লক্ষ্মীপুরে অর্ধশতাধিক কাঁচা বাড়িঘর বিধ্বস্ত

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি লক্ষ্মীপুর
প্রকাশিত: ০৩:২৪ পিএম, ১০ নভেম্বর ২০১৯

ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের আঘাতে লক্ষ্মীপুরে রামগতিতে অর্ধ-শতাধিক কাঁচাঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। উপড়ে পড়েছে ছোট-বড় বহু গাছও। পাঁচজন আহত ও একটি গরু মারা গেছে। উপজেলার সাইক্লোন শেল্টারে রোববার (১০ নভেম্বর) দুপুর পর্যন্ত অবস্থান করছিলেন প্রায় ৩ হাজার মানুষ। তবে মূষলধারে বৃষ্টি ছাড়া জেলার আর কোথাও কোনো দুর্ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।

জানা গেছে, রোববার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে রামগতি উপজেলার চর আবদুল্যাহ ইউনিয়নের তেলির চর, চেয়ারম্যান বাজার ও কামাল বাজারে বুলবুল আঘাত হানে। প্রায় ১০ মিনিটের তাণ্ডবে অর্ধ-শতাধিক কাঁচাঘর বিধ্বস্ত, ৫ জন আহত ও একটি গরু মারা গেছে। এ সময় কয়েকটি গাছও উপড়ে পড়ে। তবে আগে থেকেই এসব বাড়ির লোকজনকে নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে যাওয়ায় বড় কোনো ঘটনা ঘটেনি। এখনো সবাই নিরাপদ আশ্রয়ে রয়েছে। আহতরা স্থানীয় ক্লিনিকে চিকিৎসা নিয়েছেন। মেঘনার পানি স্বাভাবিকের চেয়ে ২-৩ ফুট বেড়ে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।

Lakshmipur

এদিকে টানা বৃষ্টিতে আমন ধান ও শীতকালীন সবজির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। এনিয়ে স্থানীয় কৃষকরা দুঃশ্চিন্তায় আছেন।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ঘূর্ণিঝড়ের দুর্ঘটনা এড়াতে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে থেকে প্রায় ৬ হাজার মানুষকে সাইক্লোন শেল্টারে আনা হয়েছে। এরমধ্যে ৩ হাজার মানুষ এখনো সাইক্লোন শেল্টারে আছেন। বাকিরা বাড়িতে চলে গেছেন। চর আবদুল্যাহ ইউনিয়নের বাসিন্দাদের আগেই নিরাপদ স্থানে সরিয়ে আনা হয়। প্রত্যেককে শুকনো খাবার দেয়া হয়েছে।

Lakshmipur

জানতে চাইলে চর আবদুল্যাহ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামাল হোসেন মঞ্জুর বলেন, আমরা আগেই লোকজনকে সরিয়ে নিয়েছি। প্রায় ১০ মিনিটের তাণ্ডবে ৪০টি কাঁচা বাড়ি-ঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। দুই-তিনজন আহত হলেও বড় ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। সবাই নিরাপদ স্থানে রয়েছেন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক কিশোর কুমার মজুমদার জানান, বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় আমন ধান ও শীতকালীন সবজির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। ক্ষয়ক্ষতির নিরূপনের কাজ চলছে।

Lakshmipur

রামগতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আবদুল মোমিন বলেন, চর আবদুল্যাহ ইউনিয়নেই বুলবুল তাণ্ডব চালিয়েছে। ঘর-বাড়ি বিধ্বস্ত হলেও বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি। পৌরসভাসহ অন্যান্য ইউনিয়নের মানুষ সুরক্ষিত আছে।

কাজল কায়েস/এমএমজেড/পিআর