নওগাঁয় রাস্তা নির্মাণে নিম্নমানের কাজের অভিযোগ

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নওগাঁ
প্রকাশিত: ০৯:৫০ পিএম, ২৬ অক্টোবর ২০১৯

নওগাঁ পৌরসভার গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের অধীনে শহরের রুবির মোড় থেকে ডিগ্রির মোড় পর্যন্ত ঢালাই রাস্তা নির্মাণে দ্বিতীয় প্যাকেজের নিম্নমানের কাজ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে স্থানীয়রা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার মৌখিকভাবে অভিযোগ করলেও কোনো লাভ হয়নি।

নওগাঁ পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের অধীনে রুবির মোড় থেকে ডিগ্রি মোড় পর্যন্ত ৮১৫ মিটার রাস্তার দুই প্যাকেজে দুইজন ঠিকাদার দিয়ে ঢালাইয়ের কাজ করানো হচ্ছে। কাজের মোট বরাদ্দ ১ কোটি ৬৩ লাখ ৩৬ হাজার টাকা। এর মধ্যে ঠিকাদার ফরিদউজ্জামানের অধীনে ৪০০ মিটার ও একটি ক্রসডেনসহ বরাদ্দ ৮১ লাখ ৭৭ হাজার টাকা এবং মেসার্স জনি কনস্ট্রাকশনের প্রোপাইটর জনির অধীনে ৪০০ মিটার থেকে ৮১৫ মিটারে (৪১৫ মিটার) বরাদ্দ ৮১ লাখ ৫৯ হাজার টাকা। গাইড ওয়ালসহ রাস্তা চওড়া ৬ মিটার, রাস্তার দুই পাশে গাইড ওয়ালের উচ্চতা ১৮ ইঞ্চি ও প্রস্থতা ১০ ইঞ্চি, ১০ মিলি রড, পাথর ৭ কড়াই, বালি ৪ কড়াই, সিমেন্ট ১ বস্তা এবং ঢালাই ৮ ইঞ্চি দেয়ার শর্ত রয়েছে।

দ্বিতীয় প্যাকেজের ৪১৫ মিটারের মধ্যে দি ল্যাব থেকে সদর হাসপাতাল মসজিদ পর্যন্ত (প্রায় ২০০ মিটার) রাস্তার এক পাশ অর্থাৎ রাস্তার পশ্চিম পাশে গত বুধবার ঢালাইয়ের কাজ সম্পূর্ণ হয়। তবে কাজটি নিম্নমানের হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। ঢালাইয়ের পর রাস্তা সমান হওয়ার কথা থাকলেও কোথাও উঁচু আবার কোথাও নিচু হয়েছে এবং পাথরগুলো এখনই উঠে যাচ্ছে। পাথরের ওপর সিমেন্ট-বালির মিশ্রণ থাকার কথা থাকলেও তা দেয়া হয়নি। ফলে অধিকাংশ জায়গায় পাথর উঠে যাচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শুভ ও মামুন বলেন, রাস্তার কাজ ভাল হয়নি। পাথর এখনই উঠে যাচ্ছে। কাজ ভাল করার জন্য আমরা ইঞ্জিনিয়ার ও ঠিকাদারকে বারবার বলেছি। তারা বিষয়টি গুরুত্ব দেয়নি। ৮ ইঞ্চির জায়গায় ৭ ইঞ্চি ঢালাই দেয়া হয়েছে। ঢালাইয়ের সময় মেশিন দিয়ে ভাইব্রেশন করার কথা থাকলেও তা করা হয়নি। কারণ ভাইব্রেশন করা হলে মসলা বেশি লাগবে। আবার রাস্তা ফিনিশিং করে দেয়া হবে বলে মিথ্যা আশ্বাস দেয়া হচ্ছে। অথচ পাশেই আরেক ঠিকাদার ভালমানের কাজ করছেন। আমাদের একটাই দাবি, ভাল মানের কাজ করা হোক।

Naogaon-Road

সেমার্স জনি কনস্ট্রাকশনের প্রোপাইটর জনি বলেন, দুইদিন আগেই কাজটি করা হয়েছে। ঢালাই এখনও ঠিকমতো জমাট বাঁধেনি। তবে কাজের কোনো ক্রুটি নাই। ভালো মানের কাজই করা হয়েছে এবং হচ্ছে।

কাজের কার্যসহকারী খোরশেদ আলম বলেন, কাজের কোনো সমস্যা নাই। যেভাবে কাজ হওয়ার কথা, ঠিক সেভাবেই কাজ হয়েছে। কোনো সমস্যা হয়নি।

নওগাঁ পৌরসভার উপ-সহকারী প্রকৌশলী আবু রায়হান মন্ডল বলেন, কাজ নিয়মিত তদারকি করা হয়েছে। কোনো সমস্যা হয়নি। তবে লোকবল কম থাকায় সবসময় সাইডে থাকা সম্ভব হয় না।

নওগাঁ পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, দ্বিতীয় প্যাকেজের একটি অংশে যে কাজ হয়েছে স্থানীয়রা সে বিষয়ে অভিযোগ করেছেন। উপ-সহকারী প্রকৌশলীদের কাজ সার্বক্ষণিক তদারকির জন্য রাখা হয়েছিল। যেহেতু অভিযোগ রয়েছে- সেহেতু ঠিকাদারকে কাজ ভাল করার জন্য সচেতন হতে বলা হয়েছে।

আব্বাস আলী/এমবিআর/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।