টাঙ্গাইলে গুজবে তিন যুবককে গণপিটুনি

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি টাঙ্গাইল
প্রকাশিত: ০৮:৪৩ পিএম, ২১ জুলাই ২০১৯

টাঙ্গাইলে ছেলে ধরা সন্দেহে পৃথকস্থানে তিন যুবককে গণপিটুনি দিয়ে রোববার পুলিশে সোপর্দ করেছে সাধারণ মানুষ। পুলিশ আটক যুবকদের চিকিৎসার জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেছে।

টাঙ্গাইল সদর উপজেলার গালা ইউপি সদস্য মো. মজনু মিয়া জানান, রোববার সকালে তিনি জানতে পারেন কান্দিলা বাজারে ছেলে ধরা সন্দেহে আকাশ নামে একজনকে মারধর করা হচ্ছে। তাৎক্ষণিকভাবে বাজারে গিয়ে দেখতে পান ওই লোকটাকে ঘিরে অনেক মানুষ দাঁড়িয়ে আছে। বিষয়টি পুলিশে জানানোর পর ঘটনাস্থল থেকে গণপিটুনির শিকার ওই যুবককে উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। আকাশ গাজীপুরের জয়দেবপুর উপজেলার মৃত আব্দুর রহমানের ছেলে।

টাঙ্গাইল সদর ফাঁড়ির পরিদর্শক মো. মোশারফ হোসেন জানান, ছেলে ধরা সন্দেহে গণপিটুনিয়ের শিকার আকাশ খুবই অসুস্থ, কথা বলতে পারছে না। তিনি ছেলে ধরা কিনা তা এখনও নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

অপরদিকে, টাঙ্গাইল পৌরসভার শান্তিকুঞ্জমোড়ে এক যুবককে ছেলে ধরা সন্দেহে স্থানীয়রা গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে। পুলিশ তাকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেছে। তবে এখনও তার নাম-পরিচয় জানা যায়নি। টাঙ্গাইল মডেল থানা পুলিশের পরিদর্শক (ইন্টিলিজেন্স অ্যান্ড কমিউনিটি পুলিশিং) মো. সালাউদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এছাড়াও কালিহাতী উপজেলার পালিমা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ছেলে ধরা সন্দেহে এক যুবককে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে স্থানীয় জনতা। পুলিশ তাকে প্রথমে কালিহাতী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। এ খবর পেয়ে স্থানীয় শত শত জনতা আটক ওই ছেলে ধরার শাস্তির দাবিতে হাসপাতাল এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করতে শুরু করে। এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে গণপিটুনির শিকার ওই যুবকের শারীরিক অবস্থা অবনতি হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে কালিহাতী থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) ফারুক জানান, রোববার দুপুরে ছেলে ধরা সন্দেহে গণপিটুনির শিকার যুবককে কালিহাতী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য পুলিশি প্রহরায় টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে গণপিটুনির শিকার যুবকের নাম পরিচয় জানা যায়নি।

এ সময় তিনি আরও বলেন টাঙ্গাইল জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে আইন হাতে তুলে নিতে নিষেধ করা হয়েছে। কারও আচরণ সন্দেহজনক হলে পুলিশে জানানোর অনুরোধ করা হয়েছে। এ বিষয়ে জেলা পুলিশের তরফে জরুরি ভিত্তিতে মাইকিং করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

আরিফ উর রহমান টগর/এমএএস/পিআর

আপনার মতামত লিখুন :