৪০ টাকার হাসিল ৩০০ টাকা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি সিরাজগঞ্জ
প্রকাশিত: ০৬:০৯ পিএম, ১৪ জুলাই ২০২০

সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলায় কোরবানির পশুর হাটে অতিরিক্ত হাসিল আদায় করছেন ইজারাদার। একটি ছাগল কেনাবেচা হলে আগে ৪০ টাকা হাসিল নিলেও এখন ৩০০ টাকা নেয়া হয়। একই সঙ্গে গরু-মহিষ কেনাবেচায় ২৪০ টাকার স্থলে ৪৫০ টাকা হাসিল নেয়া হয়। হাসিলের রশিদে টাকার পরিমাণ না লিখেই হাসিল আদায় করা হয়।

এ নিয়ে পশুর হাটের ইজারাদার বলছেন, হাজার টাকা পর্যন্ত হাসিল নেয়ার ক্ষমতা রাখেন। এটি কেবল ইজারাদারের ব্যাপার। কত টাকা হাসিল নেবেন তা নির্ধারণ করবেন ইজারাদার।

জানা যায়, তাড়াশ উপজেলায় মোট ২৯টি হাট-বাজার ইজারা দেয়া হয়। এর মধ্যে উপজেলার তালম ইউনিয়নের গুল্টা হাট দ্বিতীয়। এ বছর ২৩ লাখ ২৫ হাজার টাকায় এই হাট ইজারা দেয়া হয়।

এই হাটের ইজারাদারের ভাষ্য অনুযায়ী বোঝা যায়, তারা জোর করে অতিরিক্ত হাসিল আদায় করছেন। নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে নিজেদের মনমতো হাসিল আদায় করছেন। এজন্য রশিদে টাকার পরিমাণের পরিবর্তে পরিশোধ লিখে দিচ্ছেন তারা।

ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী একটি গরু-মহিষ কেনাবেচায় সর্বোচ্চ ২৪০ টাকা ও একটি ছাগল কেনাবেচায় ৪০ টাকা হাসিল নেয়ার বিধান রয়েছে। অথচ ইজারাদার একটি ছাগল বিক্রি হলে ৪০ টাকার স্থলে ৩০০ টাকা ও একটি গরু-মহিষ বিক্রি হলে ২৪০ টাকার স্থলে ৪৫০ টাকা হাসিল আদায় করছেন।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে গুল্টা হাটে দেখা যায়, হাসিল আদায়ের কক্ষে বসে ক্রেতা-বিক্রেতাদের কাছ থেকে হাসিল নিচ্ছেন হাটের ইজারাদার। একই সঙ্গে আরও কয়েকজন হাটের মাঝখানে টেবিল ও চেয়ারে বসে হাসিল আদায় করছেন।

ভুক্তভোগী ক্রেতা আব্দুর রশিদ, খয়বার আলী, আলতাব হোসেন ও বিক্রেতা শাহালম প্রামাণিক, খাদেমুল ইসলাম, জহির উদ্দিন ও আবু মুসা জানান, গুল্টা সবার পরিচিত পশুর হাট। বিশেষ করে গরু-ছাগল কেনাবেচার জন্য উপজেলার উত্তরের জনপদের লাখো মানুষের ভরসাস্থল গুল্টা হাট। অথচ এই হাটে একটি ছাগল বিক্রি হলে ৪০ টাকার স্থলে ৩০০ টাকা ও একটি গরু-মহিষ বিক্রি হলে ২৪০ টাকার স্থলে ৪৫০ টাকা হাসিল আদায় করছেন ইজারাদার।

গুল্টা পশুর হাটের ইজারাদার গিয়াস উদ্দিন বলেন, এক হাজার টাকা পর্যন্ত হাসিল নেয়ার ক্ষমতা রাখি। এটি ইজারাদারের ব্যাপার। কত টাকা হাসিল নেব তা নির্ধারণ করব আমি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও হাট-বাজার ইজারা বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি ইফ্ফাত জাহান বলেন, সরকারি নীতিমালা লঙ্ঘন করে অতিরিক্ত হাসিল আদায়ের সুযোগ নেই ইজারাদারের। ঘটনার সত্যতা যাচাই করে আইন অনুযায়ী ওই ইজারাদারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ইউসুফ দেওয়ান রাজু/এএম/এমকেএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]