ভৈরবে খাদ্য গুদামের কর্মকর্তা বরখাস্ত, খাদ্য কর্মকর্তা বদলি
ভৈরব খাদ্য গুদামের সিলগালা ভাঙার ঘটনায় গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কামরুল হাসানকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা মো. শরীফ মোল্লাকে বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলায় বদলি করা হয়েছে।
এ ঘটনায় গতকাল মঙ্গলবার কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসকের নির্দেশে ৫ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক হলেন জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার এইচ এম খোদাদাদ হোসেন, ভৈরব উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. জাহাংগীর আলম, বাজিতপুর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. মোশারফ হোসেন, ভৈরব খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সানজিদা খানম ও জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যালয়ের কারিগরি খাদ্য পরিদর্শক মো. জামাল উদ্দিন।
এছাড়া খাদ্য অধিদপ্তর থেকে গত রোববার তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এদিকে ভৈরব খাদ্য গুদামে নতুন বদলি হয়ে আসা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সানজিদা খানম নতুন কর্মস্থলে মঙ্গলবার যোগদান করেছেন। তিনদিন গুদামের কার্যক্রম বন্ধ থাকার পর আজ ভৈরব গুদামে ৬০ টন চাল আমদানি হয়েছে বলে জানান নব যোগদানকৃত ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা।
খাদ্য অধিদপ্তরের আঞ্চলিক বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক তপন কুমার দাস জানান, ঘটনাটি ঘটেছে গত রোববার এবং ওইদিন সকালে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কামরুল হাসানকে বরিশাল আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যালয়ে বদলি করা হয়েছিল। কিন্ত নতুন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেয়ার আগেই তিনি শনিবার রাতেই ৩ নম্বর গুদামের সিলগালা ভেঙে ফেলেন।
গত শনিবার খাদ্য অধিদপ্তরের মহা-পরিচালক মো. সারোয়ার মাহমুদ ভৈরব গুদামে এসে ২ ও ৩ নম্বর গুদামে চালের মজুত কম দেখে গুদাম দুটি সিলগালা করে দেন। তারপর রোববার কিশোরগঞ্জ জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক তানভির হোসেন ভৈরব গুদামে এসে তিন নম্বর গুদামের সিলগালা ভাঙা দেখে ঘটনাটি তৎক্ষণাৎ মহা-পরিচালককে মোবাইলে জানান। এসময় গুদামে ঠিকাদারের শ্রমিকরা বস্তার খামাল উলোট পালট করছিল।
পরে মহা-পরিচালকের নির্দেশে উপজেলা নির্বাহী অফিসার লুবনা ফারজানা সঙ্গে সঙ্গে গুদামে এসে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কামরুল হাসান, ঠিকাদারের প্রতিনিধি ফারদুল্লাহসহ ১০ জন শ্রমিককে আটক করেন। পরে এদিন (রোববার) রাতেই ১২ জনকে আসামি করে ভৈরব থানায় একটি মামলা করেন জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক তানভির হোসেন।
পুলিশ ১২ জনকে গ্রেফতার দেখিয়ে পরদিন সোমবার কিশোরগঞ্জ আদালতে চালান করেন। এ গুদামে ইতোপূর্বে আরও ঘূষ কেলেঙ্কারির ঘটনা ঘটেছে। কেলেঙ্কারির কারণে আগের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে গত বছর ২৮ সেপ্টেম্বর বদলি করা হয়। তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হলে তাকে অফিসিয়াল শাস্তি দেয়া হয়েছে বলে খাদ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে।
গুদামের শ্রমিক সরদার আবদুস সালাম জানান, আমরা ঠিকাদারের নির্দেশে কাজ করি। গুদামের সিলগালা ভাঙা হয়েছে কিনা আমরা বলতে পারি না। তবে শনিবার রাত থেকে পরদিন বিকেল পর্যন্ত শ্রমিকরা ৩ নম্বর গুদামের ভেতর কাজ করেছে। স্যারের অপরাধের কারণে আমার ১০ শ্রমিক জেলে গেল।
সদ্য বদলি হওয়া উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক শরীফ মোল্লা জানান, ঘটনার দিন আমি কর্মস্থলে ছিলাম না। এছাড়া গুদামের এতকিছু ঘটনা আমি অবগত নই। তাদের অপরাধের কারণে আমাকে বদলি করা হলো। চাকরি করলে বদলি হবে, কিন্ত অপবাদের বদলি দুঃখজনক বলে তিনি জানান।
কিশোরগঞ্জ জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক তানভির হোসেন জানান, ঘটনায় জেলা প্রশাকের নির্দেশে আমি ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি করে দিয়েছি। তদন্ত কমিটি ২ ও ৩ নম্বর গুদাম ব্যতিত অপর ৬টি গুদামের মজুত ১০০% ওজনে বস্তা গণনা যাচাইপূর্বক গুদামসমূহ উম্মুক্তকরণের জন্য ইনভেন্টরির মাধ্যমে নবাগত কর্মকর্তাকে মালামাল বুঝিয়ে দেবেন বলে তিনি জানান।
আসাদুজ্জামান ফারুক/এমএএস/পিআর