‘আব্বু-আম্মু আমায় ক্ষমা করে দিও’

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি কুষ্টিয়া
প্রকাশিত: ১০:৩৬ এএম, ১১ ডিসেম্বর ২০১৯

কুষ্টিয়ায় এইচএসসির টেস্ট পরীক্ষায় ফেল করায় নুপুর বিশ্বাস মায়া (১৭) নামে এক কলেজছাত্রী বিষপানে আত্মহত্যা করেছে। মঙ্গলবার (১০ ডিসেম্বর) দুপুরে সদর উপজেলার দোয়ারকাদাস আগরওয়াল মহিলা কলেজের অধ্যক্ষের কক্ষে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে ওই ছাত্রী। তবে বিষপানের আগে বাড়িতে একটি চিরকুট লিখে যায় নুপুর। চিরকুটটি উদ্ধার করেছে পুলিশ।

নিহত নুপুর বিশ্বাস মায়া সদর উপজেলা হরিনারায়ণপুর এলাকার মাছ ব্যবসায়ী বাবুল হোসেনের মেয়ে।

কলেজের অধ্যক্ষ আসাদুজ্জামান বলেন, কয়েক দিন আগে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের টেস্ট পরীক্ষার রেজাল্ট দেয়া হয়। এতে চারটি বিষয়ে ফেল করে মানবিক বিভাগের ছাত্রী নুপুর। এর আগে সে দুই বিষয়ে ফেল করেছে বলে বাড়িতে জানায়। তাই তার মা তাকে সঙ্গে নিয়ে মঙ্গলবার দুপুরে কলেজে আসেন। এ সময় শিক্ষকরা জানান, চারটি বিষয়ে নুপুর ফেল করেছে। এর পর তার মা তাকে কিছুটা বকা দেয়।

অধ্যক্ষ আরও বলেন, এ সময় নুপুরের কথাবার্তা অসংলগ্ন ছিল। মেয়েটি সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে কথা বলতে পারছিল না। কথা বলতে বলতেই মাটিতে পড়ে যায় সে। এ সময় তার কাছে থাকা একটি কাচের বোতল হাত থেকে ছিটকে পড়ে। ধারণা করা হচ্ছে, ওই বোতলে বিষাক্ত কিছু নিয়ে এসেছিল মেয়েটি। এরপর কলেজের কয়েকজন শিক্ষক তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান। তবে কলেজে আসার আগেই নুপুর বিষপান করেছে।

কলেজের শিক্ষক সেলিম জানান, স্থানীয় চিকিৎসকরা তাকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নিতে বলেন। তবে হাসপাতালে নেয়ার পথে নুপুর মারা যায়।

নুপুরের মা লাভলী খাতুন বলেন, বাড়ি থেকে স্বাভাবিকভাবে আমার মেয়ে কলেজে যায়। কলেজে যাওয়ার পর সে আর সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারছিল না। কথা বলতে বলতেই মাটিতে পড়ে যায়। সে কলেজে যাওয়ার আগেই বিষপান করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে নুপুর চিরকুটে লিখে গেছে, ‘আব্বু-আম্মু আমায় ক্ষমা করে দিও। আমি কখনও চাই না আমার জন্য তোমরা কষ্ট পাও। আমি ভালোভাবে পড়াশোনা করতে চেয়েছিলাম, অনেক স্বপ্ন ছিল আমার। আমি জানি আমাকে নিয়েও অনেক স্বপ্ন ছিল তোমাদের। আমি যে তোমাদের একমাত্র মেয়ে। আমি পৃথিবী থেকে চলে গেলাম। আমায় ক্ষমা করো। আর আমার জন্য একটুও কষ্ট পাবে না। আমি চাই আমার মরাটা যেন স্বাভাবিকভাবে মাটি দেয়া হয়। আত্মহত্যা করলে পুলিশ আসে, তারা যা সব করে আমার যেন না করা হয়। এভাবে মরে গেলে তো কোথায় যেন পাঠায় লাশ কাটার জন্য। ওটাতে আমার খুব ভয় লাগে।

আমাকে স্বাভাবিকভাবেই মাটি দিও। পুলিশরা যেন অন্য সবার মতো আমার লাশকে কষ্ট না দেয়, আমায় যেন স্পর্শ না করে। আমায় ভালোভাবে মাটি দিও। ও আম্মু, আমার যে মরে যাওয়ার পর অনেক ভয় লাগবে, আমাকে তো কবরে জায়গা দেবে না, আমার যে খুব কষ্ট হবে। ক্ষমা করে দিও। কলেজের স্যাররা চাইলে হয়তো আমার ভবিষ্যৎ নষ্ট হতো না।

নুপুরের বাবা বাবুল হোসেন বলেন, মেয়েটা আমার অভিমানী। টেস্ট পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ার কারণেই হয়তো অভিমানে বিষপান করেছে।

কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) আরিফ বলেন, মৃত্যুর আগে নুপুর একটি পত্র লিখে যায়। কারও কোনো অভিযোগ ছিল না। জেলা প্রশাসকের অনুমতি নিয়ে ময়নাতদন্ত ছাড়াই পরিবারের সম্মতিতে তার মরদেহ দাফন করা হয়েছে।

আরএআর/জেআইএম