‘মামা গাড়ি ঘোরাও, ঢাকা যাইগা’

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি টাঙ্গাইল
প্রকাশিত: ০৩:৫৮ পিএম, ১০ আগস্ট ২০১৯

‘মামা গাড়ি ঘোরাও, ঢাকা যাইগা।’ শনিবার দুপুরে ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কের টাঙ্গাইল অংশের নগরজলফৈ বাইপাসে যানজটে আটকে থাকা ঢাকায় একটি বেসকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত রিপন মিয়া নামের কুড়িগ্রামের এক যাত্রী এমন ক্ষোভ প্রকাশ করে চালককে উদ্দেশে একথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘আজ (শনিবার) ভোরে ঢাকা থেকে রওনা দিয়েছি। এখন দুপুর দেড়টা। যানজটে এখনও এখানেই (টাঙ্গাইলের বাইপাস নগরজলফৈ এলাকায়) আটকে আছি। তাহলে কুড়িগ্রামে কখন পৌঁছাব? এ নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছি।’

janjot

মহাসড়কের রাবনা বাইপাস এলাকায় যানজটে আটকা থাকা ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা শাহজাদপুর ট্রাভেলসের বাসযাত্রী ও পোশাক শিল্প প্রতিষ্ঠানে কর্মরত পারভীন জানান, বৃহস্পতিবার ছুটি হলেও যানজটমুক্তভাবে বাড়ি ফেরার আশায় আজ ভোরে ঢাকা থেকে দুই শিশু কন্যাকে নিয়ে রওনা দিয়েছি। তবে আজকেও দেখছি ভয়াবহ যানজট। দুপুর গড়ালেও যানজটে টাঙ্গাইলের নগরজলফৈ বাইপাসে আটকা রয়েছি। কখন বাড়ি ফিরব তা বুঝতে পারছি না। এর মধ্যে প্রচণ্ড গরমে ছোট ছোট দুটি বাচ্চা নিয়ে চরম দুভোর্গ পোহাতে হচ্ছে।

কুড়িগ্রামগামী হানিফ পরিবহনের বাসচালক আব্দুর রহিম জানান, ভোরে ঢাকা থেকে রওনা দিলেও যানজটের কারণে এই দুপুর বেলাতেও টাঙ্গাইলের নগরজলফৈ বাইপাসে পৌঁছেছি। সেতু পর্যন্ত কখন পৌঁছাব আর সেতুর পশ্চিম অংশে যানজটের কী অবস্থা তা নিয়েই ভাবছি। ঘণ্টার পর ঘণ্টা এভাবে যানজটে আটকে থেকে বাস চালাতে চরম বিরক্ত লাগছে।

janjot

রংপুরগামী এস আর ট্রাভেলসের বাসচালক মতিন মিয়া বলেন, ভোরে রওনা দিয়েও এখন (দুপুরে) মাত্র টাঙ্গাইলে পৌঁছেছি। রংপুরে যে কখন পৌছাব তা আল্লাহই জানেন। এর ওপর আজকের গরমে অতিষ্ট হয়ে উঠেছি।

ঢাকা টাঙ্গাইল বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কের তারুটিয়া আন্ডারপাস এলাকায় দায়িত্বরত পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) শরীফ জানান, সেতুর পশ্চিম অংশের সিরাজগঞ্জ জেলার নলকা ব্রিজ, হাটিকুমরুল আর কড্ডা মোড় এলাকায় পরিবহন টানতে না পারার কারণে সেতু পূর্ব অংশ টাঙ্গাইল মহাসড়কে এ যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। তবে টাঙ্গাইল অংশের পাকুল্লা, নগরজলফৈ, রাবনা আর এলেঙ্গা বাইপাস ছাড়া প্রায় সকল অংশেই যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। তবে বিকেলের দিকে যান চলাচল স্বাভাবিক হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

janjot

মহাসড়কের এ যানজট নিরসনে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রট, পুলিশের ৬৭০ জন পুলিশ সদস্য, ১৯০ জন আনসার সদস্য কাজ করছেন। এছাড়াও মহাসড়কে মলম পার্টি আর ছিনতাইয়ের কবলমুক্ত থেকে ঘরমুখো মানুষের বাড়ি ফেরা নিশ্চিতে তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন সাদা পোশাকের পুলিশ আর র‌্যাব বলেও জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।

আরিফ উর রহমান টগর/এমবিআর/জেআইএম