ছেলের সামনে বাবাকে পিটিয়ে রক্তাক্ত করলেন পুলিশ কর্মকর্তা
নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলায় চাঁদা না পেয়ে বাবুল আক্তার নামে এক কমিউনিটি পুলিশিং সদস্যকে থানায় ডেকে নির্মমভাবে নির্যাতন করেছেন পুলিশের এক উপপরিদর্শক (এসআই)।
এ ঘটনায় বড়াইগ্রাম থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) আশরাফ আলীর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। রোববার বড়াইগ্রাম আমলী আদালতের বিচারক মো. খোরশেদ আলমের আদালতে মামলাটি করা হয়। মামলাটি আমলে নিয়ে বড়াইগ্রামের সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছেন বিচারক মো. খোরশেদ আলম।
নির্যাতনের শিকার বাবুল আক্তারের বড় ভাই গোলাম মোস্তফা বাদী হয়ে মামলাটি করেছেন। অভিযুক্ত পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) আশরাফ আলী বড়াইগ্রাম থানায় কর্মরত রয়েছেন।
বাদীর পক্ষে এ মামলা পরিচালনা করবেন লিগ্যাল এইডের আইনজীবী মো. মুঞ্জুরুল আলম। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে তিনি বলেন, এই ঘটনায় এর আগে পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়েছিল। পরে মামলা করা হয়।
এর আগে এ ঘটনায় নাটোর-পাবনা মহাসড়কের রাজাপুর বাজারে বাবুলকে নির্যাতনের প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে এলাকাবাসী। এরপরও অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, ১৯ জুলাই উপজেলার রাজাপুর আস্তিকপাড়া গ্রামের কমিউনিটি পুলিশিং সদস্য বাবুল আক্তারের চার বছরের ছেলে হারেজের সঙ্গে খেলতে গিয়ে প্রতিবেশী জয়নালের ছেলে বোরহানের হাতাহাতি হয়। পরে স্থানীয় লোকজন তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি মীমাংসা করে দেন।
কিন্তু জয়নাল মীমাংসা অগ্রাহ্য করে থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। ২২ জুলাই বাবুল আক্তার ও তার ছেলে হারেজকে থানায় ডেকে নেন এসআই আশরাফ। তারা থানায় গেলে এসআই আশরাফ আলী এক লাখ টাকা দাবি করেন। চাঁদা দিতে রাজি না হওয়ায় শিশু হারেজকে থানা হাজতে আটকে রেখে তার সামনেই বাবা বাবুলকে বাঁশের লাঠি দিয়ে কোমর, পিঠ ও পাছায় বেধড়ক পেটাতে থাকেন এসআই আশরাফ।
একপর্যায়ে বাবুল অজ্ঞান হয়ে যান। খবর পেয়ে বাবুলের স্ত্রী ও বড় ভাই গোলাম মোস্তফা থানায় যান। সেখান থেকে বাবুলকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করেন তারা। বর্তমানে নাটোর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বাবুল।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বড়াইগ্রাম থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) আশরাফ আলী বলেন, বাবুলকে মারপিটের বিষয়টি সঠিক নয়। আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করছে বাবুলের পরিবার।
রেজাউল করিম রেজা/এএম/জেআইএম