টিসিবির পণ্য নিয়ে দুই ডিলারের মিথ্যাচার

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নওগাঁ
প্রকাশিত: ০১:৩২ এএম, ০৮ এপ্রিল ২০২০

নওগাঁয় সরকারের ন্যায্যমূল্য ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ’র (টিসিবি) ডিলারদের বিরুদ্ধে পণ্য বিক্রয়ের নামে হরিলুট করার অভিযোগ উঠেছে। নওগাঁ শহরের দুইজন ডিলার শনিবার টিসিবি’র পণ্য ভ্রাম্যমাণ ট্রাকে বিক্রি নিয়ে দু’জনের মধ্যে অসঙ্গি দেখা যায়।

এক ডিলার বলছেন পণ্য বিক্রি হয়েছে আলাদা জায়গায়। অপরজন বলছেন, একই জায়গায় এক ট্রাক থেকেই পণ্য বিক্রি করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনও দ্বিধাদ্বন্দ্বে পড়েছেন।

জানা গেছে, নিম্নআয়ের মানুষের জন্য বাজার দরের তুলনায় কম দামে দেশব্যাপী পণ্য বিক্রি করে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)। নওগাঁ শহরের দুই জায়গায় ভ্রাম্যমাণ ট্রাকে করে দুইজন ডিলারের মাধ্যমে প্রতিজন ডিলার প্রতিদিন তেল ২ হাজার লিটার, চিনি ১৫০০ কেজি এবং মসুর ডাল ১৫০ কেজি বিক্রি করেন।

গত ৫ এপ্রিল (রোববার) বিকেল ৪টা থেকে শহরের পুরাতন বাসস্ট্যান্ড কবিরাজের পাম্পে মেসার্স মুনসুর ট্রের্ডাস এবং শহরের বালুডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ডে মেসার্স শাওন ট্রের্ডাসের পণ্য বিক্রি করার কথা ছিল। ওইদিন শহরের পুরাতন বাসস্ট্যান্ড কবিরাজের পাম্পে মেসার্স মুনসুর ট্রের্ডাসের পণ্য বিক্রি করা হলেও রাত ৮টা পর্যন্ত শহরের বালুডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ডে মেসার্স শাওন ট্রের্ডাসের কোণো পণ্য বিক্রি করতে দেখা যায়নি। একজন ডিলার প্রতিদিন প্রায় ২ লাখ ২৪ হাজার ২৫০ টাকার টিসিবির পণ্য বিক্রি করে থাকেন।

এদিকে, রোববার দুপুর থেকে দুইজন ডিলারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয় কোন কোন পয়েন্টে টিসিবির পণ্য বিক্রি করা হবে। শহরের পুরাতন বাসস্ট্যান্ড কবিরাজের পাম্পে বিকেল থেকেই মেসার্স মুনসুর ট্রের্ডাসের পণ্য বিক্রি শুরু হয়।
মেসার্স শাওন ট্রের্ডাসের ডিলার শ্যামল জানান, বালুডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ডে ট্রাক আসতে একটু দেরি হবে। তাকে আবারও ৬ টার দিকে ফোন দেয়া হলে তিনি জানান ট্রাক থেকে পণ্য বিক্রি শুরু হয়েছে। বিকেলে সাড়ে ৫টা থেকে রাত প্রায় ৮টা পর্যন্ত বালুডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ডে অপেক্ষা করেও কোনো পণ্য বিক্রি করতে দেখা যায়নি। এ সময়ের মধ্যে টিসিবির কোনো ট্রাক আসেনি এবং কোনো পণ্য বিক্রি হয়নি।

মেসার্স মুনসুর ট্রের্ডাসের ডিলার ইউনুছ আলী সুজন বলেন, ওইদিন একটি ট্রাক আসতে দেরি হওয়ায় দুইজন ডিলারের পণ্য কবিরাজের পাম্পে বিক্রি করা হয়েছে। বিষয়টি প্রশাসন অবগত আছেন।

মেসার্স শাওন ট্রের্ডাসের ডিলার শ্যামল বলেন, বালুডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ডে ওইদিন পণ্য বিক্রি করা হয়েছে। তবে কবিরাজের পাম্পে দুইজন ডিলারের পণ্য বিক্রি হয়েছে কিনা তা তিনি জানেন না।

জেলা বাজার কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম বলেন, রোববার দুইজন ডিলারের বরাদ্দ আসছে। এরমধ্যে শহরের পুরাতন বাসস্ট্যান্ড কবিরাজের পাম্পে বিকেলে একজন বিক্রি করেছেন। এছাড়া শহরের বালুডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ডে অপর একজন বিক্রি করার কথা থাকলেও রাত ৮টার দিকে পণ্যের গাড়ি আসায় তা বিক্রি করা হয়নি।

নওগাঁর জেলা প্রশাসক মো. হারুন অর রশীদ বলেন, দুইজন ডিলারের পণ্য এক সাথে একই জায়গায় বিক্রি করা হবে এমন তথ্য আমার এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক অবগত না। তবে কোনো অনিয়ম হলে ছাড় দেয়া যাবে না। তদন্তে প্রমাণ হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আব্বাস আলী/এমএএস/এমআরএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।