৫৫ বছরেও সংস্কার হয়নি ইউপি ভবন

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নওগাঁ
প্রকাশিত: ০৬:২৪ পিএম, ১১ জুলাই ২০২০
পত্নীতলা ইউনিয়ন পরিষদ ভবন

নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলার পত্নীতলা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চলছে কার্যক্রম। যেকোনো সময় ছাদ ধসে প্রাণহানির শঙ্কা রয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করে নতুন ভবন নির্মাণের দাবি জানান ইউনিয়নবাসী।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ১৯৬৫ সালে ইউনিয়ন পরিষদের জন্য পত্নীতলা মৌজায় ১০ শতাংশ জায়গার ওপর পাঁচকক্ষ বিশিষ্ট একতলা ভবন নির্মাণ করা হয়। যেখানে একটি চেয়ারম্যানের কক্ষ, একটি সচিবের, একটি হিসাব সহকারীর, একটি উদ্যোক্তার কক্ষ এবং একটি হলরুম রয়েছে। প্রায় ৫৫ বছর আগে নির্মিত ভবনটির ছাদ থেকে পলেস্তারা খসে রড বেরিয়ে এসেছে। ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত অফিসের কার্যক্রম চলছে। ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে দীর্ঘসময়ে অপেক্ষা করতে হয় সচিব, গ্রাম পুলিশ ও উদ্যোক্তাদের। এছাড়া ইউনিয়নবাসীকে সেবা নিতে এসে অপেক্ষা করতে হয়। দীর্ঘদিন থেকে এমন অবস্থা চললেও ভবনটি সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া হয়নি।

পত্নীতলা মৌজা থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে নওগাঁ-সাপাহার আঞ্চলিক সড়কের পাশে নতুন একটি ভবনের জন্য চকদূর্গা মৌজায় জায়গা নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন ভবনের জন্য চলতি বছরের মার্চ মাসে একটি প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। সেই প্রস্তাবনা অনুমোদন হবে কি-না তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদের ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করে আধুনিক একটি ভবন নির্মাণের দাবি জানান ইউনিয়নবাসী।

Naogaon-UP-1

ইউনিয়ন উদ্যোক্তা মাসুদ রানা বলেন, ইউনিয়নের পরিষদে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত থাকতে হয়। এ সময়ে অনেকেই সেবা নিতে আসেন। যারা সেবা নিতে আসেন তাদের ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের কারণে আতঙ্কের মধ্যে থাকতে হয়। গত কয়েকদিন আগে পলেস্তারা খসে পড়ায় একটুর জন্য রক্ষা পেয়েছি। ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করে দ্রুত আধুনিক একটি ভবন নির্মাণের দাবি জানাই।

ইউপি সচিব শরিফ-উল-আলম বলেন, প্রায় তিন বছর ধরে এখানে চাকরি করছি। খুবই ঝুঁকির মধ্যে এ ভবনে অফিসের কার্যক্রম পরিচালনা করতে হয়। মাঝেমধ্যে পলেস্তারা খসে পড়ে। তবে এখনও দুর্ঘটনা ঘটেনি। অফিসে যে সময়টুকু থাকতে হয় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে হয়। এই ভবন ছাড়া যদি পাশেই টিনের ঘর তৈরি করে অফিসের কার্যক্রম পরিচালনা করা হতো তাহলে বেশি নিরাপদ মনে করতাম।

Naogaon-UP-1

ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মোস্তাফা শাহ চৌধুরী বলেন, আমি তিন বারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান। আমার মনে হয় পরিষদ হওয়ার পর থেকে কোনো সংস্কার করা হয়নি। তবে নিজ থেকে কয়েকবার রঙ করিয়েছি। ভবনটি অনেক পুরোনো। গত মার্চ মাসে উপজেলার একটি মিটিংয়ে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। এরপর একটি প্রস্তাবনা পাঠানো হয়। নওগাঁ-সাপাহার আঞ্চলিক সড়কের পাশে চকদূর্গা মৌজায় নতুন একটি ভবনের স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে।

পত্নীতলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লিটন সরকার বলেন, ইতোমধ্যে নতুন একটি ভবনের জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। করোনাভাইরাসের কারণে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে কাজ।

আব্বাস আলী/এএম/পিআর

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - jagofe[email protected]