মা বিদেশে, ছেলেকে নির্যাতনের ভিডিও দিয়ে টাকা চাইলো বাবা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি হবিগঞ্জ
প্রকাশিত: ০২:১৯ পিএম, ০৬ নভেম্বর ২০১৯

হবিগঞ্জে জিসান মিয়া (৬) নামে এক শিশুকে নগ্ন করে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতনের দায়ে পুলিশ তার সৎ বাবাকে গ্রেফতার করেছে।

বুধবার ভোরে নবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিজুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে।

এছাড়া গুরুতর আহত শিশুটিকে স্থানীয়দের সহযোগিতায় উদ্ধার করে নানা বাড়িতে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় নির্যাতিত শিশুর মা সুমনা বেগম বাদী হয়ে নবীগঞ্জ থানায় মামলা করেছেন।

স্থানীয়রা জানান, কয়েক বছর আগে উপজেলার চরগাঁও গ্রামের সুফি মিয়ার সঙ্গে বিয়ে হয় সুমনার। তাদের সংসারে জন্ম নেয় এক ছেলে ও এক মেয়ে। এরপর সুফি মিয়া মারা গেলে সন্তানদের কথা চিন্তা করে তার ভাই স্বপন মিয়ার সঙ্গে বিয়েতে রাজি হন সুমনা। বিয়ের পর সংসারের অভাব-অনটন দূর করতে দুই মাস আগে গৃহকর্মীর কাজ নিয়ে পাড়ি জমান সৌদি আরবে।

কিন্তু সেখানে গিয়েও শান্তিতে থাকতে পারেননি। টাকার জন্য তার ছেলে-মেয়েদের নির্যাতন করতে থাকে স্বপন মিয়া। আর তা ভিডিও করে সুমনার কাছে পাঠানো হয়। যা দেখে তিনি সন্তানদের উদ্ধার করতে ধাপে ধাপে স্বপনের কাছে টাকা পাঠাতেন।

বিষয়টি এলাকাবাসীর নজরে এলে তারা স্থানীয় মুরুব্বিদের সহযোগিতায় জিসান ও তার বোনকে উদ্ধার করে মামার মাধ্যমে নানার বাড়ি পাঠিয়ে দেন।

স্বজনরা জানান, বাবা হারা দুই শিশু সন্তাকে দাদা-দাদি আর চাচার কাছে রেখে জীবিকার তাগিদে দুই মাস আগে গৃহকর্মী হিসেবে সৌদি আরব যান সুমনা। যাওয়ার আগে সন্তানদের দেখাশোনার জন্য স্বপন মিয়াকে কিছু টাকাও দিয়ে যান। কিন্তু তিনি সৌদিতে যাওয়ার দুই মাস পার না হতেই সন্তানদের ওপর শুরু হয় অমানুষিক নির্যাতন। টাকা দেয়ার জন্য ৬ বছর বয়সী আপন ভাতিজাকে নগ্ন করে নির্যাতন করে সেই ভিডিও সৌদিতে তার মায়ের কাছে পাঠায় চাচা ও সৎ বাবা স্বপন।

নবীগঞ্জ থানার ওসি আজিজুর রহমান জানান, বিষয়টি পুলিশ সুপার (এসপি) তদারকি করছেন। নির্যাতনকারী স্বপন মিয়াকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় শিশুটির মা সুমনা বেগম বাদি হয়ে থানায় মামলা করেছেন।

সৈয়দ এখলাছুর রহমান খোকন/এমএমজেড/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।