কনকনে শীতে বৃদ্ধা মাকে রেলস্টেশনে ফেলে পালাল সন্তানরা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি চাঁপাইনবাবগঞ্জ
প্রকাশিত: ১২:২৩ পিএম, ১৪ জানুয়ারি ২০২০

চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার রহনপুর রেলওয়ে স্টেশনে ফেলে যাওয়া বৃদ্ধার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে। ১৫ দিন আগে কনকনে শীত আর বৃষ্টির মধ্যে শতবর্ষী ওই বৃদ্ধাকে রেলওয়ে স্টেশনে ফেলে যায় তার পরিবারের লোকজন। পরে পুলিশ ও স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।

উপজেলার রহনপুর রেলওয়ে স্টেশন এলাকার ব্যবসায়ী সিরাজুল ইসলাম বলেন, ১৪-১৫ দিন আগে দুজন লোক ভ্যানে ওই বৃদ্ধাকে নিয়ে এসে স্টেশনে ফেলে রেখে চলে যায়। পরে আমি তাকে সেখান থেকে তুলে স্টেশনের পরিত্যক্ত ছাউনির নিচে খড় দিয়ে বিছানা করে থাকার ব্যবস্থা করি। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনসহ কয়েকজন রোববার (১২ জানুয়ারি) রাতে বৃদ্ধাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়।

Chapainawabganj-photo02

গোমস্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও ডা. সালাউদ্দীন আহমদ জানান, রোববার রাত ১০টার দিকে ওই বৃদ্ধাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। প্রথমে তার অবস্থা খুব খারাপ ছিল। এরপর থেকে তিনি চিকিৎসাধীন। সোমবার (১৩ জানুয়ারি) দুপুরের পর থেকেই তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হতে থাকে। আজ মঙ্গলবার (১৪ জানুয়ারি) সকাল থেকে তিনি কথা বলতে পারছেন এবং খাবার খেতে চাচ্ছেন। বর্তমানে তিনি শঙ্কামুক্ত।

তিনি আরও জানান, তার পরিচয় জানতে চাইলে চুপ করে থাকছেন। প্রশাসনের লোকজন তার সামনে বলেছেন তার সন্তানদের ধরে এনে শাস্তি দেবেন। সন্তানদের শাস্তির ভয়েই সম্ভবত তিনি তার পরিচয় বা ঠিকানা দিচ্ছেন না।

Chapainawabganj-photo02

এদিকে অমানবিক এ ঘটনার খবর পেয়ে ওই বৃদ্ধার পাশে অনেকেই এগিয়ে এসেছেন। উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের পাশাপাশি রহনপুর পৌরসভা তার চিকিৎসাসহ অন্যান্য দায়িত্ব নিয়েছে।

ওই বৃদ্ধাকে দেখভালের জন্য রহনপুর পৌরসভার পক্ষ থেকে মালতি বেগম নামের এক নারীকে রাখা হয়েছে। মালতি বেগম বলেন, রাতে পুলিশ গিয়ে আমাকে ওই বৃদ্ধার দেখাশোনার কথা বলে নিয়ে আসে। পরে পৌরসভা আমাকে দায়িত্ব দেয়। ওই রাত থেকে তার পাশে আছি।

এ অমানবিক ঘটনার জন্য তার সন্তানদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন স্থানীয়রা।

মোহা.আব্দুল্লাহ/আরএআর/এমকেএইচ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।