ব্যানারে মেয়ের ছবি দেখে কান্নায় ভেঙে পড়লেন রুপার মা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি সিরাজগঞ্জ
প্রকাশিত: ০৫:০২ পিএম, ২৫ আগস্ট ২০১৯

টাঙ্গাইলের মধুপুরে চলন্ত বাসে আলোচিত কলেজছাত্রী জাকিয়া সুলতানা রুপাকে গণধর্ষণ ও হত্যার দুই বছর পূর্ণ হলো আজ (রোববার)। সকালে তাড়াশ প্রেস ক্লাবের সামনে হত্যাকারীদের রায় দ্রুত কার্যকরের দাবিতে মানববন্ধন করেন রুপার পরিবারের সদস্যরা।

মানবন্ধনের আগে প্রেস ক্লাবের হলরুমে ব্যানারে মেয়ের ছবি দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন রুপার মা হাসনাহেনা বেগম (৫৭)। তিনি বিলাপ করতে থাকেন এবং রুপার ছবিতে বারবার চুমো খেতে থাকেন। একপর্যায়ে শারীরিকভাবে কিছুটা অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি।

হাসনাহেনা বেগম বলেন, মা আর অসহায় ভাই-বোনদের জন্য সবকিছু করার প্রবল ইচ্ছা প্রকাশ করত রুপা। স্বপ্ন দেখত উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে একদিন বড় কর্মকর্তা হবে। এখন একটাই দাবি দ্রুত আসামিদের রায় কার্যকর করা হোক। আমার জীবদ্দশায় মেয়েকে হত্যাকারীদের রায় কার্যকর দেখে যেতে চাই।

রুপার বড় ভাই হাফিজুর রহমান বলেন, দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা ২০১৮ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি খালাস চেয়ে হাইকোর্টে আপিল করেন। এরপর গত ১৯ মাসেও চাঞ্চল্যকর এ মামলায় শুনানি শুরু হয়নি। নিম্ন আদালতে দ্রুততম সময়ে মামলার রায় ঘোষণায় আমরা সন্তুষ্ট হয়েছিলাম। তবে উচ্চ আদালতে আসামি পক্ষের আপিলের পর মামলাটি গত দেড় বছর ঝুলে থাকায় হতাশ হয়ে পড়েছি।

rupa

হাফিজুর রহমান আরও বলেন, ক্ষতিপূরণ হিসেবে ছোঁয়া পরিবহনের বাসটি পরিবারকে দেয়ার যে আদেশ আদালত দিয়েছেন তাও কার্যকর করা হয়নি। বিচারের সর্বশেষ পর্যায়ে যেতে কতদিন সময় লাগবে জানা নেই। ততদিনে হয়তো বাসটি ভাঙারি হিসেবে বিক্রি করতে হবে। এতে ক্ষতিপূরণ পাওয়ার আশাও ক্ষীণ।

মানববন্ধনে রুপার মা ও বড় ভাই ছাড়াও ছোট ভাই উজ্জ্বল হোসেন ও উজ্জ্বলের স্ত্রী টুম্পা খাতুন অংশ দেন।

প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট বগুড়া থেকে ময়মনসিংহ যাওয়ার পথে চলন্ত বাসে রুপাকে গণধর্ষণের পর হত্যা করে টাঙ্গাইলের মধুপুর বন এলাকায় ফেলে যাওয়া হয়। সেখান থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে মধুপুর থানা পুলিশ। পরিচয় না মেলায় ২৬ আগস্ট ময়নাতদন্ত শেষে বেওয়ারিশ হিসেবে টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় কবরস্থানে দাফন করা হয়। পত্রিকায় প্রকাশিত ছবি দেখে তার ভাই হাফিজুর রহমান মধুপুর থানায় গিয়ে ছবির ভিত্তিতে বোনকে শনাক্ত করেন। পরে ৩১ আগস্ট রুপার মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন করে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ওইদিন রাতেই সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলায় রুপার মরদেহ তার গ্রাম আসানবাড়ি কবরস্থানে দাফন করা হয়। রুপা ওই গ্রামের মৃত জেলহাজ প্রামাণিকের মেয়ে। তিনি একটি বহুজাতিক কোম্পানির কর্মী ছিলেন। পাশাপাশি ঢাকার আইডিয়াল ল’ কলেজে পড়াশোনা করতেন।

এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মধুপুর থানায় হত্যা মামলা করে। ঘটনায় জড়িত অভিযোগে ময়মনসিংহ-বগুড়া সড়কের ছোঁয়া পরিবহনের হেলপার শামীম (২৬), আকরাম (৩৫) ও জাহাঙ্গীর (১৯) এবং চালক হাবিবুর (৪৫) ও সুপারভাইজার সফর আলীকে (৫৫) গ্রেফতার করে পুলিশ। তারা প্রত্যেকেই আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

২০১৮ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি মামলার রায়ে চারজনের ফাঁসির আদেশ দেন আদালত। এছাড়া একজনের সাত বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়। পরে আসামিরা উচ্চ আদালতে আপিল করেন। আপিলের ১৯ মাস পেরিয়ে গেলেও এ মামলার এখনও শুনানি শুরু হয়নি।

ইউসুফ দেওয়ান রাজু/এমবিআর/পিআর