কুড়িগ্রামে ভারতীয় হাতির দলের তাণ্ডব

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি কুড়িগ্রাম
প্রকাশিত: ১১:০৮ পিএম, ০২ জুন ২০২০

কুড়িগ্রামের রৌমারী ও রাজিবপুর উপজেলা সীমান্তে ভারতীয় বন্য হাতির তাণ্ডবে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে সীমান্তবাসী। বিএসএফ কাঁটাতারের গেট খুলে দেয়ায় প্রতিদিন বাংলাদেশে ঢুকে পাকা ধানক্ষেত নষ্ট করছে বন্য হাতির দল। হাতির অব্যাহত তাণ্ডবে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন সীমান্তবাসী।

রৌমারী সীমান্তে প্রতি বছরের মতো এবারও ভারতীয় বন্য হাতির তাণ্ডবের শিকার হয়েছেন সীমান্তবাসী। এক সপ্তাহ ধরে হাতির তাণ্ডবে পাকা ধান রক্ষা করতে না পেরে ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষকরা।

রৌমারী এবং রাজিবপুর উপজেলার বেশ কয়েকটি পয়েন্ট দিয়ে বাংলাদেশে ঢুকে ভারতীয় বন্য হাতির দল। হাতি প্রবেশের অন্যতম পথ রৌমারীর আন্তর্জাতিক সীমান্ত পিলার ১০৭১/৭২-এর উত্তর পাশ। আলগারচরের কাঁটাতারের গেট খুলে দেয় বিএসএফ। এরপর থেকে প্রতিদিন ২০-৩০টি ভারতীয় বন্য হাতির দল বাংলাদেশে ঢুকছে। এসব হাতি আগে শুধু রাতে এলেও এখন দিনেও বাংলাদেশে আসে।

মঙ্গলবার (০২ জুন) দুপুরে ২৬টি বন্য হাতি রৌমারী সদর ইউনিয়নের বড়াইবাড়ি গ্রাম চষে বেড়ায়। ফলে সদর ইউনিয়নের বড়াইবাড়ি, চুলিয়ারচর ও ঝাউবাড়ি এবং যাদুরচর ইউনিয়নের পাহাড়তলী বিক্রিবিল দক্ষিণ আলগারচর, খেওয়ারচর, বকবান্ধাসহ আট গ্রামের হেক্টরের পর হেক্টর পাকা ধানক্ষেত তছনছ করে দেয় বন্য হাতির দল।

গত এক সপ্তাহ ধরে বন্য হাতির তাণ্ডবে বাংলাদেশ ও ভারতের কৃষকের পাকা ও আধা পাকা ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশের শতাধিক কৃষকের ৩০ হেক্টর পাকা ধানের ক্ষতি হয়েছে।

jagonews24

এছাড়া গম, কলা বাগান, ভুট্টাক্ষেতসহ বিভিন্ন ফসলি জমি নষ্ট করেছে হাতির দল। তাণ্ডব থেকে বাঁচতে দুই দেশের মানুষ ঢাক-ঢোল পিটিয়ে, আগুন জ্বালিয়ে, পটকা ফাটিয়ে এবং শ্যালোমেশিন চালিয়ে হাতি তাড়ানোর চেষ্টা করেন।

উপজেলার মিয়াপাড়া, বাউলপাড়া, জালচিড়াপাড়া, বালিয়ামারি, লাঠিয়ালডাঙ্গা, বাগানবাড়ি, বংশির ভিটা, আলগারচর, উত্তর আলগারচর, ঝাউবাড়ি, চুলিয়ারচর, বারবান্দা এবং ভারতের বলদাংগিরি, কালাইয়ের চর, শটিমারি, ভাটিরগাঁও ও শদুরটিলাসহ বিভিন্ন এলাকার ফসলের ক্ষতি করেছে হাতি।

বড়াইবাড়ি গ্রামের কৃষক নাসির উদ্দিনের আড়াই বিঘা, দক্ষিণ আলগারচরের হায়দার আলীর দুই একর এবং খেওয়ার চরের এমদাদুল হকের পাঁচ বিঘা ধানক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত করেছে হাতির দল। ঋণ নিয়ে আবাদ করায় বিপুল পরিমাণ ক্ষতির মুখে পড়েছেন তারা। সেই সঙ্গে হাতির দল কখন লোকালয়ে ঢুকে জানমালের ক্ষতি করবে- এই আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন তারা।

রৌমারী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহরিয়ার হোসেন বলেন, বন্য হাতির দল এ পর্যন্ত ৪০ জন কৃষকের ২৫ হেক্টরের মতো পাকা ধানক্ষেত নষ্ট করেছে। হাতির দল সরে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ধান কেটে নিতে কৃষকদের বলা হয়েছে।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আল ইমরান বলেন, সন্ধ্যায় একদল হাতি ঢুকছে এবং সকালে চলে যাচ্ছে। আবার সকালে আসছে আরেক দল। বিএসএফ কাঁটাতারের গেট খুলে দেয়ায় হাতির দল একের পর এক বাংলাদেশে ঢুকে ফসল নষ্ট করছে। এজন্য চোখে টর্চলাইটের আলো ফেলে হাতির দলকে তাড়ানোর ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এজন্য পর্যাপ্ত টর্চলাইট সরবরাহের ব্যবস্থা করছি আমরা।

নাজমুল/এএম/এমআরএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]