মায়ের কোলে চড়ে আশ্রয় কেন্দ্রে ২২ দিনের মামুন

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি সাতক্ষীরা
প্রকাশিত: ০১:৪৪ এএম, ১০ নভেম্বর ২০১৯

সাতক্ষীরার বিভিন্ন এলাকার এক লাখ ৪৬ হাজার ২শ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। শনিবার (৯ নভেম্বর) রাত ৭টা পর্যন্ত জেলার সাতটি উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদেরকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেয়া হয়।

উপকূলবর্তী এলাকার মানুষদের নিরাপদে সরিয়ে নেয়ার কার্যক্রম শনিবার সকাল থেকেই শুরু হয়। জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, কোস্ট গার্ড, নেভির সদস্যরা এ কার্যক্রম পরিচালনা করেন। একই সঙ্গে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও মানুষদের নিরাপদে সরিয়ে নেয়ার কাজ চালান।

এদিকে উপকূলবর্তী এলাকার মানুষরা প্রথম দিকে আশ্রয় কেন্দ্রে আসতে না চাইলেও তাদেরকে আশ্রয় কেন্দ্রে যেতে বাধ্য করে প্রশাসন। সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার উপকূলীয় পদ্মপুকুর ইউনিয়নের ১৩টি আশ্রয়কেন্দ্রে ১০ হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। মায়ের কোলে চড়ে ২২ দিনের শিশু আল-মামুন উঠেছে পদ্মপুকুর ইউনিয়নের পাতাখালি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আশ্রয়কেন্দ্রে। আল-মামুন ওই গ্রামের ইমন হোসেনের ছেলে।

আল মামুনের মা আম্বিয়া বেগম জানান, আমাদের জোর করেই আশ্রয় কেন্দ্রে নিয়ে আসা হয়েছে। আর কতবার আশ্রয় কেন্দ্রে আসতে হবে আমাদের। কিছু হলেই সবকিছু ফেলে ঘরবাড়ি ছেড়ে আশ্রয় কেন্দ্রে উঠতে হয়। আমাদের জীবনের কোনো মূল্য ও নিরাপত্তা নেই। কতদিন শিশুটাকে নিয়ে এখানে থাকতে হবে জানি না। যখন কোনো দুর্যোগ আসে তখনই সবাই আমাদের খোঁজে। এরপর আর কাউকে খুঁজে পাওয়া যায় না।

পদ্মপুকুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাড. আতাউর রহমান জানান, ইউনিয়নের ১৩টি আশ্রয় কেন্দ্রে ১০ হাজারেরও অধিক মানুষ আশ্রয় নিয়েছে। এছাড়া এলাকার মসজিদগুলোতেও আশ্রয় নিয়েছে মানুষ। সবার মাঝেই আতঙ্ক বিরাজ করছে।

জেলা প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের তত্ত্বাবধায়ক ডিআরআরও প্রশান্ত কুমার রায় জাগো নিউজকে বলেন, বর্তমান পর্যন্ত জেলাব্যাপী এক লাখ ৪৬ হাজার দুশ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। এ কাজ এখনও চলমান রয়েছে।

আকরামুল ইসলাম/এমএসএইচ