রাজস্ব এক লাখ, ঘুষ ২০ লাখ টাকা
সুন্দরবনে বনজীবীদের প্রবেশের জন্য বোট লাইসেন্স সনদপত্র (বিএলসি) নবায়ন ১ জুলাই থেকে শুরু হয়েছে। এখনো বিএলসি নবায়ন কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
পশ্চিম সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের চারটি স্টেশনে শুক্রবার পর্যন্ত ৩২০০ বিএলসি নবায়ন সম্পন্ন হয়েছে। সে হিসাবে দেখা যায়, এখন পর্যন্ত এক লাখ টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে। একই সঙ্গে ঘুষ আদায় হয়েছে ২০ লাখ টাকা।
শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নের বনজীবী আনছার আলী, মোন্তেজ ঢালী, মোবারেক মোল্যা, দাতিনাখালী এলাকার রজব আলী, কওসার গাজী, আমিনুর রহমান জানান, সুন্দরবনে বনদস্যুর তাণ্ডবে প্রায় এক যুগ নাজেহাল হয়েছে বনজীবীরা। বর্তমানে দস্যুর হাত থেকে মুক্ত হয়েছে বনজীবীরা। তবে বন বিভাগের অসাধু বনরক্ষীদের হাত থেকে রক্ষা মেলেনি।
বনজীবীরা বলেন, প্রতি বিএলসি নবায়নে সরকার প্রতি নৌকার জন্য ৬-২৫ টাকা পর্যন্ত রাজস্ব নির্ধারণ করে দিয়েছে। কিন্তু পশ্চিম সুন্দরবনের কৈখালী স্টেশন কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলাম, কদমতলা স্টেশন কর্মকর্তা নুরুল আলম, বুড়িগোয়ালীনি স্টেশন কর্মকর্তা মো. আক্তারুজ্জামান ও কোবাতক স্টেশন কর্মকর্তা মো. বেলাল হোসেন প্রতি বিএলসিতে ৬০০ থেকে এক হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুষ আদায় করছেন। ক্ষেত্র বিশেষ ঘুষ আদায়ের পরিমাণ দাঁড়ায় দুই হাজার টাকা পর্যন্ত। শুক্রবার পর্যন্ত বনজীবীদের কাছ থেকে সরকারি রাজস্ব আদায় করা হয়েছে এক লাখ টাকার অধিক আর ঘুষ আদায় করা হয়েছে সব মিলিয়ে ২০ লাখ টাকার অধিক। বনজীবীদের কাছ থেকে এ ঘুষ আদায় বন্ধ করা জরুরি।
বিএলসি নবায়নে ঘুষ বাণিজ্যের বিষয়টি স্বীকার করে সুন্দরবন স্টেশনের এক বন কর্মকর্তা (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) বলেন, ঘুষ আদায়ের বিষয়টি সত্য। তবে এই টাকার ভাগ-বাটোয়ারা বিভিন্ন মহলে চলে যায়। বন কর্মকর্তাদের হাতে খুব বেশি টাকা থাকে না।

এসব অভিযোগের বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য এসএম জগলুল হায়দার বলেন, ঘুষ আদয়ের বিষয়টি শুনেছি। ঘুষ আদায়ের বিষয়টি বন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীকে জানিয়ে ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ করব।
তবে ঘুষ আদায়ের বিষয়টি অস্বীকার করে কদমতলা বন স্টেশন কর্মকর্তা নুরুল আলম জাগো নিউজকে বলেন, ঘুষ আদায়ের অভিযোগ সঠিক নয়। বিএলসি দেয়ার জন্য নৌকার ইউনিট প্রতি পাঁচ টাকা সরকার নির্ধারিত ফি নেয়া হয়। এছাড়া ভ্যাট রয়েছে ১৫%।
তিনি বলেন, এই অঞ্চলের বনজীবীরা নৌকার বিএলসি নিয়ে দাদন দিয়ে রাখেন। সাতক্ষীরা রেঞ্জে সমস্যাটা প্রকট। দাদনের দালালরা বনজীবীদের কাছ থেকে কত টাকা নেয় সেটি আমাদের জানার বিষয় নয়। আমরা বেশি টাকা আদায় করেছি সেই অভিযোগ কেউ করতে পারবে না। এই সমস্যা শুধু আমার স্টেশনে নয়, পাশের সবগুলো বন স্টেশনে রয়েছে একই সমস্যা। দালালদের কারণে বেশি টাকা দিতে হয় বনজীবীদের। এজন্য বন কর্মকর্তারা দায়ী নয়।
আকরামুল ইসলাম/এএম/এমকেএইচ