খাজনা আদায়ে ব্যাপক অনিয়ম

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নওগাঁ
প্রকাশিত: ০২:৫৯ পিএম, ২৯ জুন ২০২০

নওগাঁর মহাদেবপুর হাটে খাজনা আদায়ে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার এমদাদুল হক ও ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সহকারী তহশিলদার ফিরোজ আহম্মেদের বিরুদ্ধে। যেখানে সরকার নির্ধারিত খাজনা আদায়ের বাইরে অতিরিক্ত খাজনা আদায় করা হচ্ছে। আবার হাট থেকে আদায়কৃত খাজনা সরকারি কোষাগারে সঠিকভাবে জমা দেয়া হয় কি-না তা নিয়েও গুঞ্জন চলছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি ১৪২৭ বঙ্গাব্দে মহাদেবপুর হাট ইজারা হয়নি। এতে সরকারিভাবে খাস আদায় (খাজনা আদায়) করা হচ্ছে। সপ্তাহে দুইদিন শনিবার ও বুধবার হাট বসে। তবে শুধু শনিবার গরু ও ছাগল বেচাকেনা হয়ে থাকে। সরকারিভাবে যেখানে খাজনা আদায় নির্ধারণ করা আছে প্রতিটি গরু ৪০০ টাকা এবং ছাগল ১৫০ টাকা। কিন্তু গত ২০ জুন শনিবার হাটে প্রতিটি গরু ৫০০-৫২০ টাকা এবং প্রতিটি ছাগল শতকরা ১০ টাকা করে খাজনা আদায় করা হয়েছে। এছাড়া লিখনিতে গরুতে ২০ টাকা এবং ছাগলে ১০ টাকা করে নেয়া হয়। গত ২৭ জুন শনিবার হাটে প্রতিটি গরুতে ৫০০ টাকা খাজনা আদায় করা হলেও রশিদে ৪০০ টাকা এবং প্রতিটি ছাগলে ২০০ টাকা থেকে তারও বেশি টাকা খাজনা আদায় করা হলেও রশিদে ১৫০ টাকা লিখা হয়েছে। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ক্রেতা-বিক্রেতারা।

প্রতি হাটে প্রায় ১০ হাজার মণ ধান, দেড়শ থেকে দুইশ মণ আলু বেচাকেনা হয়ে থাকে। ধান বিক্রেতার কাছ থেকে ৫ টাকা মণ ও ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ৪ টাকা মণ এবং আলু ক্রেতা ও বিক্রেতার কাছ থেকে ১০ টাকা মণ হিসেবে খাজনা নেয়া হয়ে থাকে। এছাড়া অন্যান্যদের থেকেও খাজনা আদায় করা হয়। যেখানে শনিবার হাট থেকে প্রায় লাখ টাকা খাজনা আদায় হয়ে থাকে।

Naogaon-Hat

ধানের আড়তের শ্রমিক সালাউদ্দিন বলেন, প্রতি হাটে প্রায় ১০ হাজার মণ ধান বেচাকেনা হয়ে থাকে। যেখানে কৃষকের কাছ থেকে ব্যবসায়ীরা প্রতি মণে ৫ টাকা খাজনা কেটে নেয়। এছাড়াও ব্যবসায়ীরা প্রতি বস্তায় (দুই মণ) ৮ টাকা খাজনা দিয়ে থাকেন।

কাঁচা তরকারির ব্যবসায়ী হবিবর বলেন, সপ্তাহে দুদিন হাট বসে। প্রতি হাটে ২০ টাকা করে তাদের কাছ থেকে খাজনা আদায় করা হয়। তার মতো প্রায় ১০০ জনের কাছ থেকে ২০ টাকা করে আদায় করা হয়।

উপজেলার খাঁজুর গ্রামের ছাগল ক্রেতা বাবু বলেন, গত শনিবার হাটে ৩ হাজার ৮০০ টাকা দিয়ে ছাগল কিনে ২০০ টাকা খাজনা দিতে হয়েছে। কিন্তু রশিদে ১৫০ টাকা লেখা হয়।

এছাড়াও বেলকুড়ি গ্রামের রফিকুল ইসলাম দুটি ছাগলে ৪০০ টাকা এবং মান্দা থানার দুর্গাপুর গ্রামের আবুল হোসেনের দুটি ছাগলে ৩৫০ টাকা খাজনা দিতে হয়েছে।

উপজেলার বাগডোব গ্রামের ইদ্রিস আলীকে গত ২০ জুন ২ হাজার ৫০০ টাকা দিয়ে ছাগল কিনে ২৫০ টাকা এবং তুড়ুক গ্রামের রিয়াজ উদ্দিনকে ২২ হাজার ৮০০ টাকায় গরু কিনে ৫০০ টাকা খাঁজনা দিতে হতে হয়েছে।

Naogaon-Hat-2

এ বিষয়ে ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সহকারী তহশিলদার ফিরোজ আহম্মেদ কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। বিষয়টি ইউএনও স্যার ভালো জানেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

মহাদেবপুর উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার এবং খাজনা আদায়কারী মো. এমদাদুল হক বলেন, আমরা সরকারি কর্মচারী হওয়ায় কখনও এমন দায়িত্ব পালন করা হয়নি। গত ২০ জুন হাটে খাজনা আদায়ে কিছুটা অসঙ্গতি হওয়ায় পরে তা বন্ধ করা হয়। তবে ২৭ জুন এক টাকাও বেশি নেয়া হয়নি। এছাড়া খাজনা আদায়ে কোনো অনিয়ম করা হয়নি।

মহাদেবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মিজানুর রহমান বলেন, গত ২০ জুন হাটে একটু সমস্যা হয়েছিল। এরপর থানা পুলিশের মাধ্যমে আমরা পদক্ষেপ নিয়েছি। তবে গত ২৭ জুন হাটে সরকারি মূল্যের বাহিরে কোনো খাজনা আদায় হয়নি। রশিদের বাইরে কেউ যদি বাড়তি টাকা নিয়ে থাকে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আব্বাস আলী/আরএআর/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।