দরিদ্রদের ৭৫ হাজার টাকা মেরে দিয়ে ধরা পড়লেন মেম্বার

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি হবিগঞ্জ
প্রকাশিত: ০৭:০০ পিএম, ০৭ জুলাই ২০২০

হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার নূরপুর ইউনিয়নের মেম্বার আব্দুল হাসিম জারুর কাছ থেকে কর্মসৃজন প্রকল্পের আত্মসাৎ করা প্রায় ৭৫ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। পরে এসব টাকা ২১ জন শ্রমিককে বুঝিয়ে দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমী আক্তার। সোমবার এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ইউএনও সুমী আক্তার।

তিনি বলেন, বিষয়টি জানার পর তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়ে শ্রমিকদের টাকা উদ্ধার করেছি। অভিযুক্ত মেম্বার আব্দুল হাসিম জারু মিয়ার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ ব্যাপারে কোনো ছাড় দেয়া হবে না।

জানা গেছে, সোমবার নূরপুর ইউনিয়ন পরিষদের ২০১৯-২০ অর্থবছরে দরিদ্রদের জন্য ৪০ দিনের কর্মসংস্থান কর্মসূচি (কর্মসৃজন) প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজের মজুরি নিতে শায়েস্তাগঞ্জ সোনালী ব্যাংক শাখায় যান ৯০ জন (নারী ও পুরুষ) শ্রমিক। প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা নূরপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার আব্দুল হাসিম জারু মিয়া ২১ জনের টিপসই নিয়ে ব্যাংকের ক্যাশিয়ারের কাছে দেন।

ক্যাশিয়ার প্রত্যেক শ্রমিককে ৭ হাজার ৮০০ টাকা করে দেয়া শুরু করেন। কিন্তু এ টাকা শ্রমিকের হাতে যাওয়ার আগে মেম্বার জারু মিয়া গ্রহণ করেন। তিনি প্রত্যেক শ্রমিকের কাউকে তিন হাজার, কাউকে চার হাজার আবার কাউকে দুই হাজার করে দিয়ে বাকি টাকা আত্মসাৎ করেন।

বিষয়টি শ্রমিকরা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুর রশিদ তালুকদার ইকবালকে জানান। একই সঙ্গে এ খবর চলে যায় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসানের কাছে। তিনি ইউএনওকে ঘটনাস্থলে পাঠান। প্রশাসনের হস্তক্ষেপে আত্মসাৎ করা টাকা ব্যাংকে পাঠান মেম্বার আব্দুল হাসিম জারু মিয়া। পরে ব্যাংকের একজন কর্মচারী উদ্ধার হওয়া টাকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমী আক্তারের কাছে নিয়ে যান। তাৎক্ষণিক উদ্ধার করা টাকা ইউএনও সুমী আক্তার ২১ জন শ্রমিককে বুঝিয়ে দেন। একই সঙ্গে বাকি শ্রমিকদের ব্যাংক থেকে জনপ্রতি ৭ হাজার ৮০০ টাকা করে দেয়া হয়। এ ঘটনায় নারী শ্রমিক আমেনা খাতুন বাদী হয়ে ইউএনও বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

সৈয়দ এখলাছুর রহমান খোকন/এএম/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]