স্বাস্থ্যকর্মীর বাসার ‘মিনি ক্লিনিকে’ সিজারে নবজাতকের মৃত্যু

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি লক্ষ্মীপুর
প্রকাশিত: ১২:৩৪ পিএম, ৩০ জুন ২০২০

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে করোনাভাইরাসের অজুহাতে স্বাস্থ্যকর্মীর বাসায় গড়ে তোলা ‘মিনি ক্লিনিকে’ এক প্রসূতির সিজার করতে গিয়ে নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকালে ভুক্তভোগী প্রসূতি মরিয়ম বেগম সাংবাদিকদের কাছে এ অভিযোগ করেন।

এর আগে সোমবার (২৯ জুন) বিকেলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্যকর্মী মায়া বেগমের রায়পুর পৌর শহরের টিসি সড়কের বাসায় এ ঘটনা ঘটে।

এদিকে খবর পেয়ে সন্ধ্যায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাবরীন চৌধুরী পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি পুলিশ ও ভুক্তভোগীদের আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার পরামর্শ দেন। একই সঙ্গে অভিযুক্ত স্বাস্থ্যকর্মীর উপযুক্ত বিচারের আশ্বাস দিয়ে মৃত নবজাতকের স্বজনদের সান্ত্বনা দেন তিনি।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা জাকির হোসেন বলেন, নবজাতকের মৃত্যুর বিষয়টি শুনেছি। ভুক্তভোগী পরিবার লিখিত অভিযোগ করলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

অন্যদিকে ময়নাতদন্ত ছাড়াই নবজাতকের মরদেহ দাফন করা হয়েছে। মামলা হলে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি কবর থেকে তোলা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

Lakshmipur-Raipur

ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, সোমবার দুপুরে উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের শায়েস্তানগর গ্রামের প্রবাসী দেলোয়ারের স্ত্রী মরিয়ম বেগমের প্রসব ব্যথা ওঠে। এ নিয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে স্বাস্থ্যকর্মী মায়া বেগমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। এ সময় তাদেরকে সরকারি হাসপাতালে নেয়া হলে করোনার ভয় ও টাকা বেশি খরচের কথা বলেন মায়া। একপর্যায়ে রায়পুর পৌর শহরের টিসি মোড়ে মায়ার নিজ বাসার ‘মিনি ক্লিনিকে’ ওই প্রসূতিকে ভর্তি করা হয়। এ সময় তিন হাজার টাকা অগ্রিম নিয়ে ওই প্রসূতির চিকিৎসা শুরু করা হয়। সিজারের আগে পেটের বাচ্চা জীবিত ছিল। সিজারের পর মৃত বাচ্চা প্রসব করিয়ে স্বাস্থ্যকর্মী নিজেই তা স্বজনদের জানান। তাৎক্ষণিক স্বজনরা ঘটনাটি ইউএনও ও পুলিশকে জানান।

প্রসূতি মরিয়ম বেগম বলেন, আমাদের ভয় দেখিয়ে স্বাস্থ্যকর্মী তার ক্লিনিকে নিয়ে ভর্তি করিয়েছেন। সিজারের আগে আমার বাচ্চা পেটে জীবিত ছিল। তারা আমার বাচ্চাকে মেরে ফেলেছে। আমি এ ক্লিনিক বন্ধসহ দায়িত্বপ্রাপ্ত লোকদের শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।

এ ব্যাপারে বক্তব্য জানতে রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্যকর্মী মায়া বেগমের মোবাইল ফোনে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি তা রিসিভ করেননি। তবে তার স্বামী হারুন দেওয়ান জানান, বাসায় এসব ঘটনা হলে কিছু সমস্যা হবে। আবার সমাধানও হয় বলে জানান তিনি।

প্রসঙ্গত, টাকার বিনিময়ে স্বাস্থ্যকর্মী মায়া তার বাসায় প্রসূতিদের সিজারসহ বিভিন্ন রোগীদের চিকিৎসা দিয়ে আসছেন। এজন্য স্থানীয়দের কাছে বাসাটি ‘মিনি ক্লিনিক’ হিসেবে পরিচিত।

কাজল কায়েস/আরএআর/পিআর

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]