আন্দোলন কিভাবে প্রতিহত করতে হয় আ.লীগ জানে : হানিফ

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি মৌলভীবাজার
প্রকাশিত: ০৭:০৮ পিএম, ১২ অক্টোবর ২০১৯

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ বলেছেন, বহুদলীয় গণতন্ত্রের নামে সেনাবাহিনীর ১২০০ কর্মকর্তাকে বিনা বিচারে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে দিয়েছিলেন মেজর জিয়াউর রহমান।

তিনি বলেন, পরবর্তীতে আওয়ামী লীগের ৩৬ হাজার নেতাকর্মীকে হত্যা করেছেন মেজর জিয়ার স্ত্রী খালেদা জিয়া ও তাদের সন্তান তারেক জিয়া। তখন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের চোখে পানি আসেনি। মা-পুত্র মিলে দেশে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছেন, জঙ্গিবাদের জন্ম দিয়েছেন।

শনিবার দুপুরে মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে অংশ নিয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

হানিফ বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশকে উন্নত দেশের দিকে নিয়ে যাচ্ছেন। বিদ্যুৎ, কৃষি, আমদানি-রফতানি, তথ্য প্রযুক্তিসহ সর্বক্ষেত্রে যে উন্নয়ন হচ্ছে এসব মির্জা ফখরুল সাহেবের চোখে পড়ে না। তার চোখে ছানি পড়েছে নতুবা হিংসাপরায়ণ। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বহু স্বীকৃতি পেয়েছে বাংলাদেশ। বিশ্বের দরবারে দেশের ভাবমূর্তি ফুটিয়ে তুলেছেন শেখ হাসিনা। তারই দলের কর্মী আমরা। দু’একজন ব্যক্তির জন্য দলে কলঙ্ক লাগতে দেব না।

তিনি আরও বলেন, ক্যাসিনোকে কেন্দ্র করে দলে কলঙ্ক লাগানো হচ্ছে। অথচ জিয়াউর রহমান ১৯৭৭ সালে মদ-জুয়ার লাইসেন্স দিয়ে ক্যাসিনো শুরু করেছিলেন। লোকমান ও শামীম বিএনপি থেকে আসা। খালেদার কাছের লোক। শামীম কাদের মাসোহারা দিতেন তার ডায়েরিতে লেখা আছে। সেখানে বিএনপির তিন শীর্ষ নেতার সঙ্গে মির্জা ফখরুলের নামও আছে।

হানিফ বলেন, অপরাধীর কোনো দল নেই। আবরার হত্যার সঙ্গে জড়িত সবাইকে গ্রেফতার করা হয়েছে, সর্বোচ্চ শাস্তি দেয়া হবে। কোনো অপকর্মের সঙ্গে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। অপরাধীর ছাড় নেই।

আওয়ামী লীগকে আন্দোলনের হুমকি দিয়ে লাভ নেই উল্লেখ করে হানিফ বলেন, আওয়ামী লীগ অনেক শক্তিশালী সংগঠন। আন্দোলন কিভাবে করতে হয় এবং আন্দোলন কিভাবে প্রতিহত করতে হয় তা আওয়ামী লীগ জানে। আওয়ামী লীগের লাখ লাখ নেতাকর্মী যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত। হুমকি দিয়ে লাভ নেই।

জুড়ী শিশুপার্কে অনুষ্ঠিত উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনের উদ্বোধন করেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এমপি নেছার আহমদ। উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক মুক্তিযোদ্ধা বদরুল হোসেনের সভাপতিত্বে এতে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন- কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন ও অ্যাডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, মৌলভীবাজার জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা আজিজুর রহমান, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সদস্য ও কমলগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যাপক রফিকুর রহমান, বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন প্রমুখ।

রিপন দে/এএম/জেআইএম