টাকার অভাবে শরিফাকে ঢাকায় আনতে পারছেন না বাবা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি সাতক্ষীরা
প্রকাশিত: ০৬:২৩ পিএম, ০৩ অক্টোবর ২০১৯

সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার কঁড়াগাছি ইউনিয়নের হরিণা মাঝেরপাড়া গ্রামের আশরাফুল ইসলামের মেয়ে শরিফা খাতুন। বয়স ৮ বছর। জন্ম থেকেই প্রতিবন্ধী। মাথায় শিং আকৃতির টিউমারে আক্রান্ত শরিফা। ভ্যানচালক বাবা আশরাফুল ইসলাম মেয়ের চিকিৎসার কোনো কমতি রাখেননি। সাতক্ষীরা থেকে নিয়ে গেছেন ঢাকায়ও। তবে চিকিৎসকরা পরে যাওয়ার কথা বললেও টাকার অভাবে আর যেতে পারেননি ঢাকায়।

শরিফার বাবা ভ্যানচালক আশরাফুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, ‘জন্ম থেকেই শরিফা প্রতিবন্ধী। এরপর মাথায় শিং আকৃতির টিউমার দেখা দেয়। সাতক্ষীরা, খুলনা ও যশোরের বিভিন্ন ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেছি। ওষুধ দিয়েছেন ডাক্তাররা তবুও কোনো লাভ হয়নি। এরপর বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে সহযোগিতা তুলে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকদের পরামর্শে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাই। সেখানকার চিকিৎসকরা শরিফাকে দেখে বলেন, অবস্থা খুব বেশি ভালো নয়। তাকে অপারেশন করতে হবে। এরপর সেখান থেকে সার্জারি বিভাগে পাঠায়।’

তিনি আরও বলেন, সার্জারি বিভাগে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর জানায় অপারেশন করতে হবে। ফেব্রুয়ারিতে বিদেশি একজন ডাক্তার এখানে আসবেন তাকে দেখিয়ে পরে ব্যবস্থা নেয়া হবে। কিন্তু টাকার অভাবে আর যেতে পারিনি। ভ্যান চালিয়ে যা রোজগার হয় তা দিয়ে সংসার চালিয়ে মেয়ের চিকিৎসার জন্য আর টাকা জমাতে পারিনি। শরিফা এখন বাড়িতেই রয়েছে মাথা দিয়ে পানি বের হচ্ছে।

শরিফার মা ফাহিমা বেগম বলেন, ২০১১ সালের ৩ জুন শরিফার জন্ম। জন্ম থেকেই মাথার ওপরের অংশ অস্বাভাবিক ছিল। মাথার পেছনের অংশে দুটো লাল দাগ ছিল। সেই লাল দাগ থেকে শিংয়ের মতো টিউমার হয়েছে।

কেড়াগাছি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আফজাল হোসেন হাবিল জাগো নিউজকে বলেন, আশরাফুলের পারিবারিক অবস্থা ভালো নয়। ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে একটি প্রতিবন্ধী কার্ড করে দিয়েছি। এছাড়া আমার কাছে এলে বিভিন্ন সময় সহযোগিতাও করেছি।

শরিফার চিকিৎসায় কেউ সহযোগিতা করতে চাইলে যোগাযোগ করতে পারেন এ নম্বরে ০১৭৬৫-০১১৫৯৪ (শরিফার বাবা ভ্যানচালক আশরাফুল)।

আকরামুল ইসলাম/এমএএস/জেআইএম