যাত্রীর ফেলে যাওয়া লাখ টাকা ফিরিয়ে দিলেন সিএনজিচালক

উপজেলা প্রতিনিধি উপজেলা প্রতিনিধি শ্রীপুর (গাজীপুর)
প্রকাশিত: ১০:০১ পিএম, ১১ নভেম্বর ২০১৯
সিএনজিচালক হযরত আলী যাত্রীর ফেলে যাওয়া লাখ টাকা ফিরিয়ে দিলেন সিএনজিচালক

গাজীপুরের শ্রীপুরের বরমী বাজারে সিএনজিচালিত অটোরিকশার ভেতর ফেলে যাওয়া যাত্রীকে এক লাখ ১৩ হাজার টাকা ফিরিয়ে দিলেন সিএনজিচালক। সোমবার (১১ নভেম্বর) দুপুরে উপজেলার বরমী বাজার এলাকায় সততার এমন উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বরমী মৃধা বাড়ি এলাকার সিএনজিচালক হযরত আলী (৪৫)। তিনি ওই এলাকার মহর আলীর ছেলে।

টাকার মালিক শ্রীপুর পৌর শহরের ব্যবসায়ী আতিকুর রহমান জানান, সকালে বাসা থেকে এক লাখ ১৩হাজার টাকা নিয়ে দোকানের মালামাল কিনতে শ্রীপুর থেকে বরমী বাজারের উদ্দেশ্যে হযরত আলীর সিএনজিচালিত অটোরিকশায় সামনের আসনে বসে রওনা দেন এবং টাকাগুলো সিএনজির সিটের মধ্যে রাখেন। গন্তব্যে পৌঁছে টাকার প্যাকেট না নিয়েই তিনি ভাড়া মিটিয়ে চলে যান। পরে মালামাল কিনে দাম পরিশোধের সময় তিনি টাকা হারানোর বিষয়টি টের পান। পরে দিশেহারা হয়ে সিএনজিচালককে খুঁজতে স্ট্যান্ডে আসেন। পরে সিএনজিচালক তাকে দেখতে পেয়েই এগিয়ে যান এবং টাকার প্যাকেটটি হাতে তুলে দিয়ে তা গুনে বুঝে নিতে বলেন।

সিএনজিচালক হযরত আলী বলেন, দুপুরে কয়েকজন যাত্রী নিয়ে আমি শ্রীপুর থেকে বরমী যাচ্ছিলাম। আমার সিএনজির সামনের আসনের যাত্রী ছিলেন আতিকুর রহমান। গন্তব্যে পৌঁচ্ছে সব যাত্রী নেমে গেলে সিটের পাশে কাগজের প্যাকেট দেখতে পাই। প্যাকেট দেখে আমার কাছে সন্দেহ হয়। পরে দেখি এটা টাকার প্যাকেট। আমি টাকা নিয়ে প্রকৃত মালিকের অপেক্ষায় সিএনজি স্ট্যান্ডে প্রায় ঘণ্টা খানেক অপেক্ষায় থাকি। এরই মধ্যে আতিকুর রহমান সিএনজি স্ট্যান্ডে আমাকে খুঁজতে আসেন। তাকে দেখে আমি এগিয়ে গিয়ে টাকার প্যাকেট পাওয়ার কথা জানাই।

টাকা পাওয়ার পর আবেগ আপ্লুত হয়ে আতিকুর রহমান বলেন, পৃথিবীতে সৎ মানুষ এখনও রয়েছে। তারই প্রমাণ হযরত আলী।

বরমী বাজারের ব্যবসায়ী আল-আমিন জানান, বর্তমানে সামান্য টাকার জন্য মানুষ কত কিছুই না করে। কিন্তু হযরত আলী টাকা ফেরত দিয়ে সততার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন।

বরমী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ শামসুল হক বাদল সরকার জানান, হযরত আলী একজন সৎ মানুষ। তার মধ্যে কোনো লোভ নেই। এমন ব্যক্তির জন্যই সমাজ বা পৃথিবী এখনও টিকে আছে।

শিহাব খান/আরএআর/এমকেএইচ