দুপুরে নিখোঁজ প্রবাসীর স্বজনদের সংবাদ সম্মেলন বিকেলে লাশ উদ্ধার

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি পাবনা
প্রকাশিত: ০৯:২৮ পিএম, ২১ জুলাই ২০২০

পাবনায় নিখোঁজ হওয়ার ৪ দিন পর প্রবাসী কৃষক আব্দুল খালেক খানের (৪৭) অর্ধ গলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিকেলে জেলার আটঘরিয়া উপজেলার চৌকিবাড়ী এলাকার ইছামতি নদী থেকে আটঘরিয়া থানা পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করে।

পরিবারের দাবি আব্দুল খালেককে ডেকে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। নিহত আব্দুল খালেক পাবনা সদর উপজেলার বলরামপুর গ্রামের শামসুদ্দিন খাঁন এর ছেলে। এর আগে মঙ্গলবার দুপুরে পাবনা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন নিখোঁজ প্রবাসীর স্বজনরা।

আটঘরিয়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিদ্দিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, স্থানীয়রা ইছামতি নদীতে একটি লাশ ভেসে থাকতে দেখে থানায় খবর দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ বিকেল ৩টার দিকে মরদেহটি উদ্ধার করে পাবনা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। ধারণা করা হচ্ছে কয়েক দিন আগে তাকে হত্যা করে লাশটি নদীর পানিতে ডুবিয়ে রেখে গেছে দুর্বৃত্তরা।

এদিকে আব্দুল খালেকের মরদেহ উদ্ধারের আগে দুপুরে পাবনা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন তার স্বজনরা। সংবাদ সম্মেলনে তারা বলেন, কুয়েত প্রবাসী আব্দুল খালেকের সঙ্গে সম্প্রতি তার প্রথম স্ত্রী উম্মেকুলসুম বীনার বিচ্ছেদ হয়। এ নিয়ে তাদের মধ্যে চরম কলহ চলছিল। এ অবস্থার মধ্যেই গত ১৭ জুলাই বিকেলে আব্দুল খালেকের তালাকপ্রাপ্ত প্রথম স্ত্রী উম্মেকুলসুম বীনার মোবাইল ফোন পেয়ে বাড়ি থেকে তিনি বের হন।

খালেক বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় তার বর্তমান স্ত্রীকে (দ্বিতীয় স্ত্রী) বলে যান তালাকপ্রাপ্ত প্রথম স্ত্রীর কাছে থাকা ছোট সন্তানকে আনতে যাচ্ছেন। কিন্তু ৪ দিন অতিবাহিত হলেও খালেক আর বাড়িতে ফিরে আসেনি। পরে ১৮ জুলাই পাবনা সদর থানায় একটি জিডি করেন তারা।

পরিবারের অভিযোগ নিখোঁজ খালেকের প্রথম তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রী উম্মে কুলসুম বীনা ও তার বর্তমান স্বামী মো. শাহিদুল ইসলাম আসিফ পরিকল্পিতভাবে খালেককে ডেকে নিয়ে হত্যা বা গুম করতে পারেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন নিহত আব্দুল খালেকের ছোট ভাই মো. আব্দুস ছালাম খাঁন। এসময় বড় ভাই মো. খলিলুর রহমান খাঁন, দ্বিতীয় স্ত্রী মোছা. সাদিয়া খাতুন ও চাচা মো. আলমগীর হোসেন খাঁন উপস্থিত ছিলেন।

মঙ্গলবার রাত ৮টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছিল বলে জানান ওসি সিদ্দিকুল ইসলাম।

এমএএস/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।