অবশেষে মুক্তিযোদ্ধা ভাতা পেলেন বীরাঙ্গনা ববিজান
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের সেই বীরাঙ্গনা ববিজান বেওয়া পেলেন মুক্তিযোদ্ধা সম্মানী ভাতা। গতকাল রোববার টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে তাকে ভাতার চেক দেয়া হয়। সন্ধ্যায় মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবদুল মালেক ববিজানের হাতে ৮২ হাজার টাকার চেক হস্তান্তর করেন।
এ সময় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মঈনুল হক, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সাবেক সহকারী ডেপুটি কমান্ডার সিদ্দিকুর রহমান ও ভাতগ্রাম ইউপি চেয়ারম্যান মো. আজাহারুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর কাছে পাশবিক নির্যাতনের শিকার হন ববিজান বেওয়া। ববিজান বেওয়া মির্জাপুর উপজেলার বাঁশতৈল ইউনিয়নের বাঁশতৈল পশ্চিমপাড়া গ্রামের হারাদন আলীর মেয়ে।
তিন বছর আগে ২০১৬ সালের ১৬ ডিসেম্বর অনলাইন নিউজপোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কম-এ ‘মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি চান ববিজান’ ২৯ ডিসেম্বর ‘ববিজান পেলেন বয়স্ক ভাতার কার্ড ও চলতি বছরের ২৯ আগস্ট ‘এতদিনে মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পেলেন বীরাঙ্গনা ববিজান’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ হয়।
প্রকাশিত সংবাদ মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের তৎকালীন অতিরিক্ত সচিব মাকছুদুর রহমান পাটওয়ারীর নজরে আসে। তিনি টাঙ্গাইলের তৎকালীন জেলা প্রশাসক মো. মাহাবুব হোসেনকে এ বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেন। দীর্ঘ যাচাই বাছাই শেষে চলতি বছর জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের (জামুকা) ৬২তম সভায় গত ৯ জুলাই ববিজান বেওয়াসহ সারাদেশে ৪৬ জন বীরাঙ্গনার নাম প্রকাশ করে প্রজ্ঞাপন জারি করে। যা ২৯ জুলাই গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়।
প্রসঙ্গত, মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকবাহিনী ববিজান বেওয়াদের গ্রামে ঢুকে মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রাজ্জাক বিএসসিসহ আরও কয়েকজনের বাড়ি আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেয়। ওই দিনই পাক বাহিনীর সদস্যরা বাড়িতে ঢুকে অস্ত্রের মুখে ববিজানসহ আরও কয়েকজন নারীকে পাশবিক নির্যাতন চালায়। অস্ত্রের ভয় আর পাশবিক নির্যাতনে জ্ঞান হারান তিনি। ধর্ষিতা হওয়ার অপরাধে স্বামীর সংসার ছাড়তে হয় তাকে। সরকারি জমিতে ঘর তুলে বসবাস করতে থাকেন তিনি। বয়স হওয়ায় এখন কানেও শোনেন না তেমন, স্মৃতিশক্তিও কমে গেছে। স্বাধীনতার পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও বীরাঙ্গনার স্বীকৃতি পাননি ববিজান। পাননি বয়স্ক বা বিধবা ভাতা বা সরকারি কোনো সযোগ-সুবিধাও। উল্টো পেয়েছেন মানুষের লাঞ্ছনা, ঘৃণা ও অপবাদ।
ববিজানের জীবনের এসব ঘটনা তুলে ধরে জাগোনিউজে দুটি সংবাদ প্রকাশিত হয় এবং চলতি বছর ববিজান বেওয়াকে বীরাঙ্গনা খেতাব দেয়া হয়।
ববিজান বলেন, সাংবাদিকরা আমাকে নিয়ে লেখার কারণে ‘দীর্ঘদিন পর হলেও বীরাঙ্গনা খেতাব ও সম্মানী ভাতা পেলাম। এজন্য তিনি সাংবাদিক ও সরকারি কর্মকর্তাদের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবদু মালেক বলেন, গেজেট প্রকাশের দিন থেকে তার নামে ভাতা চালু হয়েছে। সেই হিসাবে বীরঙ্গনা ববিজানের হাতে ৮২ হাজার টাকার চেক হস্তান্তর করা হয়েছে।
এস এম এরশাদ/এমএএস/জেআইএম