকে নানাভাবে যৌন নিপীড়ন ও ধর্ষণের চেষ্টা চালান তিনি। ওই ছাত্রী বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের জানালেও লোক-লজ্জার ভয়ে এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি তারা।

মঙ্গলবার দুপুরে স্কুল প্রাঙ্গণে সহপাঠীদের সঙ্গে ফুটবল খেলার সময় শ্বাসকষ্টে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে ওই ছাত্রী। তাকে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরবর্তীতে মুন্নু মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়ার পথেও সেন্টু তাকে যৌন নিপীড়ন চালায়।

মুন্নু মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই ছাত্রী লম্পট শিক্ষক শরিফুল ইসলাম সেন্টুর দ্বারা যৌন নিপীড়ন হওয়ার ঘটনা কয়েকজন নার্স ও চিকিৎসকদের কাছে জানায়। পরে তারা বিষয়টি পুলিশকে জানালে বিষয়টি জানাজানি হয়।

দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুনীল কর্মকার জানান, হাসপাতালে ওই ছাত্রীর সঙ্গে কথা হয়েছে। সে কাঁদতে কাঁদতে ওই শিক্ষকের দ্বারা যৌন হয়রানির হওয়ার বর্ণনা দিয়েছে। এ ঘটনায় ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করলে মঙ্গলবার রাতেই সেন্টুকে গ্রেফতার করা হয়। আজ বুধবার ৫ দিনের রিমান্ড চেয়ে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। রিমান্ড মঞ্জুর হলে ঘটনা সম্পর্কে তাকে বিস্তারিতভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

ওসি আরও জানান, শিক্ষক সেন্টু অন্য কোনো শিক্ষার্থীর সঙ্গে একই ঘটনা ঘটিয়েছে কি-না সে বিষয়েও তদন্ত করা হচ্ছে।

বি এম খোরশেদ/এমবিআর/পিআর