আ.লীগের এক কমিটিতে সাড়ে ১৪ বছর পার

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নওগাঁ
প্রকাশিত: ০৮:৫৮ পিএম, ২১ অক্টোবর ২০১৯

নওগাঁর মান্দা উপজেলা আওয়ামী লীগের এক কমিটিতে সাড়ে ১৪ বছর পার হয়েছে। এ কমিটির ওপর শনি ভর করেছে বলে মনে করছেন স্থানীয় নেতারা।

ইতোপূর্বে দুবার সম্মেলনের দিন নির্ধারণ করা হলেও অদৃশ্য শক্তির ইশারায় তা স্থগিত হয়ে যায়। দীর্ঘদিন থেকে যারা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে আছেন তারা কমিটিকে কুক্ষিগত করে রেখেছেন।

তৃণমূল নেতাকর্মীদের দাবি, বর্তমান কমিটি ভেঙে আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হোক। সেই সঙ্গে উপজেলা আওয়ামী লীগকে চাঙা করতে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসীদের নিয়ে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নির্বাচনের মাধ্যমে কমিটি গঠন করা হোক।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, ২০০৫ সালের ১১ মে সিলেকশনের মাধ্যমে উপজেলা আওয়ামী লীগের কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটিতে মোল্লা এমদাদুল হককে সভাপতি ও স.ম জসিম উদ্দিনকে সাধারণ সম্পাদক করে ত্রিবার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ওই কমিটি দিয়ে ১৪ বছর ৫ মাস অতিবাহিত হয়েছে।

ইতোমধ্যে এই কমিটির কয়েকজন সদস্য মারা গেছেন। কমিটিতে কয়েকজন সরকারি চাকরিজীবী রয়েছেন। তারা হলেন- গোটগাড়ী শহীদ মামুন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের অধ্যক্ষ উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জহুরুল ইসলাম, রাজশাহী ল্যাবরেটরি স্কুলের শিক্ষক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নেকবর আলী, মান্দা মমিন শাহানা সরকারি ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক বেদারুল ইসলাম এবং মহাদেবপুর উপজেলা টিঅ্যান্ডটি অফিসে কর্মরত সাংস্কৃতিক সম্পাদক আয়ুব আলী সরদার।

দীর্ঘদিন থেকে এক কমিটি দিয়ে সাংগঠনিক কার্যক্রম চলায় অনেকটা নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছে এবং দলের মধ্যে ভাঙন সৃষ্টি হয়েছে। ক্ষমতায় টিকে থাকতে কমিটিকে কুক্ষিগত করে রেখেছেন সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক।

Naogaon-Manda-A-Leg

এদিকে, আসন্ন কাউন্সিলকে ঘিরে ইতোমধ্যে বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডে সভা সমাবেশ এবং প্রচার-প্রচারণা শুরু করেছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা।

মান্দা থানা যুবলীগের সভাপতি ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী অ্যাডভোকেট নাহিদ মোর্শেদ বলেন, দীর্ঘদিন পর থানা আওয়ামী লীগের কাউন্সিল হতে চলছে। আমি আশাবাদী তৃণমূল নেতাকর্মীরা আমাকে সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত করবেন। ৭-৮ বছর আগে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কাউন্সিল হয়েছিল।

সভাপতি পদপ্রার্থী আব্দুর রহমান বলেন, উপজেলায় দীর্ঘদিন এক কমিটি থাকায় দলের মধ্যে অনেকটাই নাজুক অবস্থায়। বর্তমান সভাপতি তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করেন না। নিজের মতকেই প্রাধান্য দিয়ে থাকেন। আমরা নির্বাচনের মাধ্যমে কমিটি চাই। তবে আহ্বায়ক কমিটি না হওয়ায় আমরা শঙ্কিত। কারণ উপজেলা কমিটি এখনো বহাল রয়েছে। আবারও তাদেরকে দায়িত্ব দেয়া হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে পরিচ্ছন্ন কাউন্সিল হোক এটাই আমাদের দাবি।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান স.ম জসিম উদ্দিন বলেন, আমি নির্বাচনের পক্ষে। এজন্য নির্বাচনের সার্বিক প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হচ্ছে। তবে কেন্দ্রের নেতৃবৃন্দ এসে বিভিন্ন প্রক্রিয়া অনুসন্ধানের পর যদি সিলেকশন করে, তাহলে আমাদের করার কিছুই থাকবে না। আমি দীর্ঘদিন থেকে রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। আমার বিরুদ্ধে যারা অভিযোগ করে তাদের পরামর্শ ভালো কিছু পেতে হলে অপেক্ষা করতে হবে।

মান্দা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোল্লা এমদাদুল হক বলেন, স্থানীয় এমপি মুহাম্মদ ইমাজ উদ্দিন প্রামাণিক যাকে ভালো মনে করবেন, তাকেই সিলেকশনের মাধ্যমে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করবেন। দলের মধ্যে কোনো ভাঙন হয়নি। যদি ভাঙন হতো তাহলে তিনটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমরা জয়লাভ করতে পারতাম না। তবে একটা গ্রুপ এখানে তাদের স্বার্থ উদ্ধারে কাজ করছে। ক্ষমতা কুক্ষিগত বা কাউকে বঞ্চিত করা হয়নি।

আব্বাস আলী/এএম/জেআইএম